
১৯৬৬ সালের দিকে বাংগালীরা আইয়ুব খান ও পাকিস্তানী সামরিক শাসনের উপর মহাক্ষুব্ধ, চাকুরী নাই, বাকুরী নাই, ঘরে খাবার নাই; শেখ সাহেব সেই সময় বাংগালীদের অধিকার সংরক্ষণে ৬ দফা দিয়ে ছিলেন; ৬ দফায় তেমন কিছু ছিলো না; যেমন, শিক্ষা ও চাকুরী নিয়ে আসলে কিছুই ছিলো না; কিন্তু একটা ভালো কাজ হয়েছিলো যে, আইয়ুব খান ইহাতে ভয়ংকর রিএ্যকশন দেখায়েছিলো, আওয়ামী লীগের মিটিং ইত্যাদিতে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছিলো; এটাই কাজ করেছে। শেখ সাহেব মিটিংগুলোতে সরকারকে ৬ দফা মেনে নিতে বলায়, সরকার আরো ক্ষেপে যায়; আইয়ুব খান ৬ দফা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছিলো যে, ইহা পাকিস্তানকে ভেংগে দেবে; এতে মানুষর মাঝে মেরুকরণ শুরু হয়, ভাংলে ভাংগুক।
কথাটা পশ্চিম পাকিস্তানে ছড়ায়ে গিয়েছিলো, বাংগালীরা আলাদা হয়ে যেতে চায়, এতে ২ পাশের মানুষের মাঝে সম্পর্ক নষ্ট হয়, এবং বাংগালী জাতীয়তাবাদ শক্ত হওয়ার শুরু করে।
আইয়ুব খান রাজনীতির ধার ধারতো না; আপনারা, যারা আইয়ুবকে দেখেননি, তারা হয়তো জিয়া ও এরশাদকে দেখেছেন; জিয়া ও এরশাদ থেকে আরেকটু শক্ত জেনারেল ছিলো আইয়ুব, বৃটিশের জেনারেল; নীতির দিক থেকে জিয়া ও এরশাদ ২ জনেই আইয়ুবের পোষ্যপুত্র, শুধু শারীরিকভাবে দৈর্ঘ্য-প্রস্হে কম ছিলো।
আইয়ুবের ক্ষেপামী দেখে বাংগালীরা মনে করেছিলো যে, ৬ দফা আমাদের জীবন, ইহার জন্য লড়তে হবে, এবং জাতি লড়ছিলেন, শেখ সাহেবের সভাগুলিতে মানুষ বাড়ছিলো, বাড়ছিলো। শেষে আইয়ুব ঠিক করলো, শেখ সাহবেকে থামাতে হবে, উনি আগরতলা মামলা নিয়ে এলেন। শেখ সাহবের ফাসির অর্ডার হয়ে গেলো; কিন্তু ততদিনে বাংগালীরা বেশ ঐক্যবদ্ধ; ভাসানী আগুন জ্বালালেন, শেখ বেরিয়ে এলেন, আইয়ুব ও সেনাবাহিনী বুঝলো যে আইয়ুবের সময় শেষ। আইয়ুব দেশের নতুন করে সামরিক আইন করে সরে গেলো।
৬ দফায় যা ছিলো, রাজনৈতিক ভাবনা হিসেবে সেটা বেশীর ভাগ বাংগালীর জন্য বেশ কঠিন ছিলো; তখন শতকরা ২০ জনও নাম দস্তখ্ত করতে পারতো না, রাজনীতি তো দুরের কথা; তবে, একটা কথা বিশ্বাস করতো যে, ৬ দফা বাংগালীর মুক্তির সনদ, সব বাংগালী এই ব্যাপারে একমত ছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


