somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাগরীর রাজশাহী যাত্রা : পর্ব - ১ : অদেখা ভুবন

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাগরীর দুই সদস্য গত ১০ এপ্রিলে ইযুথ এন্ডিং হাঙ্গার নামের এক সংস্থা 'ন্যশনাল ইযুথ পালামেন্ট' নামক একটি প্রগ্রাম পরিদর্শন করতে রাজশাহীতে যায়। এ লিখাটি তাদের ব্যক্তিগত কিছু অভিঙ্গতার, অনুধাবন এর উপর ভিত্তি করে লিখা।
---------------------------------------------------------------------------

বেশ কয়েক দিন থেকেই ঢাকার যানজট এবং বিদুৎ সমস্যা নিয়ে ক্রমেই ঢাকার উপর বিরক্ত ভাবটা বাড়ছিল। মনে মনে প্রতিদিন অপেক্ষা করছিলাম কিভাবে এর থেকে পালানো যায়। হঠাৎ করেই একটি সুযোগ মিলে গেল। জাগরীরএক বন্ধুর কাছ থেকে ই-মেইল পেলাম রাজশাহীতে ইযুথ এন্ডিং হাঙ্গার নামের এক সংস্থা 'ন্যশনাল ইযুথ পালামেন্ট' করছে ১০ এপ্রিল সকাল ১০ টায়। কেও যেতে চাইলে যোগাযোগ করতে বলা হল। সুযোগটা হাতছাড়া করাটা মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ হতোনা। তাই জাগরীর আর এক বন্ধুকে (পারেল) সঙ্গে নিয়ে বলেই ফেললাম আমরা যাচ্ছি। পরিকল্পনা মতন সবকিছু ঠিক ভাবে এগুচ্ছিল। এক ফাকে রাজশাহী বাড়ি এক বন্ধুকে ফোন করে জেনে নিলাম রাজশাহীর বাস ঢাকার কোন কোন জায়গা থেকে ছাড়ে। অতঃপর ৯ তারিখ সকাল ১২ টায় রওনা দিলাম রাজশাহীর উদ্দেশ্যে। রাজশাহী যেতে যেতে আমাদের এই সুন্দর দেশটাকে আবারও উপভোগ করছিলাম আমরা দুইজনই।

বিকাল ৫ টার দিকে যখন রাজশাহী নামলাম তখন বিকেলের সূর্যের তেজ অনেকটাই কমে এসেছে। বাস টার্মিনাল থেকে নেমে রিক্সা দিয়ে নিদিষ্ট স্থানে যেতে যেতে কেবলই মনে হচ্ছিল রাস্তা এত ফাঁকা কেন। আমরা যারা ঢাকায় থাকি তারা সবসময় অনেক অনেক মানুষ দেখতেই অভ্যস্ত, তাই হঠাত করেই একটু খালি রাস্তা দেখে খানিকটা খটকা লাগল। এই রহস্যের সমাধান করতে খুব একটা গবেষনা করতে হলনা। আমাদের দেশের ঢাকা কেন্দ্রিক সকল সুযোগ সুবিধা যে এর কারন তা অনুধাবন করা গেল অতি সহজেই। রাজশাহীর মতন ঐতিয্যবাহী প্রাচীন একটি শহরে যাকে সিল্ক সিটি বলা হত এবং যেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট এবং মেডিকেল কলেজ এর মতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে কেন এখনো কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি তা দেখেই আমরা খানিকটা অবাক হলাম। এসকল চিন্তা করতে করতে আমরা আমাদের নিদিষ্ট স্থানে এসে পৌছালাম। অতঃপর, নাম নিবন্ধন শেষ করেই ছুটলাম পদ্মা নদীর পারে, উদ্দেশ্য নদীমাত্রিক দেশ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদীকে কাছ থেকে দেখা। রিক্সা চালককে বলতেই সে আমাদের নিয়ে গেল। কিন্তু নদীর পারে নেমেই মনটা বিষাদে ভরে গেল। যে নদীকে নিয়ে গল্প, নাটক, উপন্যাস, কবিতা রচনা করেছেন সাহিত্যিকরা, যে নদীর মাছ না পেলে হয়না বাংলা বর্ষবরন, সে নদী আদৌও জীবিত কিনা তা নিয়ে সন্দেহ জাগে। পদ্মা নদীর মাঝি কুবের যে নদীতে নৌকা চালিয়ে মাছ ধরত সে নদীতে আমি আর পারেল মিলে হেটে হেটেই পাড়ি দিলাম। ইচ্ছা, কপিলার সঙ্গে কোনদিন দেখা হলে বলব "তোমার কুবেরের থেকেও আমরা কম যাইনা, পাড়ি দিয়েছি পদ্মা হেটে হেটে!!"।

নদীর চারপাশে তাকিয়ে যতটুকু পানি আছে বলে মনে হল তা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের সারা দিনের কাজ হবে বলে মনে হলনা। পদ্মার এই অবস্থা দেখে আমি কবি হতে পারিনি কিন্তু কোন বিখ্যাত কবি থাকলে আমি নিশ্চিত সে মহাকাব্য রচনা করে ফেলতেন। বর্তমান সরকারতো ইলেকসানে জিতার আগে অনেক কিছুই বলেছিল, পদ্মা নদী রক্ষার প্রসঙে কিছু বলেছিল কিনা এসব ভাবতে ভাবতে যখন ফিরছি তখন দিনের সূর্যও বিদায় নিচ্ছিল আর একটি নতুন দিনের আশায়, নতুন কিছুর সম্ভাবনা নিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×