তানহার বাবা ধনী মানুষ। কাস্টমস এ চাকরী করেন। তার পর্যায়ে একজন মানুষের যতটুকু ধনী হবার কথা তার চেয়ে তিনি একটু বেশিই টাকাপয়সা-ওয়ালা। তার সব সম্পত্তিই যে সৎ পথে পাওয়া তা নয়। এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতিবাজ হিসেবে তার নাম পেপার পত্রিকায়ও বেশ পাওয়া যেত। তবে তিনি এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন।
তানহা, বাবার আদুরে মেয়ে। বাবা যেমন মেয়ে কে ভালবাসেন মেয়েও তেমনি বাবা কে ভালবাসে। তানহার ভবিষ্যতের জন্য তানহার বাবা অনেক কিছু করেছেন। ওকে ঢাকার স্বনামধন্য স্কুল-কলেজে পড়িয়েছেন। মেয়ের মেডডিকেল কলেজে পরীক্ষার আগেই যেন ভর্তি নিশ্চিত থাকে এমন ব্যবস্থা করেছেন।
আমাদের দেশে অনেক ছেলে মেয়ে সারা খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার জন্য। বেশিরভাগেরই ইচ্ছা থাকে পাব্লিক কোনও ভারসিটি বা মেডিকেল কলেজে পড়ার। অরিন, তাদেরই একজন। সৌভাগ্যক্রমে অরিন, তানহা একি কলেজে ,একি ক্লাসে পড়ালেখা করেছে। ভর্তি পরীক্ষা যখন খুব নিকটবর্তী তখন অরিন যানতে পারলো, তানহার সেই বিশেষ ব্যবস্থায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি নিশ্চিতকরণ এর কথা। অরিন এর এ ব্যপারটা খারাপ লাগা স্বাভাবিক। বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়ে; কিছু হলেই সেটা ফেসবুকে প্রকাশ হউয়া চাই। তো অরিন পরিণতির ধার না ধেরে, একটা স্ট্যাটাস এ তার মনের ক্ষোভ প্রকাশ করলো। সবাই পড়লো, লাইক দিল। কিন্তু সমস্যা হলও অন্যজায়গায়। পরীক্ষার পরদিন অরিন তার কথা ফিরিয়ে নিল। সে বলল , তানহা খুব ভালো মেয়ে, সে না জেনেই তানহার নামে বাজে কথা বলেছে, হ্যানত্যান- হাবিজাবি, এইজন্য সে দুঃখিত। খুব ভালো।
কিন্তু আসল ঘটনা সবার অগোচরে রয়ে গেলো। স্ট্যাটাস টা দেয়ার পরদিন তানহার মা অরিন দের বাড়িতে আসে। তাকে বাজে কথা বলে। হুমকি পর্যন্ত দেয়। এমনকি বলে, তানহার আপন কোনও আত্মীয় বাংলাদেশের নামকরা কোনও পত্রিকার সাংবাদিক, সে চাইলেই অরিন এর নামে কোনও স্ক্যান্ডাল ছরিয়ে দিতে পারে। নানান হুমকি ধামকি পর সে চলে যায়, তবে অরিন কে ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে আবার স্ট্যাটাস দিতে বলে। অরিন নিস্তব্ধঃ। সে ভয় পেয়ে যায়। এবং তার কথা অনুযায়ী কাজ করে।
আর কিছু বলতে হবে কী?
(চরিত্র ও নাম কাল্পনিক, ঘটনা বাস্তব কিনা বলবনা, বললে আমিও গল্পের অরিন এর মত বিপদে পড়তে পারি‼‼)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



