somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতবছর জুন মাসের ১৮ তারিখে জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখার জন্য গিয়েছিলাম৷ কিন্তু,ভাগ্যক্রমে ডকুমেন্ট জটিলতার কারনে আর অধিবেশন দেখা হয়নি (ভাগ্যক্রমে বললাম কারণ,ওইদিন অধিবেশন কক্ষে ডুকতে পারলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেতাম না)।

পরদিন সবকিছু ঠিকঠাক করে আবার গেলাম!

রিসেপশনে গিয়ে এমপি মহোদয়ের সুপারিশটা দেখালাম,দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলল, 'এই সুপারিশে সংসদ সচিবালয়ের সিলসহ ভ্যারিফিকেশন লাগবে'।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,'স্যার,কিভাবে আর কোথায় যেতে হবে এজন্যে?'
উনি বললেন, 'কোথায় যাবেন আপনি?,আপনি গেলে ৩ ঘণ্টা সময় লাগাবে,নাস্তা করার জন্য কিছু দেন;আমি ব্যবস্থা করে নিব'!
শুনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম; যখন জ্ঞান ফিরল তখন মনে পড়ে গেল তখন রমজান মাস তো শেষ!

ওখান থেকে বের হয়ে আসলাম,অর্ধ পরিচিত এক পিএস এর সাথে দেখা হয়ে গেল। উনি আমার সুপারিশটা নিয়ে ৫ মিনিটের ভিতর ভ্যারিফিকেশন করে এনে দিলেন...
ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে আবার রিসেপশনে গেলাম,ভ্যারিফিকেশন সহ সুপারিশ পত্রটা ওই কর্মকর্তাকে দিলাম;উনি একটু অবাক হলেন!

তারপর,রিসেপশন থেকে আমার ফোনটা নিয়ে নিল,আর একটা পাস আর কার্ড গলায় ঝুলিয়ে দিল!
শুরু হলো আমার অধিবেশন যাত্রা!

আমি সাথে করে এমন কিছুই নিয়ে যায়নি যেটা আমার প্রবেশ আটকে দিতে পারে! কঠিন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে মুল ভবনে প্রবেশ করলাম। কিছু দূর যেতেই সবকিছু গুলিয়ে ফেললাম!
দেওয়ালে ঘনঘন পথ নির্দেশনা বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা আছে। পড়ে পড়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম। একটা সময় আসল,যখন নির্দেশনাও গুলিয়ে ফেললাম! নিজেকে ওই সময়ের জন্য নিরক্ষর মনে হচ্ছিল!

মনে হলো,লুই আই কানের সৃষ্টির গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছি!
ভার্সিটির এক ভাই আমাকে বলেছিল,আমাদের সংসদ ভবন এক রহস্যময় জায়গা,আজ সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছি! বিশেষ করে,যারা আমার মতো প্রথম বার যাবেন তারা ঠিকই বুঝবেন!

যায় হোক,অবশেষে দায়িত্বরত গার্ডদের সাহায্য নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে অধিবেশনের দর্শনার্থী গ্যালারিতে গেলাম!
ওমা,এখানেও চেক! অনেকটা ঘরের ভিতর মশারির মতো,তবে সাধারণ ঘর না.. ছিদ্রহীন টাইটেনিয়ামের ঘরের ভিতর মশারি!

অফিসার: পকেটে কিছু নেই তো?
আমি: জ্বী স্যার,চাবি আছে।
অফিসার: ওটা জমা দাও।
আমি: জ্বী স্যার।
অফিসার: এটা কি?
আমি: স্যার,কলম।
অফিসার: ওটাও দিয়ে দাও।
আমি: স্যার,বেল্টটাও দিব? (মনে মনে)

গ্যালারিতে ঢুকলাম,বিমোহিত হলাম! এতকাল ভিডিও তে যা দেখেছি,তার থেকেও অসম্ভব সুন্দর!
নির্ধারিত সিটে বসলাম, এক এমপি মহোদয় বাজেটের উপর বক্তৃতা করছিল...
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খুঁজিতেছিলাম.. প্রথমেই উনাকে খোঁজার কারন আমি উনাকে কোনদিন দেখি নাই।
দেখলাম,একেবারে প্রথম সিটে বসে আসেন...
অতি মনোযোগ দিয়ে বক্তৃতা শুনছেন! উনাকে খুব সাধারণ মনে হচ্ছিল!
তাকে দেখে অন্যরকম একটা অনুভুতি হলো সেটা বর্ণ দিয়ে নাইবা লিখলাম!

আমিও বক্তৃতা শুনছি,একটু গালে হাত দিয়ে বসতেই পেছন থেকে এক ক্যাপ্টেন (উনি গার্ড,তবে পোশাক দেখে প্রথমে ক্যাপ্টেন মনে হয়েছিল) আমাকে বলল,'এখানে গালে হাত দিয়ে বসা যাবেনা'।
কিছুক্ষণ পর একটু ঝুকে বসতেই আবার ক্যাপ্টেনের হুশিয়ারি, 'সোজা হয়ে বসো'!
কি বিপদ রে বাবা!
৩ ঘণ্টা পর ক্যাপ্টেনের অনুমতি নিয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে আসলাম! ক্যাফেটেরিয়াতে গিয়ে কিছু খেয়ে আবার যখন ডুকব তখন আবার চেক!
এবার আর কিছু পেল না,কিইবা পেত?
কলমটাও তো নিয়ে নিল তখন!

মাননীয় মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বক্তৃতা করছিলেন,এমপি মহোদয়রা মাঝে মাঝে তাদের স্পেশাল তালি বাজাচ্ছিলেন!
তার বক্তৃতা শুনে আমিও তালি দিলাম (সামনে ডেস্ক ছিলনা,তাই স্পেশাল তালি দিতে পারিনি,এমনিতেই কিছুদিন আগে একজন থেকে ওটা শিখছি)
আবার বোধহয় ক্যাপ্টেনের রোষানলে পড়তে হবে!
কিন্তু,উনি কিছু বললেন না,একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল,'এখানে তালি দেওয়া নিষেধ'!

মারাত্মক পরিস্থিতিতে পড়ে গেলাম,না পারছি কথা বলতে, পারছি না তালি দিতে আর নাতো নড়তে!
ওরা আমার স্বাধীনতা কেড়ে নিছে!
ইতোমধ্যেই,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্ষ ত্যাগ করলেন!
আমিও নিজেকে মুক্ত করে বের হয়ে আসলাম।
কিন্তু Exit এর পথ খুূঁজে পাচ্ছিলাম না। একজনকে বলতেই উনি লিফট দেখিয়ে দিলেন!
লিফটে চড়ে দাঁড়ালাম....

লিফট চলছে,নিজেকে ভর শুন্য লাগছে!
থার্ড ফ্লোরে লিফট থামল!
একি! স্বয়ং ওবায়দুল কাদের স্যার লিফটে ঢুকলেন!
আসি সালাম দিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম!
আমার মাত্র দু-হাত দূরে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন!
নিজের হারানো ভর আবার উনাকে দেখে ফিরে পেলাম!

গ্রাউন্ড ফ্লোর আসতেই উনি একদিকে গেলেন,আর আমি বিপরীত দিকে!
তারপর,আমি ফর্মালিটিস শেষ করে বাসায় চলে আসলাম।

আর এভাবে আমার রোমাঞ্চকর অভিযানের যবনিকা নামল!
- Shakil Hosen - 19 June, 2018

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=দূরের পাহাড় ডাকছে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:০৯


তোমায় ছেড়ে যাচ্ছি বন্ধু
ডাকছে আমায় দূরের পাহাড়
দেখে আসি ঘুরে ফিরে
এই দুনিয়ার মোহ বাহার।

যাবে নাকি সঙ্গে আমার?
নাকি থাকবে ঘরে বসে?
কেমন করে রুখবে আমায়
যাচ্ছো বুঝি অংক কষে?

মানবো না আর নিষেধ বারণ
পাহাড় দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×