somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনতার বিজয় দিবস শুধু একবারই এসেছিল, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৭১ সালের বিজয় দিবসই ছিল জাতির সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয় দিবস; পাকিস্তান বাহিনীর ৯ মাসের হত্যাকান্ড, টেটর, অন্যায়, দুষ্ট পাকী সেনাবাহিনী ও রাজাকারদের পরাজয়, মুক্তিবাহিনীর জয়, মানুষকে বিমোহিত করেছিল; স্বজন, সম্পদ, আত্মীয়, পড়সী হারানোর দু:খকে চাপিয়ে নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও আশা মানুষকে এত বেশী উৎসাহিত করেছিল যে, মানুষ ভয়শুণ্য হৃদয়ে, ৯ মাসের কষ্টকে পায়ের নীচে ফেলে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের সামনে ছিল নতুন এক জাতি, নতুন পরিচয়, নতুন ভাবনা, সীমাহীন আবেগ, দিগন্তজোড়া স্বপ্ন।

সেই বিশাল বিজয়, সেই বিশাল স্বপ্ন ভাংতে বেশী সময় লাগেনি; ১৯৭২ সালে, মানুষ আবার একই ধরণের সরকারী অফিসারদের দেখেছেন, একই ব্যুরোক্রেটরা অফিসে, একই ধরণের লোকেরা প্রশাসনে; এদের কথার সুর আগের মতো, এদের চলাফেরা আগের মতো, মানুষের ৯ মাসে অবদানের কথা কেহ বলেনি, এই সাড়ে ৭ কোটী মানুষ কিসের মাঝ দিয়ে গিয়েছে, সেটা বড় কাহিনী হয়নি; প্রশাসন শেখ সাহেবর কথা বলছে, তাজুদ্দিন সাহেবের কথা বলছে; কেহ মানুষের খবর নিতে আসেনি; যে মায়ের সন্তান যুদ্ধ শেষ ফিরে আসেনি, তাঁকে শান্ত্বনা দিতে শেখ সাহেব আসেননি, তাজুদ্দিন সাহেব আসেননি, কোন কমান্ডার আসেননি; যে ইপিআর ফিরে আসেননি, তাঁর বিধবা স্ত্রীর খবর কেহ নেয়নি, কেহ এসে একটা আশার কথা বলেনি, কেহ এসে স্বামীর গল্প করেনি, তাঁর বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে কেহ ভরসা দেয়নি; আশা, স্বপ্ন, ভরসা সবকিছুই ক্রমেই নিজের থেকে হারিয়ে গেছে।

তারপর ৪৭ বছরে অনেক কিছু ঘটেছে, অনেক কিছু বদলায়েছে; মানুষ নতুন কিছু নিয়ে ভাবছে না, নতুন স্বপ্নের কথা কোথায়ও শোনা যায় না; যারা দেশ চালায়, তারাই বিজয় দিবস পালন করে, তারাই সবকিছুতে; সাধারণ মানুষ শুধু দর্শক, শুধু শ্রোতা; তাদের তেমন কোন ভুমিকা আছে বলে মনে হয় না। জাতি গড়ছেন ক্ষমতার লোকেরা, তারা সবকিছুর মালিক, তাদের কথাই শেষ কথা, বিজয়ও তাদের কাহিনী, তাদের গল্প, বিজয় এখন তাদের; মানুষের কথা নেই, মানুষের বিজয়ের কাহিনী নেই!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০২
৩১টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×