ধাক্কা খেল একসময়ে। আবুধাবী থেকেই আসা ওর আরেক দোস্ত হটাত গাড়ী এক্সিডেন্টে কবরবাসী হল, আর নিজেকে নিয়ে ভাবতে শুরু করল। প্রথমবারের মত বাপের ঝাড়ি ছাড়াই নিজেকে সামলানো শুরু করল। খাবারদাবারে হারাম বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা শুরু করল, আর তার জন্য রেডীফুড ছেড়ে হাত পুড়িয়ে রান্না শুরু করল। জানতামনা নিজের কপোলযুগলের এমন চমতকার শোভাবর্ধন করেছে এই কবছরে। ওয়েলকাম ব্যাক টু দি ফ্যামিলি। এমএসএন এ নিজের নিক টেকনো মোল্লা দিয়ে রাখতো সে থেকেই আন্দাজা লাগানো দরকার ছিল।
তের বছর পরে বাংলাদেশে আসার পরে যাই দেখে তাতেই একটা স্বপ্নভাব লেগে থাকে। খুব সম্ভবত আবার একযুগ পরে আসবে, আর কখনোই এদেশে লম্বা সময়ের জন্য থাকবে না। তবুও নাক কোঁচকায়নি আর ঠোঁট ওল্টায়নি, বাস্তবতা হিসাবে মেনে নিয়ে চুপচাপ দেখে নিয়েছে। সামহোয়ারের অফিস থেকে ফেরার সময়ে গাড়িতে টুকটাক আলাপ হচ্ছে, গত কদিন ধরেই দেখি ফকির আসলেই ছোকরা লক্ষী ছেলের মত পকেট থেকে দুটাকা পাঁচটাকা বের করে দেয়। হটাত প্রশ্ন করলাম, খেয়াল করেছ? ঢাকায় ফকির অনেক কম? ও বেশ ইম্প্রেসড হয়ে বলল, হ্যাঁ তাইতো, আগে তো ঢাকার রাস্তায় নামলেই... ঠান্ডা অসহায় রাগটা শিঁড়দাড়া দিয়ে বয়ে গেল। আস্তে বললাম, ঢাকাকে এতটাই ব্যায়বহুল করে দেয়া হয়েছে যে, ভিক্ষা করে এখানে টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে গেছে। আর ফ্ল্যাট আর এপার্টমেন্টের যেই জঙ্গলে আজ বেশিরভাগ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে সেখানে দরিদ্র কোন সাহায্যপ্রার্থীর প্রবেশাধিকার নাই। তার পরের রাস্তাটা দুজনের মাঝেই অস্বস্থিকর নীরবতা ঝুলে থাকে। আমি হয়তো বেলুনে সুঁই ফোটালাম, কিন্তু ওয়েলকাম টু রিয়েলিটি।
ছোকরা আজকে উড়াল দিচ্ছে। জানি না আরো একুশ বছর লাগবে কিনা পরেরবার মুখোমুখি হতে। তার আগ পর্যন্ত শুভকামনা
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৬:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


