
ফালু যখন এরশাদের আমলে বিএনপি'তে পরিচিত হন, তখন তিনি সরকারী ভবন, সরকারী সম্পত্তিসমুহ পরিস্কার রাখার ঠিকাদারী করতেন; আব্বাস, খোকার মতো লোকদের সাথে পরিচয় থাকায় খুবই ভালোভাবে চলে যাচ্ছিলেন; এরপর তিনি পরিচিত হন বেগম জিয়ার সাথে; তখন ঠিকাদারীতে যোগ হয়, ' (এনলিস্টেড) সরকারী সাপ্লায়ার' হিসেব; বেগম জিয়া ক্ষমতায় আসার পর, ফালু হয়ে যান শিল্পপতি, এটা ছিলো বাড়তি সুবিধা দখল, তিনি সিরামিকের মালিক হন; এ অবসহায় উনি মোটামুটি ইন্জিনিয়ারদের ও টেকনোলোজীর লোকদের সুযোগকে কেড়ে নেন। এর পর, ফালু প্রবেশ করে মিডিয়া ও টেলিভিশনে; এবার তিনি হাইটেক ও মিডিয়ার লোকদের সুযোগ দখল করেন; এর থেকে বড় কাজ হলো যখন তিনি এমপি হলেন, স্বয়ং ড: কামাল হোসেনদের সুযোগ কেড়ে নেন। ফালুর এর থেকে বড় প্রজেক্ট ছিল স্টক-মার্কেটে দুস্ট ব্রোকারেজদের সাথে কাজ করে, প্রায ২০ লাখ ছোট বিনিয়োগকারীদের সুযোগ দখল করে তাদের পথে বসান।
ঠিকাদার থাকতেই তিনি ভালো ছিলেন, উনার পরিবার ভালোই চলছিলো; ১৭ কোটীর মাঝে এটি উনার মতো পড়ালেখা-জানা মানুষের প্রাপ্য সুযোগ হিসেবে যথেস্ট ছিল; এরপর, যতটুকু নিয়েছেন, সবগুলোই অন্যের সুযোগ দখল করেছেন; উনি কমপক্ষে ২০ লাখ বাংগালীর সুযোগ দখল করে নিয়েছেন। ফালু একটা উদাহরণ মাত্র; বাংলাদেশে এখন ৫০ হাজার ফালু আছেন, যারা অন্যের সুযোগ দখল করে ফেলায় বিশাল পরিমাণ মানুষ নিজের সুযোগ হারায়েছেন।
বসুন্ধরা মানুষের সুযোগ, সরকারী জমি, মানুষের জমি ও সরকারকে দখল করে কোটী কোটী মানুষের সুযোগ কেড়ে নিয়েছে বা সীমিত করে দিয়েছে। বসুন্ধরা থেকে বড় বাসস্হান কোম্পানী ভারতেই কয়েকটা আছে, তা'হলে বসুন্ধরাকে দায়ী করা কেন? ভারতের মতো মাথাপিছু জমি আমাদের নেই; আমাদের প্রতি বর্গমাইলে বাস করেন ৩ হাজার মানুষ, ভারতে বাস করে ৩৪০জনের মতো, যেখানে প্রতি বর্গমাইলে ১০০ জন মানুষ বেড়ে গেলে বড় ধরণের অর্থনৈতিক ও নাগরিক বিপয্যয় ঘটতে পারে। ভারতের মানুষ আমাদের থেকে শিক্ষিত হওয়ায় ওরা বিশ্বব্যাপী চাকুরী পায়; সবচেয়ে বড় কথা, ভারতে 'সুযোগ দখল' আমাদের থেকেও খারাপ স্তরে আছে, এবং ভারতে সুযোগ বন্চিতরা মুখও খুলতে পারে না।
কোন লেভেল পার হওয়ার পর, ফালু বা বসুন্ধরা অন্যদের সুযোগ দখল করছে? এটা লেভেলটা কে ঠিক করার কথা, কিসে ভিত্তিতে? এই লেভেল ঠিক করার কথা সরকারের, এতে ব্যবহার করার কথা দেশের 'হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স'; এটা নাসিম, মেনন, ইনু, বা মাল'দের ব্যাপার না; এ জন্য দরকার খুবই দক্ষ একদল অর্থনীতিবিদ ও ফাইন্যান্সের লোকজন, যারা ১৭ কোটীর প্রত্যেককে চোখে দেখতে পাবেন, এবং প্রত্যেকের জন্য গড়ে কমপক্ষে ১টি সুযোগের সৃস্টি করতে পারবেন।
আমাদের নিজের সুযোগটুকু রক্ষার জন্য, আমাদের সকল নাগরিকের সুযোগটুকু রক্ষার জন্য, আমদেরকে রাজনীতি করতে হবে; এবং সরকারের রাজনীতি ও পদক্ষেপগুলোকে 'নাগরিক সুযোগের' স্কেলে ও অর্থনীতির স্কেলে মাপতে হবে। বর্তমান সময়ে, ড: কামাল হোসেন যদি ফালুর কাছে একটা সুযোগ হারায়, উনি আরো ১০টা সুযোগ নিতে পারবেন; একজন এমপি যদি বসুন্ধরায় কম দামে প্লট না পায়, উনি উত্তরায় পাবেন; কিন্তু ১৭ কোটীর মাঝে ১২ কোটীর সেই সুযোগ নেই, নিজের সুযোগটা হারালে, এঁরা ২য় সুযোগ পান না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



