
বিএনপি ঠেকাতে গিয়ে শেখ হাসিনা পুরো ইলেকশান সিস্টেমকে এমনভাবে ম্যানিপুলেশন করছেন, যা ঠিক করতে উনার পিতার চেয়েও বড় নেতার সময় লাগবে ৪৭ বছরের বেশী; বিএনপি ঠেকানো উনার ১ নং এজেন্ডা ছিল জীবনে; এবং ইহার পেছনে ঐতিহাসিক কারণও আছে; তবে, উনার এজেন্ডা কার্যকরী করতে গিয়ে তিনি যেসব কৌশল প্রয়োগ করছেন, তারমাঝে সবচেয়ে খারাপ কৌশল হলো ইলেকশান সিষ্টেমে হাত দেয়া; কারণ, এতে বিএনপির পরাজয় নিশ্চিত হলেও জাতির নৈতিকতা ধ্বংস করা হচ্ছে বেশ দীর্ঘ মেয়াদে; ভোট ডাকাতীর জন্য যে ইঁদুরের পাল সৃষ্টি করা হয়েছে, উহারা বাচ্চা দিতে থাকবে অগণিত হারে, ও জাতির ভিটামাটিসহ নষ্ট করে দেবে।
বিএনপি হলো বাংলাদেশ মিলিটারীর সিভিলিয়ান ব্রান্ড; বাংলাদেশ মিলিটারী পাকিস্তান ও মিশরের মডেল অনুসরণ করে বেশ সফলতা অর্জন করেছিলো; এদের সফলতার পেছনে সিআইএ, জামাত ও ভারত-বিরোধী মনোভাবের বাংগালীরা ছিলেন। বাংগালী জাতির সবর্বশেষ মহাযুদ্ধ ছিল সামরিক শাসক আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে, অর্থাৎ মিলিটারী শাসনের বিরুদ্ধে; এরপর কিভাবে জেনারেল জিয়া প্রায় ৭ বছর, জেনারেল এরশাদ ৯ বছর, ও বেগম জিয়া ১০ বছরের বেশী টিকে ছিলেন? কারণ, বাংগালীরা রাজনীতিকে নিজেদের স্বার্থ-সিদ্ধির জন্য ব্যবহার করে আসছেন, তাঁদের রাজনৈতিক ভাবনায় সমগ্র জাতির স্বার্থকে খর্ব ও অপমান করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দুর্বল রাজনীতি ও দুর্নীতিকে কাজে লাগিয়ে মিলিটারী সহজে ক্ষমতা দখল করেছিলো বাংলাদেশে, ১৯৭৫ সালে; এবং জাতির মৌনতার সুযোগ নিয়ে তারা জাতিকে ভুল পথে নিয়ে গেছে। বাংগালী জাতির একাংশ বরাবরই মিলিটারী শাসনের পক্ষে ছিলো, তারা আইয়ুব খানকে সাপোর্ট করেছে, ইয়াহিয়াকে যুদ্ধে মিলিশিয়া দিয়ে সাহায্য করেছে। জাতির এই অংশ পুরো জাতির ও নিজেদের ক্ষতি করে যাচ্ছে ক্রমাগতভাবে।
যাক সময়ের সাথে, জাতির বড় অংশ মিলিটারী শাসনের বিপক্ষ অবস্হান নিচ্ছে; ২০০৭ সালে, মিলটারী ক্ষমতা নেয়ার পর, আগের মতো টিকে থাকার সুযোগ পায়নি; তবে, তারা বর্তমানে কচ্ছপের মতো মাথা খোলসের ভেতর রাখলেও তারা সুযোগ পেলে ব্যস্ত হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ মিলিটারীর বড় আইকন বেগম জিয়াকে জেলে দেয়ার পর, উনাকে স্বৈরশাসক বলে প্রচার চালাচ্ছে বিএনপি'র লোকেরা; কিন্তু বিএনপি'র লোকেরা যে আসলে স্বৈরশাসনের উত্তরাধিকারী, জেনারেল জিয়ার অনুসারী সেটা তারা ভুলে যায়; শেখ হাসিনা মিলিটারীর আইকন বেগম জিয়াকে জেলে দিয়েছে মাত্র; কিন্তু বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতারা দেশের যুদ্ধকালীন প্রাইম মিনিষ্টারসহ আওয়ামী লীগের ৪ নেতাকে জেলে হত্যা করেছে; এবং কাউনটার ক্যু করে মুক্তিযোদ্ধা জেনারেলদের হত্যা করে সেটার নামক দিয়েছে "বিপ্লব"। এসব দিক বিবেচনা করলে, ও মিলিটারীর যেই হত্যাকান্ড শেখ হাসিনাকে বাংলার রাজনীতি দখল করতে সাহায্য করেছে সেটা হিসেবে রাখলে, শেখ হাসিনার এসব কৌশল একেবারে হিসেবের বাইরে নয়।
জিয়া গলাকাটা ক্যাপিটেলিজম চালু করে, দেশকে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের বাজার বানায়েছে; সেটা থেকে মুক্তির কোন পথ এখনো দিগন্তে নেই; এখন তার উপর যোগ হচ্ছে, রাজনৈতিক নৈতিকতাহীন নতুন জেনারেশন, যেটা দেশকে গাদাফী, সাদ্দাম, বাশারের দেশের কাতারে নিয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




