আপনাদের কি ভীরেন্দর শেহবাগের কথা মনে আছে!!!
ওডিআই ও টেস্টে দুটোতেই তাঁর রান ৮০০০+ এবং এর মধ্যে শতক রয়েছে ৩৮টি। যে কয়জন ব্যাটসম্যানের ওয়ানডেতে স্ট্রাইকরেট ১০০+, শেহবাগ তাঁদের মধ্যে একজন। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বার্ধক্যের জন্য নয়, বরং গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় বোধহয় কালের গহবরে হারিয়েই গেল!!!
এক সময়ের মাঠ কাঁপানো আরেক ওপেনার গৌতম গাম্ভীরের কথা মনে আছে তো !!!
২০ টি শতকসহ এই ওপেনারের ওডিআই ও টেস্টে রান প্রায় ১০,০০০।
বার্ধক্য নয় বরং বাজে পারফর্ম্যান্সের কারনে, মাত্র ৩২ বছর বয়সী এই ওপেনার ও আর কোনদিনই (বোধকরি) জাতীয় দলে ফিরতে পারবে না !
---------------------------------------------------------------------
জ্বী ভাই, ইন্ডিয়া পেরেছে শেহবাগ বা গম্ভীরের অভাব পূরন করতে, তারা তৈরি করেছে ধাওয়ান, রোহিত, রাহানে বা কোহলিদের।তারা আমাদের কাছে (তথাকথিত) বি-টিম পাঠিয়ে ও হোয়াইট ওয়াশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। একদিক দিয়ে মুরালি, মাহেলারা অবসর নেয় আর তাঁদের দ্বায়িত্ব তুলে নেয় হেরাথ, সিলভা বা চান্দিমালরা।জনসংখ্যা ফ্যাক্টর নয়; ফ্যাক্টর হচ্ছে ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আর তার সফল বাস্তবায়ন।
------------------------------
সালটা সম্ভবতঃ ২০০৭! বাংলাদেশের গ্রামীনফোন "পেসার হান্ট" নামক একটি অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সারা বাংলাদেশে ফাস্টবোলার খুঁজতে লাগলো।এই "পেসার হান্ট" থেকেই আমরা পেয়েছিলাম বাগেরহাটের অজপাড়া গাঁ থেকে আসা আমাদের রুবেল হোসেন কে! এরকম বড় উদ্যোগ আগে-পরে আর কেউ নিয়েছিল কিনা মনে পড়ে না! বিকেএসপিতে তখন ও অনেক স্টুডেন্ট ছিল, এখনও আছে। আমাদের সাকিব বিকেএসপিরই ফসল।
.....
কিন্তু কথা হচ্ছে, এখন বিকেএসপি থেকে কেন ভাল প্লেয়ার উঠে আসছে না! কেন সারা দেশ থেকে ভাল বোলার বা ব্যাটসম্যান খোঁজার জন্য কোন "ওপেনার হান্ট বা পেসার হান্ট হয় না"! কেন আফতাব/নাফিস/জুনায়েদ/তাপশ বৈশ্যরা হারিয়ে যায়!!! বিসিবি তাহলে কোটি টাকা খরচ করে কি করছে!! ক্রিকেটের উন্নয়নে কাউকে সাজা দিয়ে আদব রক্ষা করাতেই যদি বিসিবির কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশের নাম থাকবে কিনা সন্দেহ!!!
----------------------------------------------------------------
আমাদের হয়তো অপশন কম। তামিম বা নাসির রা ম্যাচের পর ম্যাচ খারাপ খেললেও হয়তো দলে খেলে যাবে। কিন্তু অপশন বাড়ানোর জন্য আমরা বা আমাদের বোর্ড কি করেছে/করছে-সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ডমেস্টিক লীগের খেলা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে, সেখান থেকে উঠে আসে বড় বড় সব উদীয়মান তারকারা; আর আমরা বসে বসে আংগুল চুষি।
---------------
মূলের সমস্যা নির্ণয় করে তার সমাধান না করা গেলে, দলের এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।এভাবে চলতে থাকলেই অচিরেই আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই নেপাল/হংকং/কেনিয়ার কাতারে। এই জন্য ম্যানেজম্যান্টসহ পুরো দলটাকে ঢেলে সাঁজাতে হবে। খেলোয়াড়দের সাথে নিয়মিত সরাসরি কথা বলতে হবে ম্যানজমেন্টকে আরো অপশন খুজতে হবে ১৬ কোটি বাংগালীর মাঝে। যদি সে উপজাতি ও হয়, তাঁকেই গ্রহন করতে হবে।
না হলে লজ্জা/ঘৃণা/অভিমান ফেলে প্রতি ম্যাচে খেলা দেখতে বসতে হবে আর খেলা শেষে হতাশা আর গ্লানিতে ভরে যাবে চায়ের দোকান থেকে ব্লগ, ফেইসবুকের ওয়াল।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১০:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




