
যতকিছু নিয়ে আমরা বাংগালী, তার মাঝে সবচেয়ে গৌরবের বিষয় হলো, আমাদের জাতির মুক্তিযুদ্ধ; আপনি যদি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও থাকেন, তাতে কিছু আসে যায় না, আপনি এই জাতির অংশ, এই যুদ্ধ আপনার গৌরবের বিষয়; এই মহান আত্মদানের যু্দ্ধ আমাদেরকে স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে; এর বিপক্ষে কেহ কথা বললে, তাকে থামিয়ে দেবেন, এখানে আপষের কিছু নেই!
আমাদের সময়, অষ্টম শ্রেণীতে বাংলা সাবজেক্টে একটা গল্প ছিল, 'আদু ভাই'; গল্পের নায়কের নাম ছিলো আদু ভাই; উনি অষ্টম শ্রেণীতে বারবার ফেল করেছেন; কিছুতেই নবম শ্রেণীতে যেতে পারছিলেন না। আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়েছি, ইতিহাসের একটা কমন প্রশ্ন থাকতো পলাশী যুদ্ধের উপর; ১ম, ২য় সাময়িক পরীক্ষা ও ফাইনালে, ঘুরেফিরে পলাশী যুদ্ধের উপর প্রশ্ন এসেছিলো; যদিও সবাই জানতো যে, পলাশী যুদ্ধের উপর প্রশ্ন আসবে, তারপরও, ছাত্ররা ভালো করতো না! তিন পরীক্ষার কাগজ দেয়ার সময়, স্যার বকা দিয়ে আদু ভাইয়ের প্রসংগ টানতেন!
আদু ভাইয়ের ইতিহাস পরীক্ষায়ও পলাশী যুদ্ধ এসেছিলো; আদু ভাই, প্রশ্নোত্তরে কিছু না লিখে, শুধুমাত্র রবার্ট ক্লাইভ ও নবাব সিরাজ উদ দৌলার ছবি এঁকে দিয়েছিলেন; কিন্তু, পরীক্ষার পাতায়, উনার ছবি অবস্হা এতই খারাপ ছিলো যে, উনার অংকিত চিত্রে কোনটা রবার্ট ক্লাইভ ও কোনটা নবাব সিরাজ উদ দৌলা, সেটা কিছুতেই বুঝা যাচ্ছিল না।
আজকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেকের অবস্হা আদু ভাইয়ের মতো হতে পারে; কিন্তু মুক্তিযু্দ্ধ ঠিক অবস্হানে আছে; ইয়াহিয়া খান, তাজুদ্দিন সাহেব, সাধারণ মানুষের যুদ্ধ, ইপিআর, বেংগল রেজিমেন্ট, আমাদের বিজয়, সবই ঠিক আছে ইতিহাসে।
নয় মাসের লম্বা যু্দ্ধে অনেক কিছু ঘটেছে, যুদ্ধ চলাকালীন সময় জাতি বদলে গিয়েছিল, অনেকে এই যুদ্ধকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে, অনেকের জন্য ছিল ভয়ংকর কষ্টকের সময়: মানুষ আপন জনকে হারায়েছেন, নিজের চোখের সামনে আপন জনের মৃত্যু দেখেছেন, নারীরা নির্যতীত হয়েছেন, নারী বিধবা হয়েছেন, সন্তানেরা এতিম হয়েছে; চাষীর ছেলে হাতে অস্ত্র নিয়ে যোদ্ধায় পরিণত হয়েছেন, এগুলো চোখের সামনে ঘটলে, মানুষ বদলে যায়।
যেহেতু, পাকিস্তানী বাহিনী ব্যতিতও, ৫৫ হাজার নরাধম বাংগালীও পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে অস্ত্র ধরেছিল; যেহেতু দেড়কোটী বাংগালী বৃহৎ পাকিস্তানে বিশ্বাসী ছিল, এবং তারা পারাজিত হয়েছিল; আজকেও তারা এই যুদ্ধের বিপক্ষে কোথায়ও না কোথায়, কোন না কোন বিতর্ক সৃষ্টি করছে; তাদের নতুন জেনারেশনও আমাদের মুক্তিযু্দ্ধকে বিবিধভাবে খাট করে, এই যুদ্ধের বিপক্ষে প্রচারণা চালায়, সুযোগ পেলে এই যুদ্ধকে ভারতীয় যুদ্ধ বলে, বাংগালীদের ভুমিকাকে খাট করে; একজন বাংগালী হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কোন যুক্তিতর্ক মেনে নেবন না, এই গৌরবের যুদ্ধের মানকে সমুন্নত রাখবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




