somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দোস্ত তোমায় মনে পড়ে.......

২১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দোস্ত'র কথা খুব মনে পড়তেছে। দোস্ত ছিলো আমাদের ব্যাচের সবার দোস্ত। সবাই তাকে দোস্ত বলেই ডাকতাম।

দোস্ত নামের শুরুটা মজার। ব্যাচেলরের ক্লাশ শুরুর পরে দেখা গেল একটা ছেলে সবাইকে দোস্ত বলে ডাকা শুরু করেছে। যেখানে ব্যাচের অধিকাংশই কেউ কাউকে চিনি না; সেখানে চেনা-অচেনা সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসে দোস্ত বলে ডাকাটা বিশাল মহত্বের পরিচয়। ফলাফল হিসেবে ব্যাচের সবাই তাকে দোস্ত বলেই ডাকা শুরু করলাম। হলে সিট পাওয়ার পরে দেখলাম দোস্ত আমার অন্য তিন রুমমেটের একজন হয়ে গেছে।

দোস্তের বিশেষ কিছু ব্যাপার ছিলো। প্রথমেই মাথার চুলের কথা বলি। দোস্তের মাথার চুল ছিল খুবই পাতলা আর পলকা। মাথায় একবার আলগোছে হাত বুলালেও ৪/৫টা চুল উঠে আসতো। সেই চুলের জন্যে দোস্তের ছিল অপরিসীম মায়া। আর তাই কেউ যদি ভুলেও তার মাথায় হাত রাখতো তাহলে কমপক্ষে ৭ দিনের জন্যে তার সাথে কথা বন্ধ হয়ে যেতো।

দোস্তের আরেকটা গুন ছিলো অসাধারন স্মরনশক্তি। দাড়ি কমা সেমিকোলন সহ সবকিছু মুখস্ত করে রাখতো। অনুশীলনীর অংক, প্রোগ্রামিং কোড সবই মুখস্ত করে রাখতো সে । তার পরীক্ষার দেওয়ার লজিক বেশ চমৎকার ছিলো। পরীক্ষায় যেগুলো হুবহু কমন পড়েছে যেগুলো লিখতো প্রথমে। যেগুলো বাকী থাকতো সেগোলোর প্রশ্নের সাথে মুখস্ত উত্তরগুলো মিলিয়ে যেখানে সবথেকে বেশী শব্দ কমন থাকতো সেটাই লিখে দিয়ে আসতো।

এহেন দোস্তকে শেষ সেমিস্টারে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছিলাম। সেটা মনে পড়লে আমার এখনো কষ্ট লাগে :(। প্রথম সেমিস্টারে আমার থেকে দোস্ত অনেক নম্বর বেশী পেয়েছিলো। আমাদের তখন নম্বর সিস্টেমে পরীক্ষা হতো। পরের ৬টা সেমিস্টারে আস্তে আস্তে সেই ব্যবধান কমিয়ে দোস্তের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকি। আর অস্টম সেমিস্টারের রেজাল্ট দেওয়ার পরে দেখা গেল দোস্তরে পিছনে ফেলাইয়া আমি লাকি সেভেনে নম্বরে চলে এসেছি।

আমি জানি দোস্ত আমারে এখনো ক্ষমা করতে পারে নাই। দোস্ত তুই ভালো থাকিস.... সব সময় ... সারাজীবন....
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধা!

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭


এই লোকটির নাম আল আমিন। সে বিশেষ একটি দলের হয়ে জুলাই মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় মাঝেমধ্যে। এর সম্পর্কে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে, সে নাকি ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×