
বৃষ্টি আর বৃষ্টি!!
হাতে কোন কাজ নেই আমার!
কথায় আছে, নেই কাজ তো খই ভাজ! কিন্তু খই ভাজা আদতে সহজ নয়!
সহজ বরং কাগজ কলম নিয়ে যেন-তেন কিছু লেখা!
কিন্তু কি লিখবো!! জনগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কোন বিষয়?? না-না, সেসব নিয়ে লেখা যেন-তেন লেখার পর্যায়ে পড়ে না মোটেই!
কি করা যায় তাহলে?
তাহলে গল্প লিখি বরং!!
বাঘের গল্প!!
এক দেশে ছিলো এক বাঘ। বনে থাকতো না সে। থাকতো নগরে।
নগর?? না-না, নগর নয়, মহানগর!
বাঘটি থাকতো মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে। তবে প্রাণকেন্দ্রে থাকলেও বাঘটি কিন্তু ছিলো প্রাণহীন। সেই প্রাণহীন বাঘ একদিন কেড়ে নিলো একজন গরীব মানুষের প্রাণ!
অদ্ভুত কাণ্ড তো!
কিছুটা নড়েচড়ে বসলো মহানগরের অধিবাসীরা। জানা গেলো, মহানগর ঢাকার কারওয়ান বাজার মোড়ে সড়কদ্বীপে ইট-পাথরে নির্মিত যে বৃহদায়তন প্রাণহীন বাঘটি ছিলো, সেটি উল্টে পড়েছে একজন ভ্যানচালকের ওপর। এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন সেই গরীব মানুষ।
খানিকটা ভিন্ন স্বাদের খবর!! পরিবেশনের পুঁজি হিসেবে একেবারে মন্দ নয়!! বিভিন্ন ধরনের গণমাধ্যমের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সামান্য আয়ুষ্কালের বুদ্বুদের মতো একটুকরো সংবাদ হয়েই মিলিয়ে গেলো ঘটনাটি পুনরায় মহানাগরিক ব্যস্ততায়!!
বাঘের গল্প ফুরোলো!!
এবং ফুরিয়ে যাওয়া গল্প নিয়ে ভাবার সময় কোথায় কাজের চাপে ব্যস্ত মানুষের!! কাজমুখর জীবনে যেখানে নতুন গল্পের শেষ নেই, সেখানে কি করে স্থান পাবে ফুরিয়ে যাওয়া গল্প পুনরায়!!
কাজ আর কাজ!! কিন্তু আমার যে হাতে কাজ নেই কোন!!
তাই আমি ভাবতে থাকি ফুরিয়ে যাওয়া গল্পের কথা!!
আচ্ছা!! মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য স্থাপিত একটি কৃত্রিম বাঘ কেন উল্টে পড়ে যায়?
আচ্ছা!! বাঘ উল্টে পড়ে যাওয়ার নেপথ্যে ক্রিয়াশীল কি কোন নির্মাণত্রুটি?
আচ্ছা!! কিছুদিন আগে একটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবন-নির্মাণজনিত অব্যস্থাপনা-সূত্রে আশেপাশের এলাকায় যে ব্যাপক ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হয়, সে কারণেই কি পতনঝুঁকির মুখে পড়ে বাঘটি?
আচ্ছা!! যতদূর জানা যায়, ২০১০ সালে এই বাঘটি স্থাপন করেছিলো বাংলাদেশ পাবলিসিটি নামের বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং বাঘটি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিউটিফিকেশন সেল!! আচ্ছা, যথাযথ কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাবেই কি পতন হয়েছে বাঘটির?
ইট-পাথরে নির্মিত একটি বাঘের পতন তেমন কোন বড়ো ঘটনা নয়!! যেখানে প্রাচীন রোমের মতো পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, কালের গর্ভে বিলীন হয় ইংরেজদের ‘একদা সূর্যাস্ত না যাওয়া’ সুবিশাল রাজত্ব, ভেঙে পড়ে সমাজবাদী আদর্শে গড়া সোভিয়েট ইউনিয়ন, সেখানে প্রাণহীন একটি বাঘের পতন নিয়ে ভাবনা কর্মহীনতার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ!!
কিন্তু প্রাণহীন বাঘের পতনে একজন ভ্যানচালকের প্রাণ গেলো যে!! তার দায় কি কোন কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তাতে নেই!! থাকতে নেই ন্যুনতম ক্ষতিপূরণ প্রয়াস প্রয়াত গরীব মানুষটির পরিবারের জন্য!!
গরীব ‘মানুষ’!!
‘মানুষ’ শব্দটি ঠিক যেন মানানসই মনে হচ্ছে না ‘গরীব’ শব্দটির পাশে!!
‘মানুষ’ শব্দটি বাদ দেয়া যাক বরং! লেখা যাক, ‘একদা এক প্রাণহীন বাঘের পতনে প্রাণ হারিয়েছিলো একজন গরীব’!
আচ্ছা!! গরীবের প্রাণ গেলে কি হয়??
পিঁপড়ের প্রাণ গেলেই বা কি হয়??- কিছুই হয় না!!
গরীবের প্রাণ গেলেও কিছুই হয় না!!!
সংবাদ সূত্র: ‘বাঘের ভাস্কর্যের চাপায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের’ দৈনিক প্রথম আলো, আগস্ট ২২, ২০১৫
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



