somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টি দুপুর !

০৩ রা মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে ৷ আস্তে আস্তে না, রীতিমত দোর্দন্ড প্রতাপে ৷ বহু, বহুদিন পর এমন একটা বৃষ্টি এলো ৷ অনেকদিন ধরেই আসবো আসবো করছিলো, কিন্তু ঠিক সুবিধা করতে পারছিলনা ৷ গত দুদিন ধরেই প্রস্তুতি চলছিল মহা সমারোহে, আজ তার আনুষ্ঠানিকতা ! বৃষ্টি - নেহাতই চিরাচরিত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক একটা ব্যপার, অথচ এই চিরাচরিত স্বাভাবিক হবার পরও এটা একটুও পুরনো নয় ৷ জগতে খুব কম জিনিস আছে যার এই গুনটা আছে !

বৃষ্টির খুব অদ্ভুত ধরনের প্রভাব মানুষের মনের উপর ৷ এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবেনা যে জীবনে কোন এক অলস দুপুরে ঝর ঝর বৃষ্টি ধারার সাথে আনমনে হারিয়ে যায়নি অন্য কোন জগতে ! আমিও এড়াতে পারিনা এই অদ্ভুত মায়াজাল ৷

আমি এখন আমার হলে, আমার রুম এ ৷ আমাদের হলটা অনেকটা ইংরেজী E আকৃতির ! দুপাশের দুই ব্লক ৪ তলা আর মাঝেরটা ৩ তলা ৷ তাই আমরা ৪তলা বাসিরা ইচ্ছা করলেই মাঝের ৩ তলার ছাদে চলে যেতে পারি ৷ আমার রুমটা পুর্ব দিকের ব্লকে ৷ দরজা খুললেই সামনে ছাদ, উপরে আকাশ, আশে পাশে গাছপালা ৷ মাঝে মাঝেই ঘুম থেকে উঠে ব্যালকনিতে গিয়ে হা করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি ৷ ঘুমের ঘোর তখনও কাটেনা ৷ অন্য কোন এক জগতে থাকি কিছুক্ষণ !

যখন বৃষ্টি হয় তখনো দাঁড়িয়ে থাকি কিছুক্ষণ, বৃষ্টি দেখি আর আবোল তাবোল ভাবি ৷ সবাই-ই কখনও না কখনও আবোল তাবোল ভাবে, কিন্তু বৃষ্টি দেখতে দেখতে আবোল তাবোল ভাবার মজাই আলাদা ! যখন খুব জোরে বৃষ্টি হয় রুমের দরজা খুলে রাখা যায়না ! বৃষ্টির ছাঁট, বাতাসের তোড়ে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায় ! তখন খুব খারাপ লাগে, বৃষ্টি দেখতে পাইনা ৷ মাঝে মাঝেই দরজা খুলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি ৷ বৃষ্টির ছাঁট এসে গায়ে লেগে কেমন একটা শিহরণ দেয় ৷

মাঝে মাঝে একটা অদ্ভুত ব্যপার হয় ৷ রুমে বসে থেকে দরজার নিচে তাকিয়ে থাকি যেখান দিয়ে বৃষ্টির পানি আস্তে আস্তে করে গড়িয়ে এগিয়ে আসে ৷ দরজার তলা আর মেঝের মাঝখানে কিছুটা ফাঁক আছে ৷ সেই ফাঁক দিয়ে খানিকটা আলোর ঝলকানি আসে ৷ কিন্ত সেই ঝলকানি বাধা পায় দরজার শেষ মাথায় জমে থাকা বৃষ্টির পানির নিরন্তর কাঁপাকাঁপিতে ৷ সেই পানির ফোঁটাগুলো এলমেলো হয়ে ছোটাছুটি করে ৷ একটা নির্দিষ্ট বিরতিতে একজন একজন করে টুপ করে পড়ে যায় নিচের জমে থাকা পানির মেলায়, একাকার হয়ে যায় তাদের সাথে, আর আস্তে আস্তে গড়িয়ে আসে আমার ই দিকে ! ওদিকে ঝুলে থাকা পানির ফোঁটাগুলোর লাফালাফিতে আলোর ঝালর গুলো যেন লুকোচুরি খেলে দরজা আর মেঝের ঐ ছোট্ট ফাঁকটুকুতে ! সেই আলো প্রতিফলিত, প্রতিসরিত হয়ে খোঁচা দেয় আমার জ্বলজ্বলে চোখে ! আস্তে আস্তে পানির ফোঁটা বাড়তে থাকে, নিচে গড়িয়ে থাকা পানির দল যেন আরো একটু বেশি যায়গা দখল করে আমার রুমের, আর এগিয়ে আসে আমার দিকে ৷ আমি অপেক্ষা করি, স্থির হয়ে ...
এই ঝিকিমিকি আলোর খেলা দেখতে দেখতে ... অপেক্ষা করি ঐ পানির ফোঁটাগুলোর যারা আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে আমার ই দিকে ... ওরা আসবে ... আমাকে ছুঁয়ে দেবে ... আমাকেও নিয়ে যাবে ওদের দলে ... অপেক্ষা করছি ...
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×