বাসস্থানের নিশ্চয়তা ও দীর্ঘকালীন আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইয়েমেন সরকার পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত দুই বিয়ে করার জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, বলে যে খবর ভাইরাল হয়েছে সে খবরের উৎপত্তি আসলে ইরাকে।
নয়-দশ বছর আগে বিবিসিতে একটা রিপোর্ট দেখেছিলাম যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে অনেক নারী বিধবা হয়েছেন এবং যুদ্ধের কারণে অবিবাহিত যুবকের সংখ্যাও হ্রাস পাওয়ায় ইরাকি রাজনীতিবিদরা বহু বিবাহে উৎসাহ দানের জন্য পুরুষদের আর্থিক সাহায্য প্রদানের একটি পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন যাতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক বিধবা নারীর একটি সম্মানজনক জীবনযাপন করা সম্ভব হবে। এই প্রস্তাবটি প্রস্তাব আকারেই থেকে যায় কিন্তু রেখে যায় অনেক ডালপালার সম্ভাবনা।
এই খবরটিকে ভিত্তি করেই গুজব ছড়াতে থাকে।
খবর আসতে থাকে, সুদান সরকারের কাছ থেকেও এমন একটি ঘোষণা এসেছে। কিছু আরব খবরের কাগজে সৌদি সরকারের বরাত দিয়ে এ ধরনের একটি প্রচার-প্রচারণা পায়। তবে এটি ব্যাপকভাবে বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান করে নেয় আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার কল্যাণে।
ইরিত্রিয়ার খবরের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় কেনিয়ার Crazy Monday নামের একটা নিউজসাইটে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রথম প্রকাশিত হয়। কেনিয়া থেকে প্রকাশিত Standard Media নামের চটকদার বিনোদনমূলক নিউজ সাইটের একটি অংশ এই Crazy Monday. এরই পাশাপাশি সময়ে একই খবর প্রকাশিত হয় নাইজেরিয়ার সরকারের বরাতে। কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ও ইরিত্রিয়ায় প্রকাশিত খবরটি ছিল প্রায় একই - 'সাম্প্রতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের দেশ পুরুষ শূন্যতায় ও নারী প্রাচুর্যতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সকল পুরুষকে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত দু'জন নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে'।
এই গুজরের ব্যাপকতায় ইরিত্রিয়ার সরকার বেশ বেসামাল হয়ে পড়ে পরপর কয়েকটি বিবৃতি প্রদান করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিছু অনলাইন ক্যাম্পেইনও শুরু করে।
বিশ্বের হাল-হকিকত নিয়ে যারা চোখ কান একটু বেশিই খোলা রাখেন তাদের হয়ত স্মরণে থাকবে যে ২০১৯ সালে Zambian Observer এ ইরিত্রিয়ার আদলে একই রকম একটি খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয় যে সোয়াজিল্যান্ডের রাজা ঘোষণা করেছেন ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে প্রতিটি পুরুষের অন্তত দু'জন করে স্ত্রী থাকতে হবে অন্যথায় তাদের জেলে যেতে হবে।
সোয়াজিল্যান্ড সরকার ও তার মুখপাত্র এই খবরের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেন এবং হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করতে আহ্বান জানান। Zambian Observer এ প্রকাশিত নিউজ এর সূত্র ধরে তখন বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালও এই গুজবটি ভাইরাল হতে সাহায্য করেছিল।
উপরোক্ত সবকিছু বাদ দিলেও, ইয়েমেন আন্তর্জাতিকভাবে এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বস্ত জনপদ হিসেবে স্বীকৃত। অনাহার, অর্ধাহার, ও অর্থাহারে পর্যুদস্ত ইয়েমেনের জনগণের নিজের দেশেই যে করুণ পরিস্থিতি তাতে বাংলাদেশের ভাসানচরের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অভিজাত শ্রেণীর বাসিন্দা হিসেবেই মনে হবে। এমন দেশটির প্রেযিড্যান্ট এ ধরণের প্রণোদনা প্রদানের সাহস বা সামর্থ্য রাখেন কি?
ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনও দেশ এবং দেশের মানুষ সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে নিজেকে দু'একটা প্রশ্ন করুন প্লিজ।



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


