অফিস সকাল আটটায়। সবাই সকাল ৭:৫৫ এর মাঝে এসে হাজির। ভোর ৫ টায় উঠে নাস্তা, হাতের কাজ সেরে ১ ঘন্টা ড্রাইভ করে অফিসে এসে হাজির। কী অদ্ভুত নিয়মতান্ত্রিক পশ্চিমারা। সেহরির সময়ে ফজরের নামাযে মসজিদে যাবার পথে দেখবেন শত শত গাড়ি, মানুষ তার কর্মস্থলে যাচ্ছে। তারা তো মুসলিম না। তাদের এত সকালে না উঠলেও চলতো। এত বাড়াবাড়ি কেন করে তারা? আমি ভাবি!
মিশরীয় এক রুমমেট এক বাঙালি মুসলিমকে ফজরের নামাযের জন্য ডেকেছিল বলে সে কি তুলকালাম কান্ড! ভোর ৫ টার ঘুম কেউ যদি ভাঙ্গে খুনাখুনি হয়ে যেতে পারে, অথবা এধরনের চাকুরি করার দরকার নেই বলে সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
আমাদের সকালে উঠতে এত আলসেমি কেন? জাতীয় সমস্যাটা কোথায়? কেন?
বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কাজ করে, রাত আটটায় রাতে খাবার খেয়ে ১০ টার মাঝে ঘুমানোর মত হয়তো মূর্খ না আমরা। আমাদের ছোটবেলা থেকে অভ্যেস ১০ টায় রাতের খাবার খেয়ে ১২ টা - ১ টার দিকে ঘুমাতে যাওয়া।
ফলে চাকুরি জীবনে এসেও সে অভ্যেস চালু থাকে। অভ্যেসবশত আমাদের আর রাতে ঘুম আসেনা। টিভির রিমোট ঘুরানোর মত অনর্থক বিনোদন বা মোবাইল বা ফেইসবুকের নেশার মাঝে কাটাতে ভাল লাগে। নির্ঘুম মুহূর্তগুলো তো বেকার কাটানো যায়না। এভাবে ঘুম আসতে আসতে রাত ১-২ টা । নিজে থেকে ঘুম না এলে ঘুমানোর চেষ্টাও করা হয়না।
আমাদের রাত জাগাটা একটা জাতীয় আলসেমি যার প্রতিকার আমরা কখনই চাইবোনা। রাতকে সজাগ থেকে উপভোগ করা মানুষগুলো ভোরবেলাকে ঘৃণা করবে এটাই তো স্বাভাবিক। তারা কখনই এই বৃত্ত হতে বের হতে চায়না।
অথবা সারা সপ্তাহ পড়ালেখা না করে (আড্ডা দিয়ে, তাস পিটিয়ে) এসাইনমেন্ট জমা দেবার বা পরীক্ষার আগের রাতে সারা রাত জেগে পড়াশোনা করার একটা ভাল কারণ দাড় করানো যায়। পরের দিন ক্লাস মিস, পরীক্ষা মিস, অফিস মিসের পক্ষে এসব কারণ গুলো চলেও আসে।
১০ টার অফিসে নিয়ম করে সাড়ে ১০ টায় যাওয়া যে একটা দুর্নীতি, অপরাধ, অন্যায়, অবৈধ উপার্জনের কারণ ---এই বোধটা অনেক বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যায় একটা জাতির জন্য---যারা মিলে মিশে দেশটাকে শোষণ করার সমস্ত পন্থাকে জাতীয়ভাবে বৈধ করে নিয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




