বাংলাদেশের ৪৪ বছরের জীবন দুই ভাগে বিভক্ত, ১৯৭২ সাল থেকে শেখ সাহেবের মৃত্যু অবধি বাংলাদেশ চলছিল শেখ সাহেবের মতানুসারে, ছয়দফা (হয়তো) ও বাকশালের তত্বানুসারে; ১৯৭৬ সাল থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ চলছে জিয়ার ভাবনাকে অনুসরণ করে; এখন শেখ হাসিনাও জিয়ার পথ ধরে চলেছেন; শেখ হাসিনা কিন্তু উনার বাবার শেষ ভাবনা, 'বাকশালে' ফেরত যাননি, বাবাকে অনুসরণ করছেন না, তিনি জিয়ার রেখে যাওয়া পথেই চলছেন আজ অবধি।
জিয়া সম্পর্কে কোন বই কেহ লিখেছেন কিনা জানি না; লিখলে ভালো, অবশ্যই ভুলের ফসল হবে নিশ্চয়। জিয়া কি ছিলেন, কি করতে চেয়েছিলেন, জিয়া কাউকে বলেননি; 'জিয়ার আদর্শ' বলে যা উচ্চারণ করা হয়, উহা মানুষের আবিস্কার, জিয়া সেই রকম কোন কিছুর কথা বলেননি; উনি বিএনপি গঠনের সময় ১৯টি দফানুসারে বিএনপি কাজ করার কথা লিফলেটে যোগ করেছিলেন; সেগুলো লিখেছিল ডিজিএফআই, কিছু মিলিটারী অফিসার ও উনার পায়ের নীচে জমা হওয়া ভাঁড়েরা।
১৯৭১ সালের ২৭ শে মার্চ মানুষ জিয়ার গলায় স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র পাঠ শুনেছিলেন; এরপর উনি যুদ্ধে ছিলেন ১৬ই ডিসেম্বর অবধি; তিনি সামান্য সময়ের জন্য ১ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন; কিন্তু বেশীরভাগ সময় ফ্রন্টে থাকায়, সৈনিকেরা ব্যতিত অন্য মানুষ উনাকে দেখেননি। মেজর রফিক ১ নং সেক্টরের কমান্ডার হওয়ার পর, মেজর রফিককে কমপক্ষে ২২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা দেখেছেন ত্রিপুরার হরিণায়; কিন্তু এই ২২ হাজারও মেজর জিয়াকে দেখেননি; যদিও তিনি বেশ কয়েকবার হরিণায় যাওয়া আসা করেছেন। হরিণা থেকে ৩০/৩৫ মাইল দুরে, 'পংবাড়ীতে' ছিল মেজর জিয়ার 'জেড ফোর্সের' হেড কোয়ার্টার। যুদ্ধ চলাকালীন মেজর জিয়া ওখানে খুবই কম গিয়েছেন।
চাঁদগাজী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, মেজর জিয়া একাধারে কয়েকদিন পংবাড়ীতে ছিলেন; তখন সৈনিকেরা উনাকে কাছের থেকে দেখেছেন, কিছুটা জেনেছেন!
মেজর জিয়াকে যাঁরা ঘনিস্টভাবে জানতেন, তাঁদের অনেকই আজ নেই, মেজর শওকত, ক্যা: মাহফুজ, ক্যা: শামসু, ক্যা: হামিদ এঁরা নেই; জীবিতদের মাঝে আছেন, মেজর রফিক, ক্যা: ভুঁইয়া, ক্যা: ওলি, ক্যা: এনাম, লে: খালিদ; এঁদের মাঝে ক্যা: ওলি বিশ্বাসযোগ্য লোক নন; লে: খালিদ খুবই ইমোশানেল ছিলেন; ক্যা: ভুঁইয়ার মানসিক রোগ দেখা দিয়েছিল যুদ্ধের ভেতর। বাকী রলো মেজর রফিক ও ক্যা: এনাম; ক্যা: এনাম মুখ খোলার লোক নন।
মেজের রফিক আও্য়ামী রাজনীতি করেন; রাজনীতিবিদ হিসেবে উনি মেজর জিয়ার সম্পর্কে কিছু বললে মানুষ হয়তো সঠিক কিছু জানতে পারতেন। নিশ্চয় খালেদা জিয়া, ডা: বদরুদ্দোজা, সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ সেলিম, নাসিম, বা দিপুমনি মেজর জিয়াকে জানা, বা চেনার কথা নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

