somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সকল ধর্মীয় মানুষই সামাজতান্ত্রিক রাজনীতিকে ভয় পায়

২১ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ধর্মীয়রা প্রথমত: জ্বীন ও ভুতকে ভয় পায়; জ্বীন ও ভুতকে যারা ভয় পায়, তারা কাকে ভয় পাবে, কাকে ভয় পাবে না, তা নির্ধারণ করা একেবারেই অসম্ভব। অনেক আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, লজিকে বিশ্বাসী মানুষও জ্বীন-ভুতকে ভয় পায়; এদের ভয়, জ্বীন-ভুতে বিশ্বাস ধর্মীয়দের থেকে কিভাবে আলাদা? আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের জ্বীন-ভুতের ভয় মানসিক; আর ধর্মীয়দের ভয় ধর্মীয় বই অনুসারে প্রতিষ্ঠিত। বাংগালীদের জীবন জুড়ে জ্বীন-ভুতের বিশাল প্রভাব আছে; এবারের বই মেলায় নাকি অনেক বই বের হয়েছিল; এমন কি ড: জাফর ইকবালও বোধ হয় এই ধরণের বই বের করেছেন; মনে হয়, ব্যবসা্য়িক মনোভাবের কারণ, কিংবা শিশুদের কাছে নিজকে বেকুব প্রমাণ করার চেস্টা!

যারা ধর্ম-চর্চা করেন, তারা ধর্মের শুরুর টাইম-লাইন, স্হান ও পাত্রকে ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রে ধরে রাখেন, তারা আধুনিক বিশ্বে থেকেও পুরানো দিন গুলিকে সুদিন হিসেবে দেখানোর চেস্টা করেন; ইহুদীরা ঘুরেফিরে ৩৫০০ বছর আগের ঘটনাসমুহকে আলোকিত করেন, জেরুযালেম, হযরত মুসাকে সবকিছুতে দেখতে চান; ঠিক একই কথা মুসলমানদের বেলায়, খলীফা ওমরের সময়, সালাদিনের বিজয়; শুধু খৃস্টানরা ক্রমেই জেরুযালেমের উপর দাবী কমিয়ে এনেছে।

ধর্মীয়দের ভয়, নতুন যেই কোন ভাবনাই ধর্মের বিপক্ষে যাবে। ওরা শ্রমজীবি মানুষের জীবনের উপর লিখিত উপন্যাসকেও ভয় পায়; কিন্তু আকবরনামার কথা শুনলে আনন্দিত হয়ে থাকেন।

আধুনিক মানুষ সভ্যতাকে বদলায়ে দিয়েছেন; সর্ব বিষয়ে মানুষ এমন জ্ঞান ঊপার্জন করেছেন যে, আগের সময়গুলো মানুষের জন্য বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও কস্টের ইতিহাস হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ১৭৯৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের সমাপনের মাঝ দিয়ে, বিশ্বের রাজতন্ত্র ক্রমেই গণতন্ত্র-মুখী হয়েছে; রাজতন্ত্রের অর্থনীতি দ্রুত ক্যাপিটেলিজমের রূপ ধারণ করেছে; সেই সময়ের জন্য ক্যাপিটেলিজম রাজতন্ত্রের অর্থনীতি থেকে কোটীগুণে প্রগ্রেসিভ ছিলো। রাজতন্ত্রের শুরু থেকে, আজ অবধি মানুষ ধনীদের সমীহের চোখে দেখে; যদিও শতকরা ৮০ জন ধনের উৎস বুঝে না।

ক্যাপিটেলিজম এখনও অনেক দরিদ্রের জন্য একটা উৎসাহ, "একদিন আমিও ধনী হবো, সব গরীবদের সাহায্য করবো"। আসলে, তা প্রায়ই ঘটে না।

রাজতন্ত্রের সম্পদ যখন ক্যাপিটেলিজমের রূপ নিয়ে, সমাজে সুবিধাভোগীর সৃস্টি করছে, সেই সময়, ১৮৬৭ সালে কার্ল মার্ক্স অথনীতিতে মানুষর অধিকারকে নতুন করে ব্যাখ্যা করেন, এবং নতুন পথ দেখান যে, প্রায় সব মানুষেই অর্থনৈতিকভাবে সন্তুস্ট হওয়ার মত পথ আছে; সবার জন্য সমাজ সমান সুযোগের সৃস্টি করতে পারবে। এই অর্থনীতি সমাজের শ্রেণীগুলো বিলুপ্ত ঘটাতে সক্ষম। রাজতন্ত্রের সময়, ধর্মীয় পুরোহিতগণ রাজাদের পক্ষে অনস্হান নিতেন; রাজা নেই, এবার তারা ক্যাপিটেলিজমের পক্ষে; ক্যাপিটেলিস্টদের মতো, ধর্মীয়রাও শ্রেণীহীন সমাজ পছন্দ করেন না; ধর্মীয়রা, সব সময় নিজেদের সমাজের মাথা, সমাজের নেতা মনে করেন। নিউইর্কের বিশপ নিজকে ট্রাম্প থেকে ক্ষমতাবান মনে করেন।

ক্যাপিটেলিস্টরা সমাজতন্ত্রকে পছন্দ করার কথা নয়; তাদের সাথে ধর্মীয়রাও নাচছেন; আসলে, ধর্মীয়রা ভয় পান যে, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হলে, ধর্মীয়দের কোন স্হান থাকবে না সমাজে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:২৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×