লন্ডনে বইমেলার ওপর সবাইরে হাঁকডাক দিয়ে বলার পরে যদিও গাদ্দারী কইরা সব্বাই কাট মারিয়াছিল, তারপরেও ফলাফল যেইটা হইল সেইটা মনে হয় দুপ্যারায় লিখে ফেলা যায়।
মেলার আগে আমি নিজেই মনে করেছিলাম যে ওপরের ছবির মত কিছু একটা হবে। কিন্তুক গিয়ে দেখি একটা পিচ্চি রুমে দুই তিনটা টেবিল বিছায়ে বইপত্তর। বেলা দুটায় শুরু করার কথা মেলা, তাই একটা থেকে দুইটা কুইক সার্ভিস দিয়ে সব সাজানো হল। তারপর শুরু হল অপেক্ষা, দেশে থাকলে মাছিটাছি মারা যেত, এই ছাতার দেশে সেইগুলাও নাই।
দেখা গেল ঘন্টা পার হয়ে যায়, কাস্টোমার / দর্শক আসে না। তবে সময় প্রকাশনীর প্রকাশক এমনই একজন ব্যাক্তিত্ব যে একা ওনার জন্যই আর উনার সাথে দেখা করার জন্যই অনেকে আসা শুরু করল। যারাই আসল তারা দেখি কেউই এক দুইটা বই কিনল না, সবাই কমপক্ষে ১০-১৫টা করে বই নেয়া শুরু করল। অনেকেই আগেই দেশে খবর দিয়ে রেখেছিল তাদের পছন্দের বইগুলো নিয়ে আসার জন্য, কিন্তু দেখা গেল মেলায় তাদের বইগুলো নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে। যেমন সেলিনা হোসেনের গায়ত্রী সন্ধ্যা ছিল এক না দুকপি কিন্তু কাস্টমার ছিল প্রায় ৫-৬ জন।
বিকেলের পরের দিকে কিছু মানুষজন আসা শুরু করল। আর কাস্টোমারের মহাসংকট দেখে আমরা যারা চ্যালাচামুন্ডারা ছিলাম, তারা সবাই পরিচিতদের ফোন করা শুরু করেছিলাম যে কমপক্ষে একবার চেহারা দেখিয়ে যাবার জন্য। সেই সূত্রেও দু-চারজন এসে ঘুরে গেল। সব মিলিয়ে মেলায় দুইটা খুব মজার জিনিষ লক্ষ্য করলাম।
প্রথমতঃ বই যা আনা হয়েছিল তার মাঝে সিরিয়াস আর হালকা টাইপের বই প্রায় ফিফটি ফিফটি করে আনা হয়েছিল। আন্দাজা লাগানো হয়েছিল যে, চালু বইগুলোই তো বিক্রি হবে, আর সিরিয়াস বই কিছু না থাকলে কেমন লাগে তাই সেগুলোও আনা। দিনশেষে দেখা গেল একদম উলটো রেজাল্ট। মহা সিরিয়াস টাইপের বইগুলা যেমন শামসুর রহমানের প্রেমপত্র, বা শওকত ওসমানের উপন্যাসসমগ্র, মুনতাসির মামুনের মুক্তিযুদ্ধকোষ এইগুলার যা বই ছিল সব শেষ উলটা মানুষে আরো খুঁজে, আর অন্যদিকে হুমায়ুন, জাফর ইকবাল আনিসুল হক ইত্যাদি সহযোগে জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের যে কালেকশন ছিল, তার অনেকাংশই খরচ হয়নি। দিনশেষে প্রকাশক বলতে বাধ্য হলেন যে দেশে গিয়ে তিনি হুমায়ুন আহমেদকে বলবেন, অন্তত একবার বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখক বিক্রির দিক থেকে সিরিয়াস লেখকদের কাছে হেরে গেলেনঃ)।
দ্বিতীয় যেই জিনিষটা ভাবছিলাম যে, লন্ডনে প্রতিমাসে একদিন এইরকম টেবিলটপ এক্সিবিশনের মতন বইমেলা করা যায় কিনা। দেশ থেকে বই আনিয়ে নেয়া কোন সমস্যা না, বইমেলার নেটওয়ার্কেই কাজ হবে। টাইম দেয়া কোন সমস্যা না, বেকার মানুষ, হাতে আনলিমিটেড টাইম। কিন্তু সমস্যা তিনটাঃ
এক) বইগুলা ডিস্প্লেতে রাখব কোথায়? নিজের গাড়ি নাই তাই বাসায় রাইখা অন্যখানে বেচা সম্ভব না।
দুই) কাস্টোমার পাব কই? পাব্লিসিটি করা এক মহা এক্সপেন্সিভ আর সময় সাপেক্ষ বিষয়।
তিন) যেই বই বেচা হইব না সেইটা রখব কই? সব যে বিক্কিরি হবে নাএকচান্সে তার গ্যারান্টি ১০০%।
কারো কোন পরামর্শ আছে নাকি? জানাইয়েন।
বাই দা ওয়ে সময় প্রকাশনী যে নিয়মিত (খুব নিয়মিত না) কিছু বই লিগালি ডাউনলোড করতে দেয় সেটা কি খেয়াল করেছেন? এই বইটা মনে হয় অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বইটার নাম হল পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন । পড়ার মত বই, আর ফ্রী পড়া যায়। ডাউনলোড মারেনঃ)
আলোচিত ব্লগ
তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।
বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন
অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আম গেল ছালাও গেল

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন
সৌর বিদুৎ।

আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।