somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন রকম বেচে থাকা- 3

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(প্রচন্ড হতাশা আর ব্যর্থতার কারণে নিজের অস্তিত্বের প্রতি এক প্রবল ঘৃণাবোধ জন্ম হয়। তার উপরে চারপাশে মিথ্যাচার, পাপাচার, ভন্ডামি , অবিচার আর দুঃস্বপ্নের বেসাতি দেখে নাস্তিক হবার প্রবল অনুপ্রেরণা পাই।

কিন্তু ভাগ্য আর অভিশাপের অনিবার্য উপস্থিতি , প্রাণান্তকর কিন্তু নিস্ফল পরিশ্রম, বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো দৈব ব্যাপার গুলো আমাকে অদৃশ্য শক্তির বিশ্বাস ও দাসত্ব করতে বাধ্য করে।)


রাত এখন সাড়ে এগারোটা। পঞ্চম শ্রেণীতে উত্তর্ীণ হবার পর আমার বন্ধু বান্ধব , খেলার মাঠ আমাকে ছেড়ে চলে যায়। এতটুকুন বয়সে ঘরের জানালার গ্রিল ধরে শূণ্যতা উপভোগ করার সাধনা করেছি। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে মাসের পর মাস ছুটি। চির ঘরবন্দী আমি শারীরিক প্রতিবন্ধীর মতো বিছানায় শুয়ে থেকে নষ্ট করেছি আনন্দ আর উৎসব করার সুবর্ণ সময়। কোথাও যাওয়া হয়নি আমার। আজও বই মেলা বাণিজ্য মেলার কথা শুনলে মানুষের ভিড়ের কথা ভেবে কুকড়ে যাই, আনন্দস্নাত মানুষের মুখ গুলোর দিকে তাকাতে পারিনা। শব্দ, মানুষের উপস্থিতি কোলাহল সহ্য করতে পারিনা, শ্বাস রুদ্ধ হয়ে পড়ি শূণ্যতা আর নৈঃশব্দের অন্বেষায়। আমার ঘরের চার সফেদ দেয়ালের মাঝেই আমি সুখী আর বেচে থাকার অনুপ্রেরণা পাই।

রাত এখন বারোটা বেজে চলি্লশ। আমি নিমগ্ন থাকি আমার পড়ার টেবিলে। হঠাৎ এক বৃদ্ধের হাউমাউ কান্না শুনতে পাই।

"বাবারা আমি ব্ল্লাড ক্যান্সারের রোগী। আমাকে বাচান।"

আমি এগিয়ে গেলাম, হাতে ঢামেকের কাগজপত্র, ব্লাড গ্রুপ ও নেগেটিভ। সুস্পষ্ট করে ব্ল্লাড ক্যান্সারের কথা লিখা।

বৃদ্ধ অশু্র ফেলে আমার সামনে কাপতে থাকে। তাকে ঝোল মাংস দিতে চাইলাম। জানালো পানিতে ভেজা রুটি ছাড়া কিছুই খেতে পারেনা সে।

বিবাহিত ছেলেমেয়েরা নিঃস্ব করে অসুস্থ বাবাকে রাস্তার ভবঘুরে বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

নিশ্চিত মৃতু্যর পথ ধরে বৃদ্ধ চলে গেল অজানা গন্তব্যে । কান্না ভাঙ্গা কন্ঠস্বর মিলিয়ে গেলো রাতের অন্ধকারে।

আমি ঘরে এসে খুজি বেচে থাকার অর্থ, স্বার্থপর বিবাহিত জীবনের কুৎসিত বৈধতা। কোন তথাকথিত দয়া বা করুণা , সুখ বা ভালোবাসা নয়, মানুষের কষ্টার্জিত অনুভূতিগুলোর সাথে একাত্ম হবার প্রবল ইচ্ছা জাগে মনে।

ঘড়িতে এখন একটা। আমি আমার সব ফুফুদের দেখিনি, সবার নামও জানিনা। চাচাদেরও দেখিনি বহুদিন। চাচীদের কোন স্মৃতিই নাই মনে। ছোট চাচীর মৃতু্যর পর চাচা আবার বিয়ে করেছেন শুনেছি। নারায়ণগঞ্জে ছোট ফুফু থাকেন। শেষ কথা হয়েছিল বছর চারেক আগে। কখনও বলেননি তার বাসায় যেতে। কাজিনরাও আমাকে চেনেনা, নামও হয়তো বলা হয়নি তাদের। 3য় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় শেষ দেখা পিতামহের চেহারাটা মনে পড়েনা।

2002 সালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন পিজিতে। ডাকা হয়নি আমাকে।

ভাবলাম কী দরকার এত বছর পর অসুস্থ মানুষের আবেগের অশ্রু নামিয়ে। তার অতৃপ্তি নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবার খবরও আমাকে দেয়া হয়নি।

দল বেধে ছেলেমেয়েরা চলে যায় পিকনিক, মেলায়, নানা বাড়ি, দাদা বাড়ি। আমি আমার ছোট জানালা দিয়ে দেখি অদ্ভুত পৃথিবী, যেখানে বাপ হারা, মা হারা আট বছরের ছেলে পানি বিক্রি করে নিজের ছোট ভাইয়ের দুধের টাকা জোগাড়ের জন্য, কর্মব্যস্ত মায়ের কোল ছেড়ে বেরিয়ে পড়া দুরন্ত শিশু ট্রেনে কাটা লাশ, বড়লোকের গাছ পড়া বরই কুড়িয়ে ক্ষুধর্াত ফকিরের বেধড়ক পিটুনি খাওয়ার দৃশ্য . . . . . . . আরো অনেক অনেক. . . . . .

আমি এখন চুপচাপ মন খারাপ করে বসে থাকতে থাকতে ভালোবাসি। অব্যক্ত অভিমান আর বিশাল জীবন কষ্টের বোঝা নিয়ে ফরেস্ট গাম্প মন খারাপ করে চুপচাপ নিথর বসে থাকে পার্কের বেঞ্চে হাত দুটো পায়ের উপরে রেখে .. ..

সে এক অসাধারণ অসহায় অভিব্যক্তি।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

হারানো আকাশে আমার ক্যানভাসে
.........................................................................



সেই জগতে আমার ছিলো আঁকিবুকি চকখড়িতে,
মন ভেসে যেত মেঘের ভেলায় সোনালী সেই দিনগুলিতে।
একটা সকাল, একটা বিকেল গোল্লাছুটের ধুলোবালি,
চিবুড়ি আর লুকোচুরি খেলা, স্মৃতির পাতা নয়কো খালি।

সুনীল... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×