গতকাল আমাদের পরীক্ষা ছিলো টানা বিশ দিন পর। ট্যানারিও তার সেই মহামূল্যবান গোসল বিশ দিন পরেই করলো। একে আর মানুষ করা গেলনা। ট্যানারির অনেক কিছুই তো আপনারা জানলেন আজকে ট্যানারির প্রেম-পিরিতি নিয়া কিছু লেখার কথা ভাবতাছি।
প্রেমে চল হাবুডুবু হাবুডুবু খাই,
দুজনে চল ডুবে ডুবে ভালোবেসে যাই।
তো এই হাবুডুবু মোটামুটি সবাই ই খাইতে চায়, ট্যানারিও এর ব্যতিক্রম নয়। এই ট্যানারির হাবুডুবু খাওয়া কিছু ঘটনাই আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
ঘটনা ১ : আমরা তখন নতুন নতুন ক্যাম্পাসে আসছি। গায়ে হাওয়া বাতাস লাগাইয়া ঘুরে বেরাই। একি ডিপার্টমেন্ট, একি রুম, এবং ট্যানারির পিকিউলিয়ার চরিত্রের জন্য ওর সাথে আমার শুরু থেকেই একটা গভীর বন্ধুত্তের সম্পর্ক হইছিল। একদিন আমরা তিন-চার জন ছবির হাটে বইসা চা খাইতেছি। একটু পরে দেখি একটা ছেলে একটা চিকনা মাইয়ারে সেই ঝাড়ি দিতাছে। মাইয়া কাইন্দা দিবো দিবো এই অবস্থা। এই সব পরিস্থিতিতে মজা নেয়াই শ্রেয়। তো একটু পর দেখি ট্যানারি যাইয়া পোলাডারে সেই থাপ্পড়। ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা পুরাই টাস্কি। ট্যানারির বিপদ ভাইবা আমরাও যখন আগাইতেছিলাম পোলাডা দিছে দৌড়। তো ওই মাইয়া ট্যানারিরে কয় পোলাডা তারে নাকি ওরে ডিস্টার্ব করতেছে। ( আমি মনে মনে কই ডিস্টার্ব করার জন্য তোমারে এই উদ্যানে নিয়া আসছে । না ) তো মেয়ের অনুরোধে ট্যানারি এই অসহায় মেয়েকে বাসায় পৌঁছে দিতে গেলো। হলে এসে আমারে ট্যানারি কয় মামা লাইন তো হয়েই গেলো। আমি তো খুব খুশি যাক ট্যানারির একটা গতি হইল। চিকনা টিকনা যাই হোক। তো ট্যানারির সেইইইই প্রেম চলতেছে। ২ দিন পরপর দেখা করে সারা ঢাকা শহর ঘুরে বেড়ায়। আমি একদিন রাতে ট্যানারিরে কই, " মামা কিছু কি করলা টরলা নাকি না হুদাই ঘুরতাছো। " ট্যানারি তো আমার উপর রেগে পুরাই ফায়ার। কয়, " ওরে নিয়া এই ধরনের কথা বলবি না। ও খুবই ভালো মেয়ে আর ওর ফ্যামিলি খুবই রক্ষণশীল।" ( আমি মনে মনে কই রক্ষণশীল পরিবারের বইলাই তো রাইত কইরা ২ দিন পরপর ঘুরে বেড়ায় ) আমিও ট্যানারির সাথে মাঝে মাঝে যাইতাম। মেয়ে আমারে সুন্দর ভাইয়া ভাইয়া কইরা ডাকে। এরকম আরো মাস দুয়েক গেলো। একদিন সন্ধায় ট্যানারি দেখি পুরাই উত্তেজিত হইয়া রুমে আসছে। আমি কই কিরে কি হইছে। ও হাপাইতে হাপাইতে কয় ও বোলে মাইয়ারে কিস করছে। আমি কই ভালো তো কি হইছে তাইলে। ও কৌ? তখন শুনলাম আসল কাহিনি। ঘটনা হইল কি, " মাইয়া আর ট্যানারি উদ্যানে বইসা ছিল। ট্যানারির নাকি খুব ইচ্ছা করতেছিল ওরে কিস করতে। যাই হোক ট্যানারি নাকি হুট কইরা ওরে একটা কিস করছে। এরপর ভয়ে আর উত্তেজনায় উদ্যানে মাইয়ারে একা রাইখাই ও এক দৌড়ে হলে আইসা পরছে।" আমি এই বলদারে নিয়া যে কি করমু। রাতে দেখি ট্যানারির ১০২ জ্বর। ফোনও অফ। আমি ট্যানারির চিন্তা বাদ দিয়া মাইয়ার চিন্তা করা শুরু করলাম। গতকাল ও ঠিকমতো বাসায় পৌচ্ছে কিনা। নাকি আগের বারের মতো নতুন কাউকে খুঁজে পাইছে। হঠাৎ দেখি আমার মোবাইলে মাইয়ার ফোন। ও বলে, " ট্যানারির মোবাইল অফ ক্যান ওর কি হইছে।" আমি কি কমু। আমি কই, " ওর তো খুব জ্বর ১০২। তুমি ভালো আছো।" মাইয়া দেখি উত্তর না দিয়া রাগে গজগজ করতে করতে ফোনের লাইন কেটে দিলো। দীর্ঘ চার দিন পর ট্যানারির জ্বর একটু কমলো। তখন ট্যানারি সিদ্ধান্ত নিলো কিস দেয়ার জন্য ও এখন মেয়েকে ফোন করে সরি বলবে। তো ফোন অন করলো। দেখি একটা ম্যাসেজ। ওই মাইয়ার । আপনাদের সুবিধার জন্য তা নিম্নে দেয়া হলো,
" আমি এতদিনে ঠিকই বুঝতে পারছি যে তুমি কি চিস। তুমি কি ক্লাস টুতে পরো নাকি এখনও সুজি আর ফিটার খাও। টানা তিন মাস তোমার সাথে প্রেম করলাম, দেখা করলাম, ঘুরলাম। এই এতদিন পর আমাকে একটা কিস করলা। তাও ১০২ জ্বর। তাইলে তো বাচ্চা পয়দা করতে করতে তুমি টাইফয়েড হয়ে মারাই যাবা। আমি অতি অল্প বয়সে বিধবা হতে চাই না। আমি নতুন কাউকে খুঁজে নিবো। তুমি ভুলেও আমাকে কিচ্ছু দেয়ার কথা চিন্তাও করবা না। তোমাকে আমি যে চান্স দিছি এটা যদি ক্লাস সিক্সের একটা বাচ্চাকেও দিতাম তাইলে কি হইত তা তুমি চিন্তাও করতে পারবা না।"
হায়রে রক্ষণশীল পরিবার, হায়রে ভদ্র মেয়ে।
ঘটনা ২ : আমাদের ডিপার্টমেন্টেরই এক বন্ধু আছে নাম তানভির পুরাই একটা মাল। বিতর্ক, আবৃত্তি, অভিনয়, পড়াশুনা সবকিছুতেই সে একশোতে একশো। এমনিতে ট্যানারি ভালোই কারোসাথে তেমন ঝগড়া টগড়া করেনা। একদিন দেখি তানভিরের সাথে খুব ঝগড়া করতেছে। হাতাহাতি না কথা কটাকাটি। আমি যাইয়া দুইজনকে মোটামুটি নিয়া আসলাম। এরপর থেকে এদের মধ্যে কথাবার্তা পুরাই বন্ধ। এর মাসখানেক পরের কথা। ট্যানারি দেখি এক রাতে ফোনে কথা বলতেছে। রাত সাড়ে তিন টার সময় কথা শেষ করলো। দেখি মামায় পুরাই খুশি খুশি। আমি জিগাইলাম ঘটনাটা কি। তার নাকি ফোনে কোন মাইয়ার সাথে পরিচয় হইছে। মাইয়া নাকি খুব ভালো ওরে এমএমএসে ছবিও পাঠাইছে। আমি ছবি দেখলাম সে অপরূপা সুন্দরী। আমি আরো ট্যানারিরে উৎসাহ দিলাম মামা চালাইয়া যাও। এরপর থেকে ট্যানারির খাওয়া নাই ঘুম নাই সারা দিন-রাত কথা। মাইয়ার নাকি পারসোনাল মোবাইল নাই। মায়ের টা দিয়া কথা কয়। তাই শুধু রাতে আর দিনে হালকা কথা বলতে পারে। আমি কিছুই বুঝলাম না ট্যানারি যখনই বাথরুমে যায় তখনই ফোন আসে। আর আমাদের বিখ্যাত ট্যানারি মহাশয় বাথরুম করে আর ফোনে কথা কয়। ক্লাস ও ঠিকমতো করতে পারেনা ট্যানারি। যখনই মিসকল আসে ট্যানারি যে কাজই করুক না ক্যান সে ফোন ব্যাক করবেই। আমাদের ইয়ারের মধ্যে সবাই জাইনা গেলো যে ট্যানারি ফোনে এক মাইয়ার সাথে প্রেম করতেছে। সবাই খুব মজা নেয়া শুরু করলো। আমি ট্যানারির জন্য মোবাইলের কার্ড কিনে রাখতাম। রাতে যখন ট্যানারি কথা কইতে কইতে টাকা শেষ হইয়া যাইত , রাত সাড়ে তিনটার দিকে তো আর বাইরে থেকে টাকা ভরতে পারবে না। আর আমি তখন ট্যানারির কাছে ২০ টাকার কার্ড ৩০ বা কোনও কোনও দিন ৪০ টাকায়ও বিক্রি করতাম। ট্যানারি দীর্ঘ ৬ মাস তার ফোনালাপ চালিয়ে যেতে থাকলো। এর মধ্যে ওই মেয়ের সাথে ট্যানারি বিয়ে,দেখা হইলে কি করবে, এমনকি বাচ্চাদের নামও ঠিক করে ফেলছে। ওই মেয়ের জন্মদিনের দিন ট্যানারি আমাদের নান্নার বিরিয়ানিও খাওয়াইছিল। এরই মধ্যে একদিন কথায় কথায় বলেই ফেললাম যে তানভীরই ওর সাথে এতদিন মেয়ে সাইজা কথা কইছে। তানভির অভিনয়, আবৃত্তির সুবাদে মেয়ে কণ্ঠে ভালোই কথা কইতে পারতো। হায়রে এই কথা জানার পর ট্যানারি কি ছ্যাকাটাই না খাইল। আমরা সবি জানতাম সবাই ওর সাথে মজা নিতো কিন্তু বলদা ট্যানারি কিছুই বুঝেনাই। এই ঘটনার পর ট্যানারি অনেক দিন আমার সাথে রাগ করে ছিল।
ঘটনা ৩ : এটা ট্যানারির কোনও প্রেমের কাহিনী না এটা একটা মেয়ে ঘটিত ব্যাপার। আমার এক বন্ধু আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। নাম মোবারক। একদিন হাতে কোনও কাজকাম নাই তো ট্যানারিরে কইলাম চল জগন্নাথ থেইকা ঘুইরা আসি। যেই কথা সেই কাজ। তো জগন্নাথে যাইয়া শহীদ মিনারের সামনে বইসা আড্ডা দিতাছি। পোলাগো আড্ডা তো বোঝেনই। এক কথা দুই কথায় তা মাইয়া প্রসঙ্গে চইলা গেলো। এমন সময় সামনেই দেখি চারটা মাইয়া আসতেছে। তিন তা মোটামুটি একটা পুরাই ঝাক্কাস। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্যানরি ব্যাড কমেন্ট করে ফেললো। মাইয়া দেখি আড় চোখে তাকাইয়া আছে। একটু পরেই দেখি ২০-২৫ টা পোলাপান আসতেছে আমাদের দিকে। আমি তো সাথে সাথে বুইঝা ফেলছি যে ট্যানারি আবার ঝামেলায় ফালাইছে। মাইয়া গুলাও দেখি আসতেছে। সবাই আইসাই তো ঝাড়ি শুরু করছে। আমি, মোবারক যতই ঠাণ্ডা করতে চাই না ক্যান তারা কিছুতেই কিছু শুনবে না। ট্যানারি দেখি ফ্যালফ্যাল কইরা ওই সুন্দর মাইয়ার দিকে চাইয়া আছে। অবস্থা বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে দেখে আমিও পরিচিত কিছু বড় ভাইকে ফোন দিলাম। তারা আসলে পরিস্থিতি কিছুটা ঠাণ্ডা হইলো। তখন ওই সুন্দর মাইয়াটা ট্যানারির দিকে তাকাইয়া কইলো, " কি ষাড়ের মতো ওমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছেন ক্যান। শিক্ষা হয়নাই।" তখন ট্যানারির সোজাসাপ্টা জবাব, " গাভীন গাই দেখলে ষাড় তো তাকাইয়াই থাকবে।" বুঝুন ঠেলা। শালা ট্যানারির জন্য আর কতো বিপদে যে পরবো।
রম্য পোস্ট : ঢাবির হলের কিছু অদ্ভুতুরে মানুষ (পর্ব ২)
রম্য পোস্ট : ঢাবির হলের কিছু অদ্ভুতুরে মানুষ (পর্ব ১)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



