
ব্লগিং বাংলাদেশে এত বড় একটা বিবর্তন এনেছে যে, বাংলাদেশে ব্লগ দিবস পালন করা পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না, এটা বড় মাপের পরিবর্তন; পাকিস্তানী আমলে, রেডিও ও মাইক আসার পর, ভয়ানক পরিস্হিতি ছিল কয়েক বছর; যারা রেডিও শুনতেন ও বিয়ে বাড়ীতে মাইক বাজাতেন, হুজুরেরা তাদের বাড়ীতে দাওয়াত নিতেন না, বিয়ে পড়াতে যেতেন না; রেডিওর মালিক ও মাইকে গান শোনার লোকদের খুবই নীচু চোখে দেখা হতো।
বাংলাদেশে কলেজ ও ইউনিভার্সিটি লেভেলে পড়ালেখার মান নীচের দিকে চলে যাওয়ার শুরু হয়েছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুকাল পরেই; নকল করে পরীক্ষা দিতো সবাই; এখন প্রশ্নফাঁস করে পরীক্ষা দিচ্ছে, ক্লাশে না গিয়েও পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট পাচ্ছে। এসব কারণে, বাংলাদেশের গ্রাজুয়েটদের লেখার হাত ছিলো না, নিজকে প্রকাশ করার সামর্থ ছিলো না, লজিকের আগামাথা ছিলো না; কিছু লিখতে বা বলতে গেলে ঘুরে ফিরে গরুর রচনা হয়ে যেতো।
১৯৮০ সালের পরে লেখা, অনেক গল্প, উপন্যাস, কবিতা ছিল আবর্জনার মতো, অনেক প্রবন্ধ ছিল লেজ ও মাথাহীন; এমনকি ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের লেখাও ছিল এলেবেলে।
পড়ালেখার অবস্হা এখনো ভয়াবহ, ছাত্ররা পড়তে চাহে না, আড্ডা মারে, ফেসবুকে ভালোবাসা করে রাতভর, ইয়াবা খেয়ে ক্লাশে যায়; পরীক্ষার আগে ফাঁসকরা প্রশ্ন যোগাড়ে ব্যস্ত থাকে; তাদের আবার সৌভাগ্য, আমাদের নাহিদ সাহেব শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন, ৬/৭ বছরে প্রশ্নফাঁস করা বন্দ্ধ করতে পারেননি; এসব জেনারেশনের লোকদের ভাবনাশক্তি সীমিত, লিখার হাত নেই, কথায় লজিক নেই।
যাক, ব্লগ মোটামুটি সবার জন্য একটা বড় সুযোগ করে দিয়েছে, লিখতে লিখতে লেখক হচ্ছেন, কমেন্ট করে নিজকে প্রকাশ করছেন; তর্ক করে লজিক্যাল হওয়ার চেস্টা করছেন; সবার সামনে তো দীর্ঘদিন আবোল তাবোল থাকা যায় না, চাপে পড়ে হলেও শিখছেন; অন্যদের দেখাদেখি নিজকেও ঘুচিয়ে নেয়ার চেস্টা করছেন, সমালোচনা ও ফিডব্যাক থেকে নিজকে রিফাইন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ব্লগিং এক নতুন জেনারেশনের জন্ম দিয়েছে; এঁরা ক্রমাগতভাবে নিজকে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে রিফাইন করছেন, নতুন বিষয়সমুহ বুঝার চেষ্টা করছেন, শিখার চেষ্টা করছেন, নতুন ভাবনাসমুহ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন; এঁদের ভাবনা এত আধুনিক যে, এরা ব্লগ দিবস পর্যন্ত পালন করতে পারছেন না; এটা বিশাল ব্যাপার!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৪:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




