
গত সপ্তাহে, আমেরিকার প্রাইভেট জেট-বিমানের ব্যবসা শতকরা ৩৫ ভাগ বেড়ে গেছে, অনেক ধনী পরিবার আমেরিকা ছেড়ে বিভিন্ন দ্বীপে চলে যাচ্ছে, মেক্সিকো, ব্রাজিল, পুয়ের্তো রিকোর রিমোট এলাকায় চলে যাচ্ছে; এসব জেট কোম্পানী নাকি কিছু দরকারী জিনিষপত্রও আগের থেকে কিনে রেখেছে তাদের ধনী কাষ্টমারদের জন্য। গত ২ দিন ম্যানহাটন অনেকটা হালকা হয়ে গেছে; কাজের লোকেরা কাজ কর, করোনার মাঝে থাক, ধনীরা দুরে থাকছে।
গতকাল সন্ধ্যা থেকে, আমি নিজেই করোনা এলাকয় আছি। যদিও আমি ব্লগে করোণা নিয়ে লিখছি, আমি জানি যে, আমি যেই এলাকায় আছি, এখানে করোনা আছে; কারণ, পুরো নিউইয়র্ক ব্যবসায়ীদের শহর; এদের অনেকেই সকাল বিকেল চীন, জাপান, ইউরোপ যায়। এই এলাকায় ৬টি বিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রতি মিনিটে মাথার উপর দিয়ে ঘুড়ির মতো বিমান উড়ছে; মাত্র গত ২ দিন একটু কমেছে, ট্রাম্প ইউরোপের লোকদের আসা বন্ধ করেছে।
ট্রাম্প বড় ব্যবসাসমুহের জন্য ট্রিলিয়ন ডলারের বিরাট প্যাকেজ তৈরি করছে; কারণ, কর্মচারীরা হয়তো কাজে আসতে পারে না, কাজের ক্ষতি হবে, ব্যবসার ক্ষতি হবে; আর, যারা অসুস্হ হয়ে কাজে যেতে পারবে না, তাদের জন্য ২ সপ্তাহের বেতন মাত্র।
এসব বৈষম্য নিয়ে কথা বলার মানুষ আমেরিকায় খুব বেশী একটা নেই; তার প্রধান কারণ হলো, এখানকার ট্রেড ইউনিয়নগুলোও ক্যাপিটেলিজমের ফ্রেইমওয়ার্কের ভেতরে।
আমাদের এলকায় করোনা ধরা পড়েছে, মুলত চীনা এলাকায়; ১ জন বাংগালীও বেশী অসুস্হ হওয়ার পর, গতকাল ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলো, ইহুদী মহিলা ডাক্তার; ডাক্তার অনুমান করেছিলো করোনা, হাসপাতালে পাঠাতে চেয়েছিলো; কিন্তু উনি যাননি। পরে উনার মেয়ে (ছাত্রী) ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে করে বুঝতে পারে যে, হাসপাতালেই ভালো চিকিৎসা হবে, বাড়ীতে থাকলে ফুসফুসের সমস্যা হলে, বাঁচানো সম্ভব হবে না।
যাক, আমেরিকার সাধরণ মানুষ সরল, সোজা, এরা পরস্পরকে সাহায্য করে; কিন্তু যারা আমেরিকার মুল সম্পদের মালিক তারা নিজের প্রাণ নিয়ে পালাতে চায় অনেক সময়, এবার তাই ঘটতে যাচ্ছে মনে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৯:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


