প্রেসিডেন্টের উচিত, সরকারী ইউনিভার্সিটি ও সরকারী কলেজগুলোর হলের ম্যানেজমেন্ট মিলিটারীর হাতে তুলে দেয়া।
গত ৩০ বছর থেকে সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ের হলগুলোর মালিকানা চলে গেছে ছাত্রনেতা বা পান্ডাদের হাতে; ছাত্র জীবনেই কোটি টাকা আয় করেছে শত শত পান্ডা। আমার মনে হয়, ড: এমাজুদ্দিন সাহেব ভিসি হয়েছিলেন আমান উল্লাহ আমানের রিকমেন্ডশন নিয়ে। চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি ও চট্রগ্রাম কলেজের হলগুলোর ম্যানেজমেন্ট এখনো আংশিকভাবে শিবিরের হাতে; বাকী ইউনিভার্সিটগুলোর হলের ম্যানেজমেন্ট ছাত্রলীগের হাতে; ছাত্রদলও নিশ্চয় পরোক্ষভাবে যুক্ত আছে।
এ ব্যাপারগুলো এখন প্রতিস্ঠিত, এগুলোকে সমস্যা হিসেবে আর দেখা হয় না। তার ফলাফল জাতি পাচ্ছে, হলের বারান্দায় ঘুমায়ে যিনি বড় পুলিশ অফিসার হচ্ছেন, বড় ব্যুরোক্রেট হচ্ছেন, বড় প্রশাসক হচ্ছেন, তিনি সুযোগ পেলে দেখিয়ে দিচ্ছেন জাতিকে।
একটা ইউভার্সিটির কিছু ছাত্র যখন বারান্দায় ঘুমাচ্ছে, ভিসি ও হলের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের জন্য এর থেকে বড় সমস্যা থাকার কথা নয়; এবং একটা ইউনিভার্সিটির জন্য এ ধরণের সমস্যার সমাধান বের করা অসম্ভব নয়। সেদিন শিক্ষকেরা নিজেদের স্কেলের জন্য ক্লাশ বর্জন করলেন, অথচ বারান্দায় ঘুমানো ছাত্রদের জন্য হলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রতীকি মানব বন্ধনও করলেন না! এগুলোর একজনও শিক্ষক নন, এদের পিএইচডি'র এক পয়সাও মুল্য নেই, এরা সাদা, কালো, লাল, নীল, গোলাপী শিয়াল মাত্র; এরা প্রাইভেট ইউনিভার্সিতে পড়ায়ে নিজ ইউনিভার্সিটির কোন কিছুর খোঁজ নেয়ার সময় পায় না।
বাজেটের বাইরে সরকারের হাজার বাজেট আছে, প্রাইম মিনিস্টারের ফান্ড আছে, প্রেসিডেন্ট একদিন ফান্ড রেইজিং করলে, বারান্দার ছেলেরা অনায়াসে কোথায়ও ঘুমানোর যায়গা পাবার কথা; বংগবন্ধু পরিষদের থেকে এসে ভিসি হওয়া সহজ, সমস্যা সমাধান করা সহজ নয়; আসল ভিসি হতে হলে আইনস্টাইন পরিষদের সদস্য হওয়া দরকার।
শীতকালে বারান্দায় ঘুমায়ে, নিমোনিয়া হয়ে গরীবের ছেলেটা মারা গেলো, কারো কোন ক্ষতি হয়নি; সে পড়ালেখা করে হয়তো বেকার হতো একদিন; পরিবারটি একাই সব হারালো, নাহিদ কিছু হারায়নি, চ্যানচেলর প্রেসিডেন্ট কিছু হারায়নি; এবং এই মৃত্যু থেকে কিছু শিখার অবস্হানেও নেই হয়তো উনারা।
বাংলাদেশে এখন টাকা কোন সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে বড় চাকুরীতে ছোট মাথা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



