
শেখ সাহেবের জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ হলো, কবি নজরুল ইসলামকে কলিকাতার অবহেলিত ও দৈন্যতার জীবন থেকে মুক্তি দেয়া, ঢাকায় নিয়ে আসা, কবি শান্তির মুখ দেখে গেছেন জীবনের শেষদিনগুলোতে; পাকিস্তান আমলে কারো মাথায় আসেনি কবিকে পুর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসার কথা, তা'হলে কবির অসুস্হ স্ত্রী প্রমিলা দেবীও সামান্য শান্তি পেতেন; যাক যা হয়নি, তা নিয়ে মন খারাপ করে লাভ নেই।
শেখ সাহেবের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল, বিনা বেতনের ভলনটিয়ার মুক্তিযো্দ্ধাদের খালি হাতে বাড়ী পাঠায়ে দিয়ে, নিজকে একাকী করে তোলা; এই মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস প্রায় না খেয়ে, কম খেয়ে, বিনা বেতনে যুদ্ধ করে, প্রাণ দিয়ে জাতিকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন; এঁরা শেখের জন্য আরো ৯ বছর বিনা বেতনে খাটতে পারতেন, দেশ গড়তে পারতেন। তাঁদেরকে বাড়ী পাঠানোর পর, পাকিস্তান থেকে ফেরত-আসা আইয়ুবের সুপুত্র এরশাদ গংকে কেন্টনমেন্টে স্হান করে দেন শেখ সাহেব; এত বড় ভুল উনি করেছেন, ভাবতেও খারাপ লাগে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালে, কলেজ ইউনিভার্সিটিতে কি জন্য উনার ছাত্র-রাজনীতিবিদ দরকার ছিলো? উনার দরকার ছিলো, উন্নত মানের দক্ষ নাগরিক: সায়েন্টিস্ট, ইন্জিনিয়ার, ডাক্তার, মেকানিক, শিক্ষিত ধনী চাষী, উন্নত টেকনোজী জানা শ্রমিক, বিদ্যান শিক্ষক; এসব পেশাজীবি মানুষদের থেকে সৃস্টি হতো রাজনীতিবিদ; কি কারণে উনার দরকার ছিলো পড়ালেখা-হীন, পরজীবি, আড্ডাবাজ, মাফিয়া ছাত্র রাজনীতিবিদ, যারা নিজের খাওয়ার পয়সা কখনো ঠিক মতো পরিশোধ করতো না?
শেখ সাহেবের শেষ প্রতিবাদ ছিলো আওয়ামী লীগের কম্বল চোর, চিনি চোর, ও ইলিশ চোরাকারবারীদের বিপক্ষে; কিন্তু উনি কি তা বন্ধ করতে পেরেছিলেন? উনিই প্রতিবাদ করছেন, পার্টির চাবিও উনার কাছে; ইহাকে বলে প্রতিবাদের জন্য প্রতিবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


