
কাজ উপলক্ষ্যে ভ্রমন করতে হয়; ফ্লাইট ছিল রাশিয়ার লেনিনগ্রাড হয়ে; বরফ-ঝড়ের কারণে লেনিন গ্রাডের ১০/১১ টা ফ্লাইট হেলসিনকিতে অবতরণ করেছে; কোথায়ও তিল ধারনের ক্ষমতা নেই, মানুষ আর মানুষ। রাতে নেমেছিলাম, বসার মত যায়গা নেই; হোটেলের চেস্টা করলাম, আশেপাশে কোথায়ও কিছু খালি নেই। যে মেয়েটি হোটেলের সিট দেখছিলো তাকে অনুরোধ করলাম কিছু পেলে জানাতে। চার ঘন্টার মতো জানালার পাশে দাঁড়ায়ে রাতের এয়ায়পোর্টের কার্যক্রম দেখলাম; লবিতে হাজার খানেক মানুষ, তরুণ, যুবা, বাচ্ছা, বৃদ্ধ, তবুও পুরো এলাকা মোটামুটি শব্দহীন। প্রায় শেষ রাতে, হোটেল রিজারভেশনের মেয়েটি এসে ফিসফিস করে বললো যে, বাইরে একটি সাটল টেক্সী আমার জন্য অপেক্ষা করছে, হোটেলে একটা সীট পেয়েছে।
বাংলাদেশে আসছি, কুয়েতে পৌঁছতে দেরী হলো, বাংলাদেশের কানেকটিং কুয়েতী ফ্লাইট চলে গেছে; সাথে অনেক ভারতীয় ছিল, তাদের ডেকে প্রথমে দিল্লি ও পরে বোম্বের যাত্রীদের কানেটিং ফ্লাইট দিলো কুয়েতী ও ভারতীয় প্লেইনে; বাংলাদেশী, সবে মিলে আমরা ৩০ জনের মতো; আমাদের জানালো ২৪ ঘন্টা পর কুয়েতী ফ্লাইট ধরতে হবে; মহুর্তে বিপ্লব শুরু হয়ে গেলো। যে মহিলা এগুলো নিয়ে কাজ করছেন, উহা আরবী হবেন, উনি হাত-পা নেড়ে বললেন কথা শেষ, হোটেলের ব্যবস্হা আছে, এর বাইরে কিছু করা হবে না; কার কথা কে শোনে, ৩০ জনের ৩০ ধরণের সাজেসানে এলাকা গরম হয়ে উঠলো। আমি চুপ করে, অবস্হা বুঝার চেস্টা করছিলাম; এক মহিলা বললেন, "দেখলেন, ভারতীয়রা প্রতিবাদ করতে জানে বলে, কানেকশান দিয়ে দিলো, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি না"। ৩০ জন এয়ারপোর্ট গরম করে ফেলেছেন, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি না?
ডিপারচার তালিকায় দেখলাম একটি বাংলাদেশী প্লেইনের ফ্লাইট ঢাকা যাচ্ছে ১ ঘন্টার ভেতর; এক সুপারভাইজারকে আমাদের কাহিনী বললাম, সে শিক্ষিত ইন্দোনেশিয়ান; সে যোগাযোগ করার শুরু করলো, আমাকে আশা দিলো; ২ মিনিট পরে বললো যে, আমাদের পাঠাতে পারবে ঢাকায়, কিন্তু বাক্সপেটারা উঠানোর জন্য যে পদ্ধতি, তাতে কোনভাবেই আমাদের বাক্সপেটারা সিকিউরিটি হয়ে, বাংলাদেশী প্লেইনে উঠবে না; আগামীকাল ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে সংগ্রহ করতে হবে। আমাি হতাশ হয়ে হোটেলে যাবার জন্য বাকী বাংগালীদের দলে যোগ দিলাম। ইতিমধ্যেই, তাদের অনেকই বাংলাদেশী ফ্লাইটের কথা জেনেছেন, সেটা নিয়ে আরবী মহিলার সাথে চীৎকার দিয়ে চলেছে; মহিলা, কি জানে, কি জানে না, বুঝা মুশকিল; কিন্তু সে বলে যাচ্ছে, "কিছু শুনতে চাইনা, হোটেলে যাও"। ৩০ জন বাংগালী ও এক আরবী মহিলার চীৎকারে ৫/৬ জন সিকিুরিটির লোক এসে উপস্হিত; উহারা সবগুলো আরবী, প্রথমেই সবাইকে ঠেলে আফিসের জানালা থেকে দুরে নিয়ে গেলো।
আগামীকালের ফ্লাইটের জন্য আমার বোর্ডিং কার্ডের দরকার, অফিসে দিকে যেতে চাইলাম, এক সিকিরিটি বললো যে, বাসের দিকে যেতে; আমি বুঝাতে চাইলাম, আমার বোর্ডিং কার্ড দরকার; সে কিছুতেই অফিসের দিকে যেতে দিলো না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



