somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও সংজ্ঞা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার অবস্থা !!!

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার স্বপ্নের কোন সঠিক সীমারেখা নেই। মানুষ যেমন বলে আমি অমুক হতে চাই, তমুক হতে চাই। আমিও চাই, কিন্তু চাওয়াটার তালিকা বিশাল। আজ মনে হয় যদি আমি বড় ব্যবসায়ি হব, কাল আবার মনে হয় আমি বড় অনলাইন ব্যক্তিত্ব হব। তবে যতগুলো স্বপ্নই দেখি সবগুলোই আমার কাছে ১০০% গুরুত্বপূর্ণ। কোন স্বপ্নই ৯৯.৯৯% নয়। থাক আমার স্বপ্নের কথা। এখন আমি আমার স্বপ্নের কথা বলতে চাই না। তবে বললাম এই কারণে যে, আমি শিক্ষা নিয়ে মাঝে মাঝে চিন্তা, গবেষণা করি। তাই মাঝে মাঝে শিক্ষাবিদও হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আর সেজন্যই আমার স্বপ্ন নিয়ে কথা বললাম। আমি অনেক দিন থেকে শিক্ষার উদ্দেশ্য অর্থাৎ এই যে আমরা সারা জীবনের অর্ধেক জীবনেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা গ্রহণ করি এর সঠিক সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য কি? আমি একে শিক্ষা নামে ডাকতে চাইনা। আমার মতে আমরা যে শিক্ষা নেই সেটিকে পড়াশুনা নামে সম্বোধন করাই শ্রেয়। কোন যুক্তি ছাড়াই প্রথমে বলতে চাই আপনারা শিক্ষাকে বেছে নিন পড়াশুনাকে নয়। লেখার প্রথমেই বলতে যেতে চাই, আজকের পোস্ট সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব চিন্তা ধারা এবং ছোটখাট গবেষণার উপর লিখেছি।

প্রথমেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে (বাহিরের দেশের প্রেক্ষাপটের অভিজ্ঞতা নেই) বলতে চাই, আমরা যে শিক্ষা নিচ্ছি তাকে শিক্ষা বলা যায়না। কারণ আমার কাছে শিক্ষার অর্থ জ্ঞান অর্জন করা। আর জ্ঞান অর্জনের জন্যই পড়াশুনা করা। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে পড়াশুনা করি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস, এ প্লাস, পাস আরও কত কি-র জন্য। কত কি- এর নাম গুলোও বলে রাখা ভালো। আমরা পড়াশুনা করি প্রধানত টাকার জন্য, চাকুরীর জন্য, উচ্চ বিলাসী জীবন যাপনের জন্য। অতএব আমার এই যুক্তিতে কি বলা যায়না যে, আমাদের পড়াশুনায় জ্ঞান অর্জনের যেহেতু কোন উদ্দেশ্য বিদ্যমান নেই। সেহেতু এটিকে আমরা শিক্ষা বলতে পারিনা। এই যে আমি বললাম, শিক্ষা মানে জ্ঞান অর্জন করা। এই কথাটি আমার নয়। এটি আমি বইয়ে পড়েছি, শিক্ষামূলক নানা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বড় বড় বক্তাদের মুখেও শুনেছি। আশা করি আমার কথার মর্মটি বুঝেছেন।

আমরা সবাই, "শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড"। সেখানে কিন্তু বলা নেই পড়াশুনাই জাতির মেরুদণ্ড। দয়া করে এসব শুনে আমাকে পাগল-ছাগলের দলে পাঠিয়ে দিবেন না। আর দিলেও আমার কিছুই করার নেই। আমি এখানে যা বলছি সব যুক্তিহীর উপরেই লিখছি। আমাদের দেশে মা-বাবারা বলেন, "পড় বাবা, লেখাপড়া করে ভালো ফল পেয়ে বড় চাকুরি করবি ", "এবার এসএসসি/এইচএসসিতে তোকে গোল্ডেন এ-প্লাস পেতে হবে", "মন দিয়ে পড় তাহলে ভালো রেজাল্ট করবি" আরও অনেক কিছু আপাতত মনে আসছেনা। এখন আমার কথা হল, পড়াশুনা বা শিক্ষা (যদিও পড়াশুনা আর শিক্ষা এক নয়) একটি পবিত্র এবং অনেক জরুরী প্রয়োজনীয় জীবনী অংশ। তাহলে সেটিকে কেন ছেলেমেয়েদেরকে (আমাদেরকে) মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, কখনও আবার গলা টিপে ধরে জোর করে পড়াশুনা করাতে হবে। জানি বাবা-মা কেন এটি করেন। তাঁরা সন্তানের ভালো চান তাই করেন। তাঁরা চান বড় হয়ে তাঁদের সন্তান যেন ধনী হয়ে জীবন যাপন করে। কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য তো অর্থ উপার্জন নয়, ধনী হওয়াও নয়। তাহলে এমন কেন হচ্ছে? আমার মতে এর কারণ পরিস্থিতিই এমন করে তুলেছে। বাংলাদেশে অর্থ উপার্জনের নেশাই এর মূল কারণ। আপনি একটু চোখ বন্ধ করেই ৫-৬ সেকেন্ড চিন্তা করে দেখুন না যে, আমরা প্রতিদিনের পড়াশুনা করছি কোন একটি মূল উদ্দেশ্যে? আপনার মনই বলে দিবে , এই যে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়া আসা, বাড়িতে পড়াশুনা করা সবই করছেন পড়াশুনা শেষে একটি ভালো আর্থিকসচ্ছল অবস্থানের জন্য। সবাই এই একই উদ্দেশ্যে পড়াশুনা করেও বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের পড়াশুনা করতে হবে। হায় রে পরিস্থিতি !

এবার বলি, শিক্ষার্থীদের কাছে কেন এই পড়াশুনা তেঁতো ঔষধের মত। এটার সোজা উত্তর, আমাদের দেশের পড়াশুনা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পড়াশুনার উপকরণ পর্যন্ত সবই তেঁতো। সুতরাং তেঁতো লাগাটা তো অস্বাভাবিক নয়। তবে তেঁতো লাগাকে তো মিষ্টি মধুর করতে হবে। কিন্তু কে করবে এই সমাধান? আরে ভাই, এর সমাধানের জন্যও তো লোক আছে, যারা সরকার থেকে টাকাও পায় ! সরকার তাঁদেরকে হাজার হাজার টাকা বেতন দিয়ে শিক্ষার উন্নতির জন্য গবেষণা করতে বসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন কাজই হয়নি ! তাঁরা বেতন নিয়ে কোন এক দেশ বা জায়গার শিক্ষা ব্যবস্থা কপি পেস্টের মত বাংলাদেশে বসিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা মোটেও চিন্তা করেন না যে, সব জিনিস সব জায়গায় খাপ খায়না। আমি আগেই বলেছি এখানে যুক্তিহীন কোন শব্দ লিখবনা। তাই একটা উদাহরনও দেই, "বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্টরা আমাদের জন্য সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করলেন। কাজটার জন্য তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। কারণ সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষার্থীদেরকে সৃজনশীল করে তুলবে। কিন্তু আমার জানা মতে, এটিও কপি পেস্টের মত কোথা থেকে যেন কপি মেরে বাংলাদেশে পেস্ট করেছে। আচ্ছা, সেটাও মেনে নিলাম। কিন্ত এটার জন্য যে সৃজনশীল ট্রেনিং প্রাপ্ত শিক্ষক লাগবে, উপকরন লাগবে, সঠিক এবং বিভ্রান্তিমুক্ত সৃজনশীল প্রশ্ন লাগবে সেটা তাঁরা মনে হয় শুধু ভুলে যাননি, তাঁরা গিলেও খেয়েছেন। " এসব কথায় তাঁরা বলবেন, আমরা এসব সঠিকভাবে পালন করেছি। মানলাম, করেছেন। কিন্তু কি পরিমাণে করেছেন, সেই পরিমাণ কতটুকু বিশুদ্ধ সেটা বলুন। সৃজনশীল প্রশ্ন করেছেন ঠিকই কিন্ত বাস্তবসম্মত সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেননি। শিক্ষকদের ট্রেইনিং দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু নগণ্য পরিমাণ শিক্ষককে বিশুদ্ধ ট্রেনিং দিয়েছেন। যার বেশিরভাগ শিক্ষক গুটি কয়েক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। তাহলে বাকী শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্ন শেখার সুযোগও পায়নি। সেখানে শিক্ষার্থীরা কিভাবে বুঝবে। আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, আপনি গ্রামে গিয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে পরিস্থিতিটি বুঝতে পারবেন। আরও হাজার হাজার উদাহরন রয়েছে আপনার আমার মত সাধারণ মানুষের কাছে। এসব প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে বললে তাঁরা ৩ সেকেন্ডের মাঝে অস্বীকার করবেন। তাতে আমার করার কিছুই নাই। আমার একটি কথাই বলার আছে যে, "আপনারা অস্বীকার করলে আমাদের কিছুই করার নাই। কিন্তু সাধারণ সব মানুষ-জনতা এগুলো জানে, স্বীকার করে। এটাই বড়"।

সবশেষে আশার কথা হল, আমাদের সরকার যদি দেশের মেরুদণ্ড শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট কার্যকরী গুরুত্ব আরোপ করে তাহলে বাংলাদেশেও উন্নতির শিখরে পোঁছে বিশ্বকে বলবে, "আমরাও পারি"। শিক্ষার্থীদেরকে কিভাবে পড়াশুনায় আগ্রহী করে তোলা যায় সে ব্যাপারে জোর দিন। একটি সুন্দর গল্প বা রহস্যমূলক গল্পের বই যেমন প্রচণ্ড আগ্রহের সাথে একজন শিক্ষার্থী পড়ে। ঠিক তেমনি পাঠ্য বইগুলোও আগ্রহমূলক করতে ব্যবস্থা নিন। যাতে শিক্ষার্থী নিজের ইচ্ছায় আনন্দের সাথে বই পড়বে এবং কিছু শিখবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা অনিচ্ছা এবং চাপে পড়ে যা পড়ছে তার দ্বারা পরীক্ষায় গোল্ডেন কেন ডায়মন্ড প্লাসও পাওয়া সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানী কিংবা মানুষ হওয়া সম্ভব না। আমি একজন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী তাই আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে, এই লেখায় যা ব্যক্ত করলাম সেসব নিজের উপলব্ধি থেকেই লিখলাম। আর আমরা যদি শিক্ষাকে তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্যে নিয়ে যেতে না পারি তবে বাধ্য হয়ে বলতেই হবে "ধরে বেঁধে পিরিত হয়না"। ছোট মুখে কিছু সত্য উপলব্ধি আপনাদেরকে জানালাম। আমার ভুলত্রুটি দয়া করে মাফ করে দিবেন। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

আমার আরও একটি লেখাঃ শিক্ষিত নয়, স্বশিক্ষিত হোন
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×