somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পারিবারিক রাজনীতির নাম গণতন্ত্র

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পরিবার তন্ত্র বা রাজনীতিতে পারিবারিক অগ্রাধিকারের ব্যাপারটা এখন সবাই অনেকটা সহজ ভাবে মেনে নেয় । আমেরিকা , ভারত বাংলাদেশ যে দিকে তাকাবেন আপনি সব খানেই দেখবেন নির্দিষ্ট কিছু পরিবার রাজনীতিকে আগলে রেখেছে বা আটকে রেখেছে । যেভাবে আপনার বুজতে সুবিধে হয় । বুশ , ট্রাম্প কিংবা ক্লিনটন পরিবার বা আমাদের বঙ্গবন্ধু বা জিয়া পরিবার সবখানেই পারিবারিক ভাবেই মূল্যায়ন করা হয় । এটা যে খারাপ কিছু তা আমি বলছি না । কিন্তু পারিবারিক এই মনোনয়নে যদি গণতন্ত্র থাকে তাহলে নিদেন পক্ষে "গণতন্ত্র" শব্দটা বেঁচে থাকে ।

নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের প্রায় সকল সদস্য রাজনীতির সাথে জড়িত । এটা ধরতে পারেন উনাদের পারিবারিক পেশা । এক্ষেত্রে এই পরিবার এতো বেশী অর্গানাইজড বা সুশৃঙ্খল খোদ প্রধানমন্ত্রী চাইলেও এই পরিবারের বিপক্ষে সরাসরি কথা বলতে পারছে না । নিজের দল ও নির্বাচনী আসনের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী অনেক কিছুই সহ্য করে যাচ্ছেন এবং তিনি নিজে তা স্বীকারও করেছেন । তাহলে অন্য কোনো পরিবার কি কখনো রাজনীতিতে আসতে পারবে না ? অবস্যই পারবে । আর ঠিক এই কারণেই বর্তমান মেয়র আইভীকে প্রধানমন্ত্রী এতো সাপর্ট দিয়ে যাচ্ছেন । কারণ নতুন কেয় হাল না ধরা পর্যন্ত আগের জনকে চাইলেই বাদ দেয়া যাবে না ।

আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাসিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে যখন আলোচনা হয় তখন বাংলাদেশের প্রধান দুই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা হয় । এবং উকিলিকস এর ইমেইল গুলো থেকে বোঝা যায় আপনি যতই চেষ্টা করেন এই দুই পরিবার থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন না ।এক্ষত্রে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলন হয় উচিত এই দুই পরিবারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার । কারণ দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার আগে ভাবতে হবে যে গণতন্ত্র আপনি চাচ্ছেন তা এই পৃথিবীতে এই মুহূর্তে সম্ভব নয় । আর এই দ্রুব সত্য কথাটি যেমন প্রধানমন্ত্রী জানেন তেমনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীও জানেন । শুধু দেশের জনগণ মানেন না বা মানতে চান না ।

পরিবারের মধ্যে গণতন্ত্র কায়েম করার চেষ্টা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন থেকেই করে আসছেন । উনি উনার ছেলের সাথে উনার বোনের ছেলে মেয়ে সবাইকে পরখ করে দেখছেন বা সবাইকে সুযোগ করে দিচ্ছেন । এটা পারিবারিক গণতন্ত্রের জন্য খুবই ভালো একটা প্রদক্ষেপ । কারণ আপনি যেখানে জানেনই যে এই পরিবারের বাইরে কেয় সুযোগ পাবে না সেক্ষেত্রে পরিবারের মাঝ থেকে ভালো কাওকে বেঁচে নেয়ার নামই গণতন্ত্র । অন্তত আমার আপনার জন্য ।

ফরিদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দুজন ব্যতিক্রমী প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন যারা সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী। একজন সৈয়দ মাসুদ হোসাইন আর আরেকজন আইভি মাসুদ । দু জনই সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত । এখন আমার প্রশ্ন হলো যেখানে এরা দুই জন একই পদের জন্য নির্বাচন মনোনয়ন প্রার্থী তাহলে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে এদের সাংসারিক জীবন কেমন ? যেহেতু রাজনীতির মাঠে এই স্বামী -স্ত্রী এখন নিজেদের বিপক্ষে তার মানে এরা ঘরের মধ্যেও কি নিজেদের বিপক্ষে থাকে ?খুব সম্ভবত এটা পারিবারিক রাজনীতির ছোট কিন্তু চমৎকার একটা উদাহরণ ।

আমরা সবাই জীবন ধারণের জন্য কোন না কোন চাকুরী বা ব্যবসা করি । একবার চিন্তা করুন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আপনি আপনার অফিসে যতটা প্রফেশনাল থাকেন বাসায় আসার পর ঠিক কি কারণে ততটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ? মানে আপনি যেখানে নিজের অফিসে নতুন একজনকে চাকুরী দেবার আগে দশটা রেফারেন্স খুঁজেন সেখানে রাজনীতিবিদদের কাছে আসা করেন অচেনা কোন লোককে নিজের গদি ছেড়ে দেবার ।

আমরা গোবরে পদ্মফুলের আশা না করে গোবরটা যদি পদ্য ফুলের কাছে নিয়ে যাই তাহলে অনেকগুলো পদ্মফুলের আশা করতে পারি । আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও নীলপদ্ম হয়ে বিষ হজম করার প্রয়োজন পড়তো না । । ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×