
*** যেসব প্রবাসী দেশে ফেরার ২/৩ সপ্তাহের মাঝে অসুস্হ হননি; তারা করোনামুক্ত অবস্হায় ফিরেছেন। ***
করোনার ভয়ে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরেছেন, এরা মুলত: ইউরোপ থেকে ফিরছেন; এদের বড় অংশ ইউরোপে বে-আইনীভাবে প্রবেশ করেছিলেন, এখন অনেকের কাছে সেইসব দেশে থাকার লিগ্যাল কাগজপত্র আছে, অনেকের কাছে নেই; যাদের কাছে লিগ্যাল কাগজপত্র নেই তারা মনে হয়, বেশী ফিরছেন; যাদের কাছে লিগ্যাল কাগজপত্র আছে, তাদের অনেকেও ভয়ে ফিরছেন; কারণ, মহামারীর সময়ে, তারা বিদেশী হিসেবে সেইসব দেশে সঠিক চিকিৎসা পাবে কিনা, সেই ভয়ে; ইউরোপের অনেক দেশে সম্প্রতি ইমিগ্রেন্ট-বিরোধী মনোভাব গড়ে উঠছে, এতে মহামারীর সময়ে অনেক বাংগালী বাংলাদেশে আসছেন প্রাণ বাঁচাতে, এরা নিজ দেশকে নিরাপদ হিসেবে নিচ্ছেন।
এদের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, এরা সরকারের করোনা নীতি মেনে চলছে না; সরকারের নির্ধারিত ক্যাম্পে থাকছে না, বাসায় গিয়ে "স্ব-কোয়ারেন্টিন" মানছে না, এরা দেশকে গালাগালি করছে, বিয়ে করছে, দেশে এসে মাস্তি করে বেড়াচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
১.৫ লাখের কাছাকাছি প্রবাসী দেশে ফিরেছেন, এদের মাঝে কতজন দেশকে গালি দিয়েছেন, কতজন বিয়ে করেছেন? স্ব-কোয়ারেন্টিন না মানাটা ভয়ংকর কথা, এবং এটাই আসল ভয়ংকর অভিযোগ ও সমস্যা: এতে তাদের নিজ পরিবার ও পুরোজাতির সীমাহীন ক্ষতির সম্ভাবনা।
বাংলাদেশের স্বাস্হ্য বিভাগের যারা এই ধরণের পরিস্হিতিকে হ্যান্ডলিং করার দায়িত্বে আছেন, তারা কি সঠিক প্ল্যানের মাধ্যমে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার মতো লোকজন বলে আপনি বিশ্বাস করেন? স্বাস্হ্য বিভাগের লোকেরা এই ধরণের প্রবাসীদের এয়ারপোর্টে গ্রহন করার কথা ছিলো, এয়ারপোর্টের ইমিগরেশন থেকে এসব প্রবাসীকে আলাদা করে, সঠিকভাবে প্রসেসিং করে, নিজেদের তত্বাবধানে একটা যায়গায় এনে, তাদেরকে প্রথমে প্রাথমিকভাবে জ্বরের পরীক্ষা করে, খাবার ও পানীয় দিয়ে রেষ্টের ব্যবসা করার দরকার ছিলো। অতপর, দায়িত্বশীল পরিবারের অধীনে তাদেরকে ঘরে যাবার ব্যবস্হা করার দরকার ছিলো, এবং প্রতি ১০/২০ জনের উপর নজর রাখার জন্য ১ জন ভলনটিয়ার পুলিশ নিয়োগ করার দরকার ছিলো।
আপনারা জানেন, আমাদের সরকারী লোকেরা কোনকিছুই প্ল্যান করে সঠিকভাবে করে না; বিদেশ থেকে আসা এসব মানুষ এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে, সব যায়গায়: ইমিগ্রশন, পুলিশ, কাষ্টমস কর্তৃক নিগৃহিত হয়, এরা সেইজন্য নিজের অজান্তেই "ফাইটিং মোডে" চলে যেতে পারে। এগুলো ভেবেই যদি সরকারের স্বাস্হ্য বিভাগের লোকজন এসব প্রবাসীদের হ্যান্ডলিং করতেন, আজকের উদ্ভুত সমস্যা এতো প্রকট হতো না।
আপনারা যারা এসব ভীত, উদ্বিগ্ন, রাগান্বিত, বেকুব, নিরীহ প্রবাসীদের বিপক্ষে লিখছেন, ক্রস-ফায়ার চাচ্ছেন, তারা লেখার সময় ভাবুন; আপনারা নিশ্চয় রাস্তাঘাটের লোকজনের মতো লিখতে চাচ্ছেন না, একজন ব্লগার হিসেবে লিখতে চাচ্ছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


