
আমেরিকার কয়েকটি বড় কোম্পানী ও তাদের পার্টনার মিলে মোট ২১টি কোম্পানী করোনার টিকার জন্য কাজ করছে; এদের ভেতর আছে ফাইজার, এমজেন, মডেরনা, বিওনটেক, গিলিয়াড, জনসন এন্ড জনসন। এরপর আছে, বৃটেন সরকারের কনসোর্টিয়মা, জার্মানদের নিজস্ব কনসোর্টিয়মা, ফান্সের সানাফি; ইউরোপের সবার সাথে আছে ওখানকার ইউনিভার্সিটিগুলো। কিছু ইউনিভার্সিটি ও আরো কিছু বাইওটেক আছে, যারা আলাদাভাবেও চেষ্টা করছে। এই দেশগুলোকে ধর্মীয় দিক থেকে দেখলে এরা খৃষ্টান দেশ; তবে, এদের সাথে ইসরায়েলের বাইওটেকগুলোও যোগ দিয়েছে।
৪৬টি মুসলিম দেশ থেকে কেন টিকা বের করার চেষ্টা হচ্ছে না? উত্তর সহজ, মুসলামনদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিসার্চ ল্যাব, অর্গেনাইজেশন ও রিসার্চ ফান্ড নেই। ব্লগে যারা মুসলিমদের অবদান নিয়ে হাজার হাজার পোষ্ট দেন, তাদের কোন ধারণা আছে ব্যাপারটা নিয়ে?
আরেকটা ব্যাপার, আমেরিকার কোম্পানীগুলো, বৃটেনের কোনসোর্টিয়াম, জার্মান, ফান্সের কনসোর্টিয়ামগুলো যদি সমবেতভাবে ৩/৪ দিক থেকে সমবেতভাবে চেষ্টা করলে হতো না? সেখানে সমস্যা হচ্ছে, ক্যাপিটেলিজম। আমেরিকান ২১টি কোম্পানী কোন না কোনভাবে এগুলোতে দীর্ঘমেয়াদে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছে ও বিবিধ শর্তে এসব রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট করছে। যেমন, ফাইজার, বিওনটেক'কে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন দেয়ার জন্য কন্ট্রাক্ট করেছে; ফলে, বিওনটেক ফাইজারের স্বার্থ রক্ষা করতে বাধ্য।
এরপরও যদি ভাবা হয়, যেখানে ট্রাম্প বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যবসায়ীদের দিয়ে দিচ্ছে রেসকিউ ফান্ড হিসেবে, সেখানে ১৫/২০ বিলিয়ন দিয়ে এই কোম্পানীগুলোর কন্ট্রাক্ট ইত্যাদি কিনে নিয়ে, এক ছাতার নীচে আনছে না কেন? এখানে ক্যাপিটেলিজমের মনসতত্ব কাজ করছে; এরা ক্যাপিটেলিষ্ট সিষ্টেমের উপর হাত দিবে না, তারা সিষ্টেম ঠিক রাখবে।
এখন চীনও গলাকাটা ক্যাপিটেলিজম অনুসরণ করে পশ্চিমের সাথে প্যারালালভাবে এগুচ্ছে; কিন্তু পশ্চিম এদেরকে এখনো ঠিক বুকে টেনে নেয়নি। চীন সেটা বুঝে, তারা সময় নিয়ে ইংরেজী শিখছে, আমেরিকায় পড়ছে, আমেরিকান কর্পোরেশন গুলো চীনে নিয়ে এসেছে। তারপরও আগের কিছুটা সোস্যালিষ্ট মনোভাব রয়ে গেছে, তারা নিজেদের সব রিসার্চের লোকজনকে নিয়ে এক ছাতার নীচে কাজ করে যাচ্ছে! তারা হয়তো আমেরিকা বা ইউরোপের আগেই বাজারে চলে আসতে পারে।
৪৬টি মুসলিম দেশ কিছুই করতে সক্ষম হচ্ছে না; তারা ও সামুর মুসলিম রেনেসাঁর সৈনিকেরা কি ব্যাপারটা বুঝতে সক্ষম হবেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

