পঁচিশে মার্চের কালো রাতে শহীদ স্মরণে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় আলোচনা সভার। সভা শেষে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির নেতৃত্বে মোমবাতি হাতে সবাই আলোর মিছিল নিয়ে যায় জগন্নাথ হলের দিকে যেখানে আছে কালরাত্রিতে নিহত শহীদদের গণকবরে নির্মিত সৌধ। সেখানে আলো জ্বেলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসার চিহ্ন রেখে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের শপথ নেয়ার মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়। `স্লোগান ৭১` এর আয়োজনে সেখানে একাত্তরের সেই রাতের আবহ তৈরি করা হয় যার মাধ্যমে সবাই যেন ফিরে যায় সেই কাল রাতে।
পুরো আয়োজনের কয়েকটি বিষয় যেগুলো এক অর্থে এই আয়োজনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে আমার মনে হয়েছে।
শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি সারিবদ্ধ ভাবে সমবেত কণ্ঠে দেশাত্ববোধক গান গাওয়ার মাধ্যমে শুরু হলেও কয়েক কদম যেতে না যেতেই সবাই বিক্ষিপ্ত হয়ে এলোমেলোভাবে হাঁটতে শুরু করে। কেউ কেউ এমনকি নিজেদের মাঝে ঊচ্চঃস্বরে গল্প করতে শুরু করে!
একটু সামনে যেতেই মিছিলের মাঝ থেকে স্লোগান দেয়া শুরু হয় `জয় বাংলা` বলে। পুরো মিছিলের মাঝে জনাকতক মানুষের একটি বিশেষ দল শ্লোগান দিতে থাকে এবং বাকিদের কেউই এতে গলা মেলায়নি। মিছিলের পরে,কেউ কেউ মিছিলের মাঝেই এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
মিছিলে মধ্যবয়স্ক বাবার হাত ধরে হাঁটছিলো একটি মেয়ে। সে এসেছিলো আলোর মিছিলে অংশ নিতে। কিন্তু আমাদের তথাকথিত সমাজ তাকে উপহার দেয় তার অনেক কালো দিকের একটি।
তাঁরা হাটছিলো মিছিলের একপাশ দিয়ে।কিছুপরে চার-পাঁচজন ছেলে তাঁদের পিছনে হাঁটতে শুরু করে। তাঁরা পুরোটা সময় তাদের পিছু লেগে থাকে এবং বাজে সব মন্তব্য করতে থাকে।
............................................................................................................................................................................................................।
ঘটনাটার সমাপ্তি দু`রকম হতে পারে:
সমাপ্তি ১: মেয়েটি তাঁর বাবার হাত ধরে মুখ নিচু করে হাঁটছে। তাঁর চোখের কোণে নোনা ছবি।সমাজের অন্ধকার তাঁর মুখে এঁকেছে নোনা ছবি।
মেয়েটির বাবাও হাঁটছেন কিন্তু অপমান আর গ্লানি তাঁকে বারংবার থমকে দিচ্ছে। এ অপমান ব্যার্থতার। এ গ্লানি দেশকে স্বাধীন করার। তিনি পারেননি আলোর ছোঁয়ায় সব অন্ধকার দুর করতে।তিনি পারেননি।
সমাপ্তি ২:
বাবা শান্ত অথচ দৃঢ় পায়ে এগিয়ে চলেছেন সামনে, সন্তানের হাত ধরে। আর একবার, আরো একবার তিনি পেরেছেন অগ্নি শিখায় সকল অশুভকে পুড়িয়ে সময়কে শুদ্ধ করতে। তিনি তাঁর এবং আরো লাখো সন্তানের পথকে আরো একবার আলোকিত করতে। মেয়েটি হাঁটছে বাবার হাত ধরে, যে হাত তাঁর আশ্রয়, তাঁর শক্তি। মোমের আলো তাঁর চোখে মুখে পরম মমতায় এঁকে দিচ্ছে স্বাধীনতার অপূর্ব, মায়াময় ছবি।
...........প্রিয় পাঠক, স্বাধীনতার সূ্র্য সকালে সমাপ্তিটা বেছে নেয়ার দায়িত্ব আপনাদের কাছেই রইল।।
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।