somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন

২৪ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কাছে সেদেশের সর্বদলীয় মুসলিম সংগঠন 'এএমটি' বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন, আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থা ও শান্তিশৃঙ্খলার প্রতি সরকারের পদক্ষেপকে হুমকি বিবেচনা করে এ ব্যাপারে চাপ সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. আগা সাঈদ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া যেসব সংগঠনের নেতৃবৃন্দবিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন­ আমেরিকান মুসলিম অ্যালায়েন্স,আমেরিকান মুসলিম ফর প্যালেস্টাইন, কাউন্সিল ফর অ্যামেরিকান ইসলামিকরিলেশনস, ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা, মুসলিম অ্যালায়েন্স অব নর্থআমেরিকা, মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি ফ্রিডম ফাউন্ডেশন, মুসলিম স্টুডেন্টঅ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা এবং ইউনাইটেডমুসলিমস অব অ্যামেরিকা।

স্মারকলিপিতে বাংলাদেশেরমানবাধিকার পরিস্থিতি চরম অবনতিতে বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ওসরকারি ছত্রছায়ায় বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশকরে এ ব্যাপারে আমেরিকা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। স্মারকলিপির একটিঅনুলিপি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে।

হিলারি ক্লিনটনের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে সংগঠনটি বলেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। ২০০৯ সালে কমপক্ষে ১৮০ জন ব্যক্তি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে হত্যার শিকার হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিরোধী দলগুলোর ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন হচ্ছে। তারা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সরকারি দলের ক্যাডারদের হত্যা, সন্ত্রাস ও ধর্ধণের মাধ্যমে সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।

বিরোধী দলকে দমনের উদ্দেশ্যে সরকার যাচ্ছেতাই পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকার দেশের প্রধান মূল ধারার ইসলামিক গণতান্ত্রিক শক্তি জামায়াতে ইসলামীকে দমন ও পর্যায়ক্রমে নির্মূলের লক্ষ্যে কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা শুধু জামায়াতের শীর্ষ নেতাদেরকে বিচারের নামে জেলজুলুমের পাঁয়তারা করছে। এমনকি বিচারের আগেই বক্তৃতা, বিবৃতি ও তথ্যসন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের চরিত্র হনন করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার কর্তৃক ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। জামায়াতের কোনো নেতার নাম সে তালিকায় ছিল না। ১৯৭৪ সালে ৯ এপ্রিল ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সব যুদ্ধবন্দীকে বিচার ছাড়াই পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এভাবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গটি শেষ হয়ে যায়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধে যারা পাকিস্তানের পক্ষে দালালি করেছে তাদের জন্য দালাল আইন পাস করে। লক্ষাধিক লোককে এ দালাল আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়। যার মধ্যে ৩৭ হাজার ৪৭১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ৩০ হাজার ৬২৩ জনকে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে খালাস দেয়া হয়। জামায়াতের কোনো নেতার নাম এসব তালিকায় ছিল না।

তা সত্ত্বেও মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ৭৫২ জনকে অপরাধী হিসাবে সাব্যস্ত করে বাকিদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। জামায়াতের কোনো নেতা যুদ্ধাপরাধ বা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে দালালির অভিযোগে অভিযুক্ত হননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বর্তমানে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ায় জামায়াত নেতাদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যা ব্যক্তি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম লংঘন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি ছাত্র সংগঠনের একজন কমী নিহত হয়। এ দুঃখজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। সংঘর্ষের একটি পক্ষ ইসলামী ছাত্রশিবির ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছিল। কিন্তু তাদের এ দাবি আমলে না নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যেভাবে একপেশে পুলিশ গণগ্রেপ্তার করছে তাতে এ হত্যাকাণ্ডেরও নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×