somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহুলুল পাগলের গল্প

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটোবেলায় মায়ের মুখে শোনা গল্প------------

একদেশে বহুলুল পাগল নামে এক পাগল ছিলো।একদিন ঐ দেশের রাজা রাণী সহ সভাসদদের নিয়ে ভ্রমণে বের হলেন। হঠাৎ হৈ চৈ করে এক পাগল এসে রাজকীয় পথিকদের যাত্রাই ব্যাঘাত ঘটালো। নোংরা,ছেড়া-ফাটা কাপড় পরিহিত বহুলুল পাগলকে দেখে রাজা সভাসদদের জিজ্ঞেস করলেন "কে এই পাগল,আমার কাছে সে কি চাই?"।তখন বহুলুল পাগল নিজেই রাজাকে বললেন, "রাজামশাই আমার কাছে একটা বেহেশত আছে এবং আমি তা আপনার কাছে বিক্রি করতে চাই,দাম মাত্র ১০০০দিরহাম"।তখন রাজামশাই বিরক্ত হয়ে বহুলুল পাগলকে সরিয়ে দিতে বললেন।

কিন্তু রাণী সাহেবার মন ছিলো উদার। রাণী বহুলুল পাগলের কাছ থেকে বেহেশত টা কিনে নিলেন রাজামশাইয়ের তাচ্ছ্যিল্য উপেক্ষা করে।রাণীসাহেবা ১০০০দিরহামের বদলে পেলেন কিছু ছেড়াঁ-ফাটা কাগজ।সেদিন রাতের বেলায় রাজা-রাণী যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুমের মধ্যে রাজা স্বপ্ন দেখলেন রাণী একটি সুন্দর,সুশোভিত জায়গায় বিশাল বড়ো আসনে বসে আছেন এবং রাজামশাইকে হাত বাড়িয়ে ডাকছেন। রাজা মশাই অন্ধকার জায়গা থেকে রাণীর কাছে যেতে চাইছেন কিন্তু রাণী সাহেবার সুন্দর জায়গাটার সীমানায় ঢুকতে পারছেন না কিছুতেই।বিছানায় এপাশ-ওপাস করতে করতে একসময় রাজামশাইয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।ভোরোরাতে রাজামশাই নিজের ঘরে পায়চারী করলেন এবং ভোর হওয়ার জন্য অপেক্ষাকা করছেন, আর দেখলেন রাণীসাহেবা নিশ্চিন্ত মনে ঘুমুচ্ছেন।সকালবেলা রাজা রাণীর কাছে জানতে পারলেন রাণীসাহেবা রাতের বেলাই খব সুন্দর স্বপ্ন দেখেছেন।রাণীর স্বপ্নটা রাজার স্বপ্নের মতোই ছিলো কিন্তু রাণীর সাহেবার মধ্যে ছিলো বেহেশত লাভের নির্মল আনন্দ।

সকাল হতেই রাজামশাই সভাসদদের ডেকে পাটালেন।রাজামশাইয়ের জরুরী তলব পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে সভাসদরা সবাই ভোর হতে না হতেই হাজির হলেন। রাজাসাহেব গুরুগম্ভীর হয়ে বসে আছেন।সভাসদরা কেউ ভয়ে কিছু বলছেন না। শেষ পর্যন্ত উজীর সাহেব নীরবতা ভেঙ্গে রাজামশাইকে জিজ্ঞেস করলেন, "হুজুর কি কোনো বিশেষ কারণে বিচলিত"।তখন রাজামশাই রাতের বেলা দেখা তার নিজের এবং রাণীসাহেবার স্বপ্নের কথা জানালেন সবাইকে। সভাসদদের মধ্যে ২/১জন পন্ডিত ব্যক্তি ছিলেন তারা ব্যাখ্যা করলেন বহুলুল পাগলের কথিত বেহেশতের সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।কারণ রাজামশাই রাজামশাই বহুলুল পাগলের বেহেশত তো কিনেন নি উল্টো রাণীকে টিপ্পনী (বেহেশত কেনাটাকে উদ্ভট পাগলামী বলে) কেটেছিলেন।

রাজাসাহেব সভাসদদের কথা শুনে প্রভাবিত হয়ে বহুলুল পাগলকে ডেকে পাঠালেন। কিন্তু বহুলুল পাগলকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।অনেক খোজাঁখুজিঁর পর বহুলুল পাগলকে ধরে আনা হলো।রাজা বহুলুল পাগল আরেকটা বেহেশত বিক্রি করতে বললেন।কিন্ত বহুলুল পাগল বললেন, "হুজুর আমায় মাফ করবেন আমার কাছে একটাই বেহেশত ছিলো"।তারপর রাজামশাই অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন, "কালকে ছেড়া-ফাটা কাগজ গছিয়ে যে টাকা পেয়েছিলে তা দিয়ে কি করেছো তুমি?" তখন বহুলুল পাগল মুখ কাচুমাচু করে উত্তর দিলো,"হুজুর একজন বিপদগ্রস্ত মুসাফিরকে বাচাঁনোর জন্য আমি বেহেশতটা বিক্রি করেছিলাম"।তখন রাজামশাই বললেন, "তাহলে আমার এবং রাণীসাহেবার স্বপ্নের মানে কি?" উত্তরে বহুলুল পাগল বললেন, "রাণী সাহেবা আমাকে বিশ্বাস করে একজন মানুষের উপকার করেছেন,তাই স্বপ্নটা ছিলো স্রষ্টার পক্ষ থেকে পুরষ্কার।"
সবশুনে রাজাসাহেব মন্তব্য করলেন,"হুম!!!বিশ্বাসে মিলাই বস্তু আর তর্কে বহুদূর।"

ছোটোবেলার মা এভাবেই আমাকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিলেন।তাই আমি বিশ্বাস করতে ভালোবাসি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩১
৯টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×