
বাংলা ব্লগসমুহ চালু হবার পর, কিছু কিছু বিষয় নিয়ে অনেক বাহাস হয়েছে; এতে অনেক আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক, গালাগালি হয়েছে; শেষে, এক সময়ে ওসব বিষয়গুলোর মোটামুটি মীমাংসা হয়ে গেছে। এখন নতুন সমস্যা হচ্ছে, মীমাংসিত সমস্যাগুলো আবার ফিরে ফিরে আসছে ব্লগে; কারণ, ব্লগে সব সময়ই নতুন ব্লগারেরা আসছেন, অনেকেই জেনে, বা না জেনে সেইসব বহুল আলোচিত পুরাতন ব্যাপারগুলোকে সামনে নিয়ে আসেন; আবার, সেই পুরাতন বিতর্ক শুরু হয়, ম্যাঁওপ্যাঁও চলতে থাকে, ঘুরে ফিরে একই বৃত্তে। বাংলা ব্লগে বড় বড় বাহাস হয়েছে ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে, সংস্কৃতি নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে।
তবে, এটা সঠিক যে, এসব ব্যাপারে, প্রতিবারেই লজিক্যাল ভাবনার লোকদের মতামত বাড়ছে; কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা এখনো নতুন করে ভাবার কথা ভাবছেন না।
এই রকম বাহাসের একটি বিষয় ছিল, খৃষ্টানদের মেসাইয়া যীশুর জন্মকে কেন্দ্র করে; বাইবেলের মতে, উনার জন্ম হয়েছে বিনা-বাপে। বিনা-বাপে সন্তান জন্মে কিনা? না, নারীপুরুষের মিলন না হলে, সন্তান জন্মে না; তা'হলে যীশুর বেলায় কি ঘটেছিলো? যেহেতু, যীশু জন্মেছিলেন, এটা ঠিক যে, উনার পিতা ছিলো। মনে হয়, বিয়ের আগে সন্তান জন্মের কারণে, বাবার নাম জড়ানো হয়নি; আর যেহেতু উনি বিখ্যাত মানুষে পরিণত হয়েছিলেন পরে, এবং সেই সময় পিতৃ-পরিচয়হীন শিশুকে কেহ বিখ্যাত মানুষ হিসেবে মানবে না; যারা উনার জীবনী লিখেছেন, উনারা এক রূপকথার জন্ম দিয়েছেন।
আপনি ধর্মে বিশ্বাস করলে যে, রূপকথায় বিশ্বাস করতে হবে, এটা কোন কথা নয়; ফলে, ব্লগের শুরুতে যীশুর জন্ম নিয়ে যেই বিশাল বাহাস হয়, অনেকে বাইওলোজী মাইওলোজী অনেক কিছু এনে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে, শুধু নারী একাও সন্তান জন্ম দিতে পারেন; আসলে, ইহা কখনো ঘটেনি; ফলে মোটামুটি মীমাংসা হয়ে গেছে যে, যীশুর বাবা অবশ্যই ছিলেন; বিয়ের আগে ইহুদী পরিবারে সন্তানের জন্মকে মেনে নেয়া হয় না, সেহেতু সুন্দর এক রূপকথার জন্ম দেয়া হয়েছে; সবাই খুশী।
এখন ইহুদী পরিবারের জন্ম নেয়া, নতুন ধর্মের মেসাইয়াকে নিয়ে বাংগালীদের এত মাথা ব্যথা কেন? কারণ, বাংগালীরা নিজের কাজ ফেলে অন্যের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান।
গ্যালাক্সি মেলাক্সী নিয়েও একটা বিরাট বাহাস ছিলো; সেটার সমাধান হয়েছে এইভাবে: ধর্মীয়রা তাদের আগের বিশ্ব মডেল থেকে সরে এসেছে; বরং উল্টা দাবী করার শুরু করেছে যে, ইউরোপীয় এষ্ট্রোনোমারদের আগেই কুরানে এইসব গ্যালাক্সীর কথা ছিলো; ছিলো ভালো, এতদিন বুঝেননি, এখন বুঝেছেন। আসলে, বাইবেলে ও কুরানে আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলো যে, ইহা সমতল, গোলটোল নয়; সুর্য ইহাকে প্রদক্ষিণ করে, দিনের শেষে সুর্য বিশ্রাম নেয়, পরদিন কাজ শুরু করে; চাঁদকে সৃষ্টি করেছিলো রাতের বেলা আলো দিতে; তারকারাজি আকাশের সামিয়ানায় মনোরম ইলেকট্রিক বালবের মতো ইত্যাদি ইত্যাদি। যাক, এখানে রূপকথা বেশী সময় টিকেনি; অবস্হা বুঝে, ধর্মীয়রা আইনষ্টাইন ও হকিং থেকে আরো বড় বড় থিওরী দিয়ে মীমাংসা করে নিয়েছেন;এখনকার বক্তব্য হচ্ছে, হকিং মকিং কুরান থেকে ধরণা পেয়েছেন; অসুবিধা নেই, সবাই একই কথা বলছেন; কিন্তু আজও এই ব্যাপারটাও ঘুরেফিরে আসে।
যাদের লব্ধজ্ঞান কম, তারা কঠিন বিষয়সমুহ বুঝার কথা নয়; স্কুলে ভালো ছাত্রদের সায়েন্স গ্রুপে পড়তে দেয়া হয়; বাকীরা অন্য গ্রুপে পড়ে। গত ১০০০ বছরেও কোন মাদ্রাসায় সায়েন্স গ্রুপ ছিলো না; ফলে, ওখানকার কেহ সায়েন্সে পড়েনি। যারা স্কুল কলেজ, মাদ্রাসায় সায়েন্সে পড়েনি, তারা সায়েন্স বুঝে না; তারা ধর্মের পক্ষে তর্ক করতে গিয়ে কোনরূপ লজিকের সাহায্য নিতে পারে না; তখন তারা সায়েন্স বুঝা মানুষদের নাস্তিক, পাস্তিক ডেকে নিজেরা লিলিপুটিয়েনে পরিণত হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


