
করোনা আসার পর, সামুর ব্লগারেরা অনেকটা সোস্যালিষ্ট হয়ে গেছেন; কমপক্ষে, তাঁদের সোস্যালিষ্ট মনোভাব তুলে ধরেছন: দিন মুজুরদের খাদ্যাভাব, গার্মেন্টস কর্মীদের চাকুরী রক্ষার জন্য ড্রামে করে ঢাকা আসা, আওয়ামী রাজনীতিবিদদের চাউল চুরি, বাড়ীওয়ালাদের শাইলকী লোভ নিয়ে অনেক পোষ্ট লিখেছেন। ইহা খারাপ নয়; তবে, ইহা ভিক্ষুককে লবন দিয়ে পান্তা দেয়া, চাকরাণীকে ঈদের সময় ১ জামা কিনে দেয়া বা কোন বিধবাকে ফিতরার টাকা দেয়ার মত সোস্যালিষ্ট মনোভাব; মুল সমস্যা সমাধানের মতো কিছু না; মুল সমস্যার সমাধান করতে হবে: কিশোরী যেন চাকরাণী না হয়, মানুষকে যেন খাবারের জন্য ভিক্ষা করতে না হয়, বিধবাকে যেন যাকাত ফাকাতের জন্য হাত পাততে না হয়।
চীনারা যে'কোন জটিল ইলেকট্রনিক থেকে শুরু করে এরোপ্লেইন অবধি নকল করতে পারে, যে'কোন কঠিন বিষয় পড়ে আয়ত্ব করতে পারে; এই কারণেই মাও, চৌ এনলাই ও উনাদের দলের লোকেরা ইহুদী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক মার্ক্সের 'ডাস কাপিটাল'এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক তত্ব বুঝে উহাকে কাজে লাগিয়ে ছিলেন; ওরা নিজেদের জাতিকে দাঁড়া করায়েছে, অন্যদের পোর্ট মোর্ট ইত্যাদি বানায়ে দিচ্ছে, আমাদের পদ্মাসেতু বানাচ্ছে, অন্যান্য ইনফ্রাষ্ট্রকচার গড়ে তুলছে; আমাদের ইন্জিনিয়ারেরা সামুতে খলীফা ওমরের অর্থনীতি নিয়ে(রাতে ময়দার বস্তা কাঁধে মদীনার মা'কে সাহায্য করা) ১০ পাতার পোষ্ট লিখতেছেন, সাপুড়ে কবিতা লিখছেন।
মার্ক্স নিজেই গরীব ছিলেন; তবে, তিনি গরীবদের পান্তা ভাত, যাকাতের টাকা, ফিতরার টাকা দেয়ার কথা বলেননি; উনার অর্থনৈতিক ও সামজিক চিন্তাটা খুবই আধুনিক: তিনি বলেছেন যে, মানুষ এমন সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে, যেখানে চাকুরীর জন্য পায়ের জুতার তলা খসবে না, মানুষ তার দক্ষতানুসারে চাকুরী পাবে, চাকুরী হারাবার ভয় থাকবে না, শিক্ষার জন্য মা-বাবাকে বেগ পেতে হবে না, সেটা সমাজের দায়িত্ব হবে; মানুষ স্বাস্হ্যকর ঘরে পরিবার নিয়ে থাকবেন, অসুষ্হ হলে চিকিৎসা পাবেন; কারণ, মানুষ নিজ দায়িত্বে কাজ করে নিজের ও সমাজের জন্য সম্পদ গড়ে তুলবেন।
এশিয়ার অনেকেই 'নিজের' জন্য সম্পদ গড়ার কথা ভাবতে পারেন; কিন্তু 'সমাজের' জন্য কাজ করা বা সম্পদের কথা আসলে, ইহাদের মাথা গুলিয়ে যায়; ইহা এক ধারণের মানসিকতা। সব চীনারা ঘড়ি থেকে এরোপ্লেইন অবধি নকল করতে পারলেও, সবাই কিন্তু মাও'এর মতো মনোভাবের লোক ছিলো না; এইজন্য মাও'কে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আজকে চীনারা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ১০৯০ সাল থেকে শুরু করে, চীনারা মাও'এর ভাবনাকে দুরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। তাতে অবশ্য এখনো তেমন বড় অঘটন ঘটেনি; কারণ, তারা দরকারী শিক্ষা, অভিজ্ঞতা সন্চয় করেছে।
আমাদের যেই পরিমাণ সম্পদ আছে, এতে আমরা ভালোভাবে চলার কথা; আমাদের মেয়েদেরকে চাকুরী রক্ষার জন্য ট্রাকের পিঠে ড্রামে বসে ঢাকা আসার দরকার হবে না; ১০ বছরের মেয়েকে অন্য পরিবারের রান্না থেকে শুরু করে আন্ডার ওয়ার ধোয়ার দরকার হবে না; ৪ বাচ্চা নিয়ে ১ রুমের ঝুপড়ির ভেতর স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার দরকার হবে না, বা ডেংগু হলে, হাসপাতালের বারান্দায় ঘুমানোর দরকার হবে না; আমাদেরকে ইহুদী কার্ল মার্ক্সের বইটা বুঝে উহাকে কাজে লাগাতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

