
আজকে যদি শেখ সাহেব বেঁচে থাকতেন, তিনি যদি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে কোন সামাজিক কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন; তারপর যদি দেখতেন যে, বেগম রওশন এরশাদ বাংলাদেশের সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী; এই ঘটনা উনার মনে মর্মান্তিক হতাশার সৃস্টি করতো; রাজনীতির প্রতি উনার অনীহার সৃস্টি করার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। ফালু বিপুল ভোটে জয়ী হওয়াতে, রাজনীতিতে কিছুটা সচেতন এমন হাজার হাজার মানুষের মাঝে রাজনৈতিক অনীহার সৃস্টি করেছে; এবং এদের মাঝে ড: কামালের মতো লোকও আছেন।
১৯৭৫ সালে, ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর বাড়ী ঘেরাও করার সময়, জাসদের ৫০ জনের মতো কর্মী গুলিতে নিহত হয়; জাসদ কর্মীরা এ ধরণের কোন কিছু আশা করেনি; তারা জানতো পুলিশ বাধা দেবে, লাঠিপেটা করতে পারে; তারপরও ওদের ভরসা ছিল যে, তাদের পিতৃদল আওয়ামী লীগের নেতারা আছেন, দু:সময়ে সহানুভুতি পাবে; অনেকটা নিজের দলের মতো দলের সরকারের সময়, এত কর্মীর মৃত্যু দেখে অনেক নেতা-কর্মীর মাঝে রাজনীতির প্রতি অনীহা দেখা দেয়।
স্বাধীনতা বিরোধী ও হেফাজতের সামন্ত-যুগের রাজনৈতিক আচরণের বিপক্ষে অবস্হান-থাকা তরুণরা যখন সুন্দরবন এলাকা থেকে বিদ্যুত কেন্দ্র সরানোর জন্য অনুরোধ-উপরোধ করে মার খায়, তখন তারা রাজনীতির অর্থ খুঁজে পায় না; ক্রমেই তারা হতাশ হয়ে উঠেতে পারে!
১৯৭০ সালে, ৬ দফার পক্ষে ভোট দিয়ে মানুষ বিশালভাবে উৎসাহিত হয়; কিন্তু মানুষ যখন ১৯৭১ সালে ২রা মার্চ বুঝতে পারলো যে, পাকিস্তানী মিলিটারী শেখ সাহেবকে সরকার গঠন করতে দেবে না, অনেক মানুষ হতাশ হয়েছেন; যেই সংখ্যাক মানুষ হতাশ হয়েছেন, তার থেকে অনেক বেশী পরিমাণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, এবং সেখানে থেমে না গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেন, সেই কারণেই অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। যদি হতাশদের সংখ্যা বেশী হতো, বাংগালীরা ২রা মার্চের পর থেমে যেতো; রাজনৈতিক অনীহা জাতিকে নিস্তব্ধ করে দিতে পারে; সোমালিয়া, ইথিওপিয়া বা বার্মার মতো অবস্হা হয়ে যেতে পারে জাতির।
রাজনৈতিক অংগন কখনো খালি থাকে না, শিক্ষিতরা না থাকলে, সেই শুন্যস্হান পুর্ন করবে অর্ধ-শিক্ষিত ও অশিক্ষিতরা; সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। শিক্ষিতদের সচেতন হতে হবে, অশিক্ষিতদের হাতে নিজের অধিকার ছেড়ে দেয়া হবে নিজের পরাজয় ও শিক্ষার অপমানের সমান।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



