হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধরা একটা নিয়ম মেনেই তাদের ধর্ম পালন করেন । ধর্ম সেখানে অনেকেরই বিশ্বাস-ভক্তি-অনুসরণের বিষয় নয়, স্রেফ সামাজিক সংস্কৃতি। অসংখ্য-অগণিত হিন্দু দুর্গা পুজোতেও যান যদিও তাদের ঈশ্বরে এক রত্তি বিশ্বাস নেই। গো-মাংস ভোজীও হিন্দু আছেন অনেক। অর্থাৎ জন্মগতভাবে একটা ধর্মের উত্তরাধিকারী হয়েও তারা মূলত ধর্মহীন, অবিশ্বাসী। যিশুকে মানলে বা টেন কামান্ডমেন্টে বিশ্বাস থাকলে পশ্চিমে সমকামিতা ও ব্যভিচারের স্বর্গরাজ্য হওয়া অসম্ভব। তারা নামে বা পরিচয়ের খাতিরে খ্রিস্টান। জীবনে চার্চে না গিয়েও খ্রিস্টান ।এমনকি আমেরিক্যান খ্রিস্টানদের বড়দিনে চার্চে না যাওয়াটাই রীতি।
ধর্ম জিনিসটা এমনি এবং এভাবেই ধর্মকে মানতে হবে--- এরকম একটা আবহাওয়াও বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত । উত্তরাধিকার সূত্রে হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধরা মনে করেন ধর্ম মানুষের সৃষ্টি, মানুষের মঙ্গলের জন্য। এখানে ভগবানের বেঁচে থাকাটা নিতান্তই মানুষের বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল।
কাজেই সবুজ কুমার দাস নিজের ঘরে ঠাকুরের ছবি রেখেও প্রাণভরে মা দুর্গাকে গালাগাল করতে পারেন । ডেভিড রোজারিও গলায় ফ্যাশেনেবল ক্রশের মালা চড়িয়ে--যীশুকে নিয়ে অশ্লীল কাব্য লিখতে পারেন ।
তাহলে মুসলিমরা কেন পারেনা? কেন পারবেনা? হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধরা একটা চাপও সৃষ্টি করে যে মুসলিমদেরও তাদের মত করেই ধর্মকে মানতে-পালতে হবে । আমরা আমাদের ভগবানকে গালাতে পারলে তোদের আল্লাহকে কেন গালাতে পারবোনা? ক্ষেপে ওঠেন হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সমাজ।
আমি শার্লি শ্লোগানের সাথে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইহুদিরা (নেতানিয়াহু যেভাবে দৌড়ে গিয়ে প্যারিসে হাজির হয়েছেন) এক জোট । তারা চায় তাদের ধর্মকে তারা যেমন খেলো করে, মুসলিমদের বিশ্বাসকেও একই রাস্তায় নামিয়ে খেলো করার মৌলিক মানবাধিকার দিতে হবে।অথচ ইহুদি বিদ্বেষ মানে হিটলারকে সমর্থন দেয়ার মতই দন্ডনীয় অপরাধ গোটা বিশ্বে।
প্রয়াত হুমায়ুন আজাদের উক্তি হলো--
"ধর্ম কী এমন জিনিস যে তাকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হতে হবে?"
অথবা তসলিমা নাসরিনের নিরাপরাধ উক্তি--
"আমি ইসলামের বিরোধীতা করিনি, সমালোচনা করেছি মাত্র, কোন কিছুই সমালোচনার উর্ধ্বে থাকবেনা।"
কাজেই এই বাক স্বাধীনতা বিষয়ে হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধরা ফ্রান্সের সাথেই থাকবেন সেটার কারণ ধর্ম বিদ্বেষ না বলে বলা হবে বাক স্বাধীনতা। আমি কেন আমার পাশের বাড়ির মুসলিম ছেলেটির মাতা-পিতার চরিত্র হনন করবো, সেই প্রশ্ন তোলা এখানে অন্যায়। কারণ পিতা মাতাই আসল ভগবান, আকাশের ভগবান কল্পনা মাত্র, তাকে নিয়ে যা খুশি করা যায় ।
১০ জন খুনির জন্য দেড় বিলিয়ন মুসলিমকে নাকে খত দেবার আদেশ রুপার্ট মারডক তো প্রথম দেননি। এটা বহু পুরনো পন্থা ও দাবি। হিটলার যেমন গোটা কতেক ইহুদিদের হঠকারীতার কারণে সমস্ত ইহুদিদের দায়ী করে নির্মূল করতে চেয়েছিলেন ---সেরকমই সাম্প্রদায়িক হুংকার।
ফ্রান্সের মৃত পুলিশটি যখন মুসলিম বলে সনাক্ত হলো, সেখানেও ঘৃণা দিয়ে দিল্লি থেকে লেখা হলো
"এই পুলিশটি তার সন্ত্রাসী ভাইদের সাহায্য করে কার্টুনিস্টদের খুনে সহায়তা করেছে।"
সাম্প্রদায়িক ঘৃণাটা তাই শুধু ছাগু, জামাত, সন্ত্রাসী কেন্দ্রীক থাকেনা। বাস্তবে-ফেইসবুকে অনেক মুসলিম বন্ধু আছে, উঠাবসা আছে কিন্তু ইসলাম ধর্মকে আমি মনে প্রাণে ঘৃণা ও সভ্যতার জন্য হুমকি মনে করি ---এমন মানুষ এই উপমহাদেশে অসংখ্য। অর্থাৎ ধার্মিককে নয়, ধর্মকে ঘৃণা করো।
পশ্চিমাদের হঠকারিতা, বর্ণবাদ, অত্যাচার, অবিচারের সত্য কথা গুলো সাহস করে বলছেন, বলে চলেছেন পশ্চিমেরই প্রতিথযশা আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন বুদ্ধিজীবী--যারা মুসলিম নন ।
আর মুসলিমরা?
অন্যের খুনের বদলা দিতে মুসলিমরা সারকোজি-নেতানিয়াহু-ওবামার পায়ে পড়ে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদে বলছে,
"মাফ করে দেন প্রভু, ভুল বুঝবেন না, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম মানে শান্তি।"
সভ্যতার সংঘাত বুঝি একেই বলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


