
ধর্মীয়রা প্রথমত: জ্বীন ও ভুতকে ভয় পায়; জ্বীন ও ভুতকে যারা ভয় পায়, তারা কাকে ভয় পাবে, কাকে ভয় পাবে না, তা নির্ধারণ করা একেবারেই অসম্ভব। অনেক আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, লজিকে বিশ্বাসী মানুষও জ্বীন-ভুতকে ভয় পায়; এদের ভয়, জ্বীন-ভুতে বিশ্বাস ধর্মীয়দের থেকে কিভাবে আলাদা? আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের জ্বীন-ভুতের ভয় মানসিক; আর ধর্মীয়দের ভয় ধর্মীয় বই অনুসারে প্রতিষ্ঠিত। বাংগালীদের জীবন জুড়ে জ্বীন-ভুতের বিশাল প্রভাব আছে; এবারের বই মেলায় নাকি অনেক বই বের হয়েছিল; এমন কি ড: জাফর ইকবালও বোধ হয় এই ধরণের বই বের করেছেন; মনে হয়, ব্যবসা্য়িক মনোভাবের কারণ, কিংবা শিশুদের কাছে নিজকে বেকুব প্রমাণ করার চেস্টা!
যারা ধর্ম-চর্চা করেন, তারা ধর্মের শুরুর টাইম-লাইন, স্হান ও পাত্রকে ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রে ধরে রাখেন, তারা আধুনিক বিশ্বে থেকেও পুরানো দিন গুলিকে সুদিন হিসেবে দেখানোর চেস্টা করেন; ইহুদীরা ঘুরেফিরে ৩৫০০ বছর আগের ঘটনাসমুহকে আলোকিত করেন, জেরুযালেম, হযরত মুসাকে সবকিছুতে দেখতে চান; ঠিক একই কথা মুসলমানদের বেলায়, খলীফা ওমরের সময়, সালাদিনের বিজয়; শুধু খৃস্টানরা ক্রমেই জেরুযালেমের উপর দাবী কমিয়ে এনেছে।
ধর্মীয়দের ভয়, নতুন যেই কোন ভাবনাই ধর্মের বিপক্ষে যাবে। ওরা শ্রমজীবি মানুষের জীবনের উপর লিখিত উপন্যাসকেও ভয় পায়; কিন্তু আকবরনামার কথা শুনলে আনন্দিত হয়ে থাকেন।
আধুনিক মানুষ সভ্যতাকে বদলায়ে দিয়েছেন; সর্ব বিষয়ে মানুষ এমন জ্ঞান ঊপার্জন করেছেন যে, আগের সময়গুলো মানুষের জন্য বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও কস্টের ইতিহাস হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ১৭৯৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের সমাপনের মাঝ দিয়ে, বিশ্বের রাজতন্ত্র ক্রমেই গণতন্ত্র-মুখী হয়েছে; রাজতন্ত্রের অর্থনীতি দ্রুত ক্যাপিটেলিজমের রূপ ধারণ করেছে; সেই সময়ের জন্য ক্যাপিটেলিজম রাজতন্ত্রের অর্থনীতি থেকে কোটীগুণে প্রগ্রেসিভ ছিলো। রাজতন্ত্রের শুরু থেকে, আজ অবধি মানুষ ধনীদের সমীহের চোখে দেখে; যদিও শতকরা ৮০ জন ধনের উৎস বুঝে না।
ক্যাপিটেলিজম এখনও অনেক দরিদ্রের জন্য একটা উৎসাহ, "একদিন আমিও ধনী হবো, সব গরীবদের সাহায্য করবো"। আসলে, তা প্রায়ই ঘটে না।
রাজতন্ত্রের সম্পদ যখন ক্যাপিটেলিজমের রূপ নিয়ে, সমাজে সুবিধাভোগীর সৃস্টি করছে, সেই সময়, ১৮৬৭ সালে কার্ল মার্ক্স অথনীতিতে মানুষর অধিকারকে নতুন করে ব্যাখ্যা করেন, এবং নতুন পথ দেখান যে, প্রায় সব মানুষেই অর্থনৈতিকভাবে সন্তুস্ট হওয়ার মত পথ আছে; সবার জন্য সমাজ সমান সুযোগের সৃস্টি করতে পারবে। এই অর্থনীতি সমাজের শ্রেণীগুলো বিলুপ্ত ঘটাতে সক্ষম। রাজতন্ত্রের সময়, ধর্মীয় পুরোহিতগণ রাজাদের পক্ষে অনস্হান নিতেন; রাজা নেই, এবার তারা ক্যাপিটেলিজমের পক্ষে; ক্যাপিটেলিস্টদের মতো, ধর্মীয়রাও শ্রেণীহীন সমাজ পছন্দ করেন না; ধর্মীয়রা, সব সময় নিজেদের সমাজের মাথা, সমাজের নেতা মনে করেন। নিউইর্কের বিশপ নিজকে ট্রাম্প থেকে ক্ষমতাবান মনে করেন।
ক্যাপিটেলিস্টরা সমাজতন্ত্রকে পছন্দ করার কথা নয়; তাদের সাথে ধর্মীয়রাও নাচছেন; আসলে, ধর্মীয়রা ভয় পান যে, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হলে, ধর্মীয়দের কোন স্হান থাকবে না সমাজে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



