somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সূরা আল ফাতিহা'র তাফছির

২৭ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

تفسير سورة الفاتحة

সূরা আল ফাতিহা'র তাফছির

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
আমি মহান আল্লাহর নামে এবং তার সাহায্য কামণা করে শুরু করছি,যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।
(1)الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর তা'আলার জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক, যিনি আসমানসমূহে ও জমিনের সকল স্থানে সকল সময় প্রশংসিত। অর্থাৎ যার প্রশংসার তাছবিহ পাঠ করে বিশ্ব জগতের সকলে। আর প্রশংসা হল পরিপূর্ন ভালবাসা ও সম্মানের সাথে গুণগান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, যা পূর্নাঙ্গরুপে পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলা-ই। আর যে সমস্থ কারণে আল্লাহ তা'আলার এই প্রশংসা প্রাপ্য, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে; তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। তিনি বিশ্ববাসি কে প্রতিপালন করেছেন তার নেয়ামতসমূহ দ্বারা। তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, খাদ্য দিয়েছেন এবং নেয়ামতসমূহ দ্বারা রক্ষা করেছেন, যা মহান আল্লাহর পূর্নাংতার ইংগিত করে, এবং তিনিই যে সম্মানের যোগ্য ও বান্দার ডাকে সারাদানকারি এই কথা বলে দেয়।
(2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। অর্থাৎ যার রহমতের ব্যপ্তি মানুষ (মুমিন/কাফির), জ্বিন, পশু-পাখি সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করে। তিনি স্বয়ং পরম দয়ালু এবং তার সকল সৃষ্টি বিভিন্নভাবে তারই দয়া দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে আছে।
(3) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
যিনি বিচার দিনের মালিক। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার কামালিয়াত (স্বয়ংসম্পূর্ণতা) এবং প্রশংসিত হওয়ার অন্যতম কারণ হল; তিনি বিচার দিনের মালিক। আর বিচার দিন হল কিয়ামত দিবস, যে দিবসে কোন মানূষ অপর কোন মানূষের কোন কাজে আসবে না, এমনকি কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্যেও কোন কিছু করতে পারবেনা। বরং সেদিন সর্বময় ক্ষমতা থাকবে আল্লাহর। আর কিয়ামত দিবসের মত দীর্ঘ ও কঠোর দিবসে যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তিনি দুনিয়ার সকল ক্ষমতার অধিকারী।
(4) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِين
আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। অর্থাৎ আমরা আল্লাহ ব্যতিত আর কারো উদ্দেশ্যে কোন ধরনের ইবাদত করিনা, চাই সে ইবাদাত দোয়া-ই হোক, বা নামাজ, রোজা, মান্নত, ক্বোরবানী কিংবা অন্য যে কোন ইবাদাত হোক, সে ইবাদত আমরা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করি। কেননা তিনিই তা পাওয়ার একমাত্র যোগ্য। আর একমাত্র আল্লাহর কাছেই আমরা সাহায্য চাই, তারই উপর ভরসা করি, দৈনন্দিন জীবনে চলার সকল পাথেয় তিনিই দান করেন, আর সকল পাথেয় বা উসীলা তার সৃষ্টিরই অংশবিশেষ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া একটি ইবাদত।
(5) اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
আমাদের সরল পথ দেখাও। অর্থাৎ আমরা ঈমান আনার পর এবং আপনাকে সম্মান প্রদর্শন করার কর আপনার কাছে এটাই চাই যে, আপনি আমাদেরকে দ্বীনের সহজ সরল পথ, যে পথে কোন বক্রতা নেই, তা প্রদর্শন করুন, আর তার ঊপর অটল থাকার তৌফিক দান করুন। কেননা আরবী "হেদায়াত" শব্দটি কখনো পথ প্রদর্শনকে বুঝায়, আবার কখনো পথ চলার ক্ষমতাদানকে বুঝায়। আর এ দুই জিনিসই একমাত্র আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়।
(6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
সে সমস্থ লোকের পথ যাদেরকে তুমি নে'য়ামত দান করেছো। অর্থাৎ ঐ সমস্থ লোকের পথ যাদের প্রতি আপনি এই মহা নেয়ামত (হেদায়াত) দান করেছেন। আর তারা হলেন নবীগণ, সিদ্দীক্বীনগণ, শহীদগণ এবং ন্যায়পরায়ণ উত্তম বান্দাগণ। উপরোক্ত আয়াত এই কথাও বলে দেয় যে, হেদায়াত আল্লাহ প্রদত্ত অন্যতম একটি নেয়ামত, যে নেয়ামত শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই চাওয়া হয় এবং আল্লাহ ছারা আর কেউ তা দিতে পারেওনা।
(7) غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّين
তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং তাদের পথেও নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ আর আমাদেরকে ঐ সমস্থ লোকদের পথ থেকে দূরে রাখুন যাদের ঊপর আপনার গজব অবর্তির্ণ হয়েছে, যেমন ইহুদিরা যারা তাদের নবী মুসা (আঃ) এর আনুগত্য থেকে বিরত হয়ে আল্লাহর সাথে শিরক(ইবাদাতে অংশিদার স্থাপন) করেছিল, আর আমাদের নবী কে অস্বিকার করেছিল অথচ তারা জানত যে, মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য নবী যা তাদের কিতাবে উল্লেখিত ছিল। সুতরাং তারা যা জানত তা কাজে লাগায়নি।
আর আমাদেরকে ঐ সমস্থ লোকের পথ থেকে দূরে রাখুন যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, যেমন নাসারারা (খৃষ্টানরা) তারা তাদের নবী ঈসা (আঃ) এর আদর্শ থেকে দূরে সরে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছে। এমনকি তারা ঈসা (আঃ) কে আল্লাহর ইবাদতে শরিক করা শুরু করে দিয়েছে, তারা ধরে নিয়েছে যে, ঈসা হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ, অথচ এটা তাদের নিজেদের বানানো কথা ছাড়া আর কিছু নয়।
**সূরা আল ফাতিহাকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার প্রত্যেক নামাজে পড়া আবশ্যক করে দেয়া হয়েছে। এই সূরা আল্লাহ তা"লার রাবুবিয়াত (প্রভূত্ব), মাহাত্ত্ব, বিশ্বের সবকিছুর ঊপর তার কতৃত্ত, এবং সব ধরনের ইবাদতের তিনি একমাত্র যোগ্য এসবই বর্ণনা করে। আরো বর্ণনা করে যে আল্লাহর কাছে সাহায্য এবং হেদায়াত চাওয়ার গুরুত্ব অপরিসিম।যেহেতু এই সূরাতে এই মহান দোয়া (আমাদের সরল পথ দেখাও) কে অন্তর্ভূক্ত করে দেয়া হয়েছে, তাই প্রত্যেক বান্দা নামাজে এই সূরা পাঠ করার পর "আমীন" বলবে। "আমীন" অর্থ হ্ল "হে আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করুন"।

১০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×