
গতকাল আমাদের যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী, তাজুদ্দিন সাহেবর (২৩শে জুল, ১৯২৫ - ৩ই নভে, ১৯৭৫) জন্মদিন ছিলো; আমি কোন পোষ্ট দিইনি, আমি কিন্তু ভুলে যাইনি; আমি পোষ্ট দিলে, আমার সব কথা উনার বিপক্ষে চলে যাবে; উনার জন্মদিনে এই কাজটা করলে, বেগম জিয়ার কেক কাটার মতো হয়ে যেতো। গতকাল তাজুদ্দিন সাহেবকে নিয়ে পোষ্ট দেয়ার কথা ছিলো আমাদের ব্লগার নুরু সাহেবের; বুঝা যাচ্ছে যে, উনি ব্লগে নেই! কম বয়সী ব্লগারেরা তাজুদ্দিন সাহেবকে খুব একটা জানার কথা নয়; অনেকে আবার উনাকে মুক্তিযু্দ্ধের মানুষ হিসেবে চেনেন, সেই জন্য উনাকে নিয়ে লিখেন না।
আপনি যদি তাজুদ্দিন সাহেব ও শেখ সাহেবকে চিনে থাকেন, তা'হলে, আপনাকে একটা প্রশ্ন করি: ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট, শেখ সাহবেকে সৈন্যবাহিনীর লোকেরা হত্যা করার পর, তাদের পরবর্তী টার্গেট কে ছিলেন সেদিন? ১৯৭৫ সালের আগষ্ট মাসের ১৫ তারিখ সকালে, আমি দেশে ছিলাম না; শেখ সাহেবের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর, আমি খবর নিয়ে জানলাম যে, তাজুদ্দিন সাহেব জীবিত আছেন; তখন আমি ভাবলাম, উনাকে টার্গেট করবে মিলিটারী। আমি ব্যক্তিগতভাবে তখন তাজুদ্দিন সাহেব-বিরোধী; সর্বোপরি, উনার সাথে আমার কোনরূপ যোগযোগ ছিলো না। তাজুদ্দিন সাহেব একজন কবিকে খুব পছন্দ করতেন, উনি ছিলেন, কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ। কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ সাহেব তখন বিদেশে, আমি উনার সাথে পরিচিত, উনাকে স্যার ডাকতাম, যাওয়া আসা ছিলো।
কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ও আমি তখন কাছাকাছি ছিলাম না, উনাকে সহজে ফোনেও পাচ্ছিলাম না; বিকেলের দিকে পেলাম; তিনি সরকারী চাকুরী করতেন; আমি উনার সাথে শেখ সাহেবের হত্যাকান্ড সম্পর্কে কথা বলতে চাইলাম; তিনি এই ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ। যাক, আমি জানি শেখ সাহেব নেই; ফলে, আলাপের খুব একটা দরকার নেই! আমি উনাকে বললাম উনার বন্ধু তাজুদ্দিন সাহেব কেমন আছেন? তিনি বললেন যে, কোনভাবেই যোগাযোগ করতে পারছেন না। আমি উনাকে বললাম, যদি যোগাযোগ হয়, উনাকে বলবেন পালিয়ে যেতে।
দুইদিন পর আমি আবারো কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ স্যারের সাথে কথা বললাম; তিনি জানালেন যে, উনার সাথে সরাসরি কথা হয়নি; তবে, ভালো আছেন। ২৪ শে আগষ্ট আমি আমার পরিচিতদের থেকে খবর পেলাম যে, তাজুদ্দিন সাহেবকে বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে গেছে মিলিটারী। আমি বুঝলাম, উনার সম্পর্কে আমার ধারণা সঠিক, উনি প্রয়োজনীয় লেভেলের বুদ্ধিমান ছিলেন না।
তাজুদ্দিন সাহেববের বড় বড় ভুলগুলো:
১) যুদ্ধ চলাকালীন ভলনটিয়ার সৈনিকদের সাথে দেখা না করা।
২) যুদ্ধের পর, গরীর কৃষকের ছেলেপেলে, ভলনটিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের খালি হাতে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়া
৩) দেশ চালনায় মুক্তিযোদ্ধাদের না নেয়া
৪) শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এতিম সন্তান ও বিধবা বউদের দায়িত্ব না নেয়া
৫) পাকীদের পক্ষে কাজ করা ব্যুরোক্রেটদের চাকুরীতে বহাল রাখা
৬) বিশ্ব ব্যাংকের দেয়া ঋণ না নেয়া
৭) শেখ হত্যার পর পালিয়ে না যাওয়া
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




