
বুঝা যাচ্ছে, দেশে নারীর উপর নির্যাতন আগের থেকে বেশ বেড়েছে; নারীর উপর কি কি নির্যাতন বাংলাদেশে হয়ে থাকে, বর্তমান সমাজ ব্যবস্হায় কোনটা বাড়ছে, কোনটা কমছে? আমাদের নারীরা গায়ানা, বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এতো বেশীহারে আত্মহত্যা করছেন না; তবে, হার বাড়ছে!
দারিদ্রতা কিছুটা কমেছে, এতে দরিদ্র পরিবারের স্ত্রীরা দারিদ্রতার কষাঘাতের থেকে উদ্ভুত পরিস্হিতি থেকে কিছুটা মুক্ত হয়েছেন; কিন্তু উহার সামানুপাতিক নতুন সমস্যা হচ্ছে, অনেক স্ত্রীর স্বামী সাথে নেই, স্বামী টাকা আনতে গিয়ে দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকেন, এটা কি নতুন সমস্যার সৃষ্টি করছে: একাকীত্ব, বেশী দায়িত্ব, অযাচিত ভালোবাসা? পুরুষের হাতে বিপুল টাকা পয়সা কিন্তু অনেক সময় নিজের স্ত্রী ও অন্য নারীদের জন্য সমস্যা হতে পারে; বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ মানুষ নব্য ও অসাধু ধনী হয়েছে, এটা কোনভাবে নারী নির্যাতনে সাহায্য করছে? এরপর আছে মাদক; তরুন ছেলেমেয়ে, ব্যবসায়ী ও ধনীরাও মাদকের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে, এটা কি সামানুপাতিক হারে নারী নির্যাতন বাড়াচ্ছে?
ছেলেমেয়েরা বেশ কম বয়সেই মেলামেশা করছে, প্রেম নিবেদন করছে, কম বয়সে মন ভাংছে সহজেই; আমি সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায়, সব সময় মনভংগের কথাই পড়ে আসছি; ইহাও একটা ছোটখাট ফ্যাক্টর? সমাজের বিশৃংখলার কারণে, বিয়ের পুর্বে দৈহিক মিলন, পরকীয়া, বিয়ের আগে সন্তান ধারণ ও ধর্ষণ কেমন প্রভাব রাখছে? আমাদের জাতির জন্য নতুন আরেকটা বিষয়, বিবাহবিচ্ছেদের উচ্চহার; লিভ-টুগেদারের ভাংগনে কি নারীরা নির্যাতীত হয়ে, হতাশ হচ্ছে? যৌতুক প্রথা এখন কি অবস্হায় আছে; মেয়ের জামাইকে কি সিরিয়া পাঠানোর টাকা দিতে হয়?
নারী ও পুরুষের স্বত্তাকে তুলনা করলে, নারীর মন বটগাছের মতো বিশাল; আর পুরুষেরা কাউয়া, ময়ুর, কোকিল, কাঠ-ঠোকরা, সবাই বটবৃক্ষে স্হান পায়, কোকিল ব্যতিত সবাই বাসা বাঁধ্তে চায়।
বাংলাদেশের স্বামীরা পাকী ও আফগানিস্তানের স্বামীদের মতো স্ত্রী পিটায়; এখানে একটি শক্ত আইনের দরকার; আরেকটা শক্ত আইনের দরকার ৩ তালাকের ব্যাপারে! এই ২টিতে হুজুরদের প্ররোচনা আছে: হুজুরেরা তাদের ওয়াজে সব সময় স্ত্রীকে "শাসন"এর মাঝে রাখতে পরামর্শ দেয়, স্ত্রীকে জীবনসাথী হিসেবে দেখতে পরামর্শ দেয় না; ৩ তালাকও হুজুরদের থেকে এসেছে; হুজুরেরা মা ফাতেমার কি একটা উদাহরণও টানে, যেখানে স্ত্রীকে কিলঘুষি দেয়ার জন্য উৎসাহী করে; এইসব ব্যাপারে হুজুরদের একটু কন্ট্রোলে আনার দরকার, এবং আইনী প্রসেস চালু করার দরকার।
নারীকে নিষ্পেষনের কারণগুলোর অনেকগুলোই সামজিক, অর্থনৈতিক ও আমাদের জাতীয় চরিত্রের সাথে যুক্ত; এগুলো এখন বিশৃংখলার মাঝে আছে, এবং আরো বিশৃংখলার দিকে যাবে; ফলে, এই মহুর্তে সহজ কোন সমাধান হাতে নেই। সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রনালয় থেকে যদি পরিবার উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০ হাজার নারীর জন্য একজন এডভাইজার দেয়া যায়, সেটা কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



