somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অরণ্য-অরিত্রি - পর্ব ১

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন একটা কারণে অরণ্য কিছুটা রেগে আছে অরিত্রি'র উপর। সিএনজি তে, দু'জন দু'পাশে বসে আছে মাঝে বেশ দূরত্ব রেখে।
অরিত্রি জানে, অরণ্যের এই রাগ কাল অব্দি গড়াবে। হয়তো আজই বাসায় পৌঁছে গাল ফুলিয়ে থাকবে, কোন রকম যোগাযোগ করবে না।হয়তো কালকের দিনে দেখাও করবে না।
পাছে বৈশাখ টা ই মাটি হবে।

এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ অরিত্রির শরীর খারাপ করতে লাগলো, মাথাটা যেন একটু চক্কর দিল। নিজেই ঘাবড়ে গেল অরিত্রি। কাশি শুরু হতে লাগলো, অরণ্যের হাত ধরে বললো, "এই, আমার খারাপ লাগছে।" অরিত্রি'র কাশি বেড়ে গেলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় একটু।
অরণ্য হন্তদন্ত হয়ে অরিত্রি'র হাত ব্যাগ টা হাতড়াতে থাকে ইনহেলার'র খোঁজে। সে জানে অরিত্রির শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে কিছুটা, তাই সব সময় ইনহেলার একটা তার ব্যাগে থাকে।
এরই মধ্যে অরিত্রি জ্ঞান হারালো।
যখন চোখ খুললো অরিত্রি দেখলো, তার মাথা অরণ্যের কাঁধে, আর অরণ্যের এক হাতে তার পানির বোতল। মাঝে কি হল অরিত্রি কিছুই জানেনা।

সে কাঁধ থেকে মাথা তুলে উঠে বসে, অরণ্য থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে, সিএনজি'র সিটে মাথা ফেলে।
সে জানে এমন ঘনিষ্ঠতা তে অরণ্য অস্বস্তি বোধ করে, এমন কি সে নিজেও।
অরণ্যের হাত থেকে নিশব্দে বোতল নিয়ে মুখে,মাথায় কিছুটা পানি দিল অরিত্রি। তারপর আবারো দূরত্ব রেখে মাথা ফেললো সিটে। রাস্তায় জ্যাম ভীষণ সেই সাথে গরম। কাল পহেলা বৈশাখ, মানুষ সব আজ এতো রাত পর্যন্ত রাস্তায়।

অরিত্রি'র সিএনজি'র সিটে মাথা ফেলে রাখা দেখে অরণ্য জিজ্ঞেস করলো, "এখনো খারাপ লাগছে?"
অরিত্রি না বোধক মাথা নাড়লো।
অরণ্য তার হাত ধরে নিজের কাছে টেনে নিতে বললো, " আমার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রাখো, ভাল লাগবে।"
অরিত্রি বললো, "মাথায় পানি দিয়েছি তোমার শার্ট ভিজে যেতে পারে।"
অরণ্য কিছুটা জোর করে মাথা কাঁধে ফেলে বললো, "ভিজুক। তুমি একটু ঘুমাও বা চোখ বন্ধ করে থাকো। তোমার বাসা এলে আমি ডেকে দেব।"
চুপটি করে চোখ বন্ধ করে পড়েছিল অরিত্রি, যেন ঘুম এসে যায়। অরণ্যের একটি হাত অরিত্রির গাল স্পর্শ করেছিল। যেন ছোট খুকি সে।
যে স্পর্শে ছিল শুধুই মায়া, আস্থা, ভালবাসা। কোন কামুক প্রেমিকের কাম নয়।

অনেক বছর এমন স্পর্শ পায়নি অরিত্রি। এত মায়ায় ভরা একটা হাত..... কি এক ভাল লাগায় মন ভরে গিয়েছিল সেদিন অরিত্রি'র, অনেক বছর এমন ভালাবাসা পায়না অরণ্যের, অনেক বছর.....

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×