আমার কল্পবাবু ডটকম এর বয়স সপ্তাহ পেরিয়েছে। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। শাখে শাখে পাখি ডাকে, কি যে শোভাআআ...। কল্পবাবুর জন্ম হওয়ার প্রথম কয়েকদিন আমি নিজেই যে কয়বার ওয়েবসাইটটায় গিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। ভাললাগার কোন কূলকিনারা ছিল না।নিজেই যাই। বিভিন্ন বাউজার থেকে যাই। গালে হাত দিয়ে হাসি হাসি মুখে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি।
যারা জানেন না তাদের জানিয়ে রাখি কল্পবাবু হল বিশ্বে প্রথম বাংলা ডিজিটাল কমিকস প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল কমিকস হল ওই সাধারণ কমিকসই ব্রাউজারের মাঝে পড়া যায়। সবার কাছে কেমন লাগে জানিনা আমার নিজের কাছে এভাবে কমিকস পড়তে কি যে ভাল লাগে। কোন কারণ ছাড়া “প্যানেল মোড” থেকে “পেজ মোডে” যাই। কীবোর্ড ডানে বামে করি। একেকটি পেজে ঘুরে বেড়াই। দেখা জিনিস নিজেই একশবার দেখি। ভাল লাগে। আমি কিছু একটা করেছি যেটা বিশ্বে প্রথম। এই দেশে কোটি মানুষ যেটা করেনি আমি করেছি। কী আনন্দ।
আমার বন্ধুবান্ধবদের খুব একটা উত্তেজিত দেখা যাচ্ছে না। ওদের বললে ওরা নীরস বদনে ওয়েবসাইটায় যায়, কিছুক্ষণ কমিকস পড়ে তারপর বলে “বাহ! বেশি জোস হইসেতো!” এরপর আর কোন খোঁজখবর নেয়না। কেন নেয়না কে জানে। ওদের বোধ হয় জীবনে আরও কাজ আছে। আমার মত গলদঘর্ম কর্মহীন না। কিছু বন্ধুবান্ধব অবশ্য জানতে। জিজ্ঞেস করেঃ "কিরে কি অবস্থা তোর ওয়েবসাইটের? " আমি খুশি হয়ে বলা শুরু করি। কিন্তু পরে খুব একটা ফলো আপ প্রশ্ন পাইনা। যাই হোক তাতে দমে যাওয়ার কিছু নেই। ব্যবসায় দমে যেতে নেই। দম চলে গেলে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার পুরোদমে কাজে নেমে পড়তে হয়।
আমার কাছে কল্পবাবু অবশ্য ঠিক “কাজ” না। কল্পবাবু আমার নিজে সন্তানের মত। এখনো বিয়ে করিনি তবু বাবাবোধে জর্জরিত। শুরু করার পর থেকে ফেসবুক পেজে মাত্র ৬৩ টা লাইক পড়েছে। জনপ্রিয় বাংলা ওয়েবসাইটগুলোর যেখানে লাইক সংখ্যা লাখ লাখ। তবু আমি মোবাইলে ফেসবুক অ্যাপ ইন্সটল করে রেখেছি। এক একটা লাইক আসে, আর আমার নোটিফিকেশন পাই। কি যে খুশি লাগে তা বলার নয়! প্রোফাইল দেখায় কে লাইক করেছে। আমি আবার ওই প্রোফাইলে ক্লিক করে দেখি ওই ভাই/বোন কি করেন। যদি আমাকে পাগল না ভাবতো, পারলে প্রত্যেককে আমি ধন্যবাদ জানিয়ে দিতাম। পাগল ভাবতে পারে, তাই আর দেইনা। মনে মনে দেই।
অন্যপেজগুলায় এত লাইক দেখলে মন খারাপ হয়। তখন নিজেকে সান্ত্বনা দেই। কল্পবাবু আস্তে আস্তে বড় হবে। ধীরে ধীরে মানুষ তাকে জানবে, ভালবাসবে। কল্পবাবু মানুষ না হলেও একজন মানুষের সমস্ত আবেগের প্রতিফলন; মানুষ তাকে না ভালবেসে কি পারে?
আলোচিত ব্লগ
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য
আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।
ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার সোভিয়েত শৈশব

বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?
রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।
তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।