ছাত্র রাজনীতির নাম শুনলে অনেকের অধরের দু প্রান্তে বিরক্তির রেখা স্পষ্ট হয় । আমি কাউকে দোষ দিচ্ছিনা । ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গ যখন তুললাম তখন এর সবগুলো দিক সবার সামনে তুলে ধরাটাই সমীচীন মনে করলাম । বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুইটি ছাত্র সংগঠন হলো ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদল । এবং এদের নিয়ে আমাদের সবারই কমবেশি খারাপ অভিজ্ঞতা আছে । এরা অনেকটা পাড়ার দুষ্টু ছেলেদের মতো । সবাই জানে যে তারা দুষ্টু কিন্তু তাদের বাবা মার সামনে বলতে পারে না । ছাত্রলীগ আর ছাত্রদল ও তেমনি । সবাই জানে যে এরা খারাপ তবুও মুখ ফোটে বলতে পারেনা । এই বড় দুটি ছাত্রসংগঠনের নেতা নির্বাচিত হয় যেভাবেঃ ছাত্রলীগের বেলায় সম্মেলনের তারিখ স্থির করা হয় , সেখানে মূল দল বাংলাদেশ আওয়ামীলিগের সভানেত্রী এসে ভাষণ দেন । তারপর সবাইকে বাড়ি চলে যেতে বলা হয় । বলা হয় নেত্রী পরে সভাপতি ও সেক্রেটারির নাম ঘোষনা করবেন । ছাত্রদলের বেলায় তো সেটাউ লাগে না । ওখানে মূল দলের চেয়ারপারসন তার অফিসে বসে প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারির নাম ঘোষনা করেন । তো ছাত্রনেতারা আর কি করবেন ? নেতা হতে হলে তো নেত্রীর কৃপা লাগবে । অতএব তিনি কৃপাপ্রার্থী , লেজুড় । দেশের ছাত্র যুব সমাজকে কায়েমী স্বার্থবাদীরা কৌশলে অনুগত করে রেখেছে । এই যে ডাকসুসহ ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না দুই যুগ ধরে কেন ? হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মতো সামরিক স্বৈরাচার ৯ বছরে ২ বার ডাকসুর নির্বাচন দিতে পারলো অথচ আওয়ামিলীগ- বিএনপির মত গণতান্ত্রিক দল ২ যুগের মধ্যে একবারও ডাকসুর নির্বাচন দিতে পারলো না এর কারন কী ? প্রথম দিকে বলা হতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনের পরিবেশ নেই । এখনও কি সেই কথা মানায় ? বিশেষ করে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সে কথা বললে কি মানাবে ? হল সংসদগুলোর নির্বাচন ছাত্রদের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে । দেশের মানুষের জন্য, দেশের গণতন্ত্রের জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় , ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নির্বাচন হয় , শিক্ষকদের নির্বাচন হয় । অথচ ভবিষ্যত বাংলাদেশের নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য ছাত্রসংসদের নির্বাচন হয়না । তবে কি দেশের বড় বড় দুটি রাজনৈতিক দল নিজেদের পরিবারের শাসন বহাল রাখার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন দিচ্ছে না ? ছাত্রদের মধ্যে থেকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়া কৌশলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পরিবারতন্ত্র বহাল রাখার জন্য । পরিবারতন্ত্রে যে গনতন্ত্র আসে না আমরা তা ৪৩ বছরে ঠিক ই বুঝে গেছি । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আপনারা ডাকসুসহ ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন দিন । আপনাদের পরিবারতন্ত্র বহাল রাখার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে । এবং আমরা জনগণরা আছি চরম দুর্ভোগে । গুম , খুন , হত্যা , অপহরন , চাঁদাবাজির জন্য ঘুরেফিরে আপনারাই দায়ী । আর একটা কথা পরিবার তন্ত্রে আর যাই আসুক কখনও গনতন্ত্র আসে না ।।
পরিবার তন্ত্রে আর যাই আসুক কখনও গনতন্ত্র আসে না
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল
আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।
আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর
আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।