
৩ সপ্তাহ আগের ছোট একটি ঘটনা; পিগমী ভারতীয়দের হাতে অসহায় হাতীর করুণ মৃত্যুতে ঘটনাটা এখন বড়ই মনে হচ্ছে; সেটা নিয়ে পোষ্ট।
লকডাউনের মাঝে, মে মাসের মাঝামাঝি আমাদের খাবার মোটামুটি শেষ; অনলাইনের গ্রোসারী অর্ডার ৭/৮ দিন পরে ডেলিভারী; আমি বের হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি, স্ত্রী বাধা দিচ্ছে! স্ত্রীর ঔষধের দরকার, সে বলছে দরকার নেই! স্ত্রীকে না জানিয়ে ভোর ৫'টার আগে গিয়ে সুপার মার্কেটের লাইনে দাঁড়ালাম। একজন আফ্রিকান আমেরিকান মেয়ে লাইনের তত্বাবধান করছে, মুলত: মাস্ক আছে কিনা, ও লিমিটেড আইটেগুলোর একটা লিষ্ট দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, লাইনে অনেক্ষণ থাকতে হবে; বের হওয়ার আগে চা খাইনি, সামান্য ক্ষুধাও লাগেছে, মেয়েটাকে বললাম,
-আমার একটু খাওয়ার দরকার ছিলো!
-ভেতরে ডানকিন ডোনাট আছে, তুমি চাইলে যেতে পার, আবার লাইনে ফেরত আসতে হবে।
-ঠিক আছে।
-আমি দরজায় ফিরে গিয়ে তোমাকে হাত দেখাবো।
২/৩ মিনিট পরে সে হাত নাড়লো, আমি আমার পেছনের ছেলটাকে বললাম,
-আমি কফির জন্য যাচ্ছি, ফিরে আসবো, তোমার জন্য কফি আনবো?
-ধন্যবাদ, আমি কফি খেয়ে এসেছি, তোমার জায়গা থাকবে।
সামনে ছিলো একজন হেসিডিক ইহুদী মহিলা; উনি মাথা নেড়ে নেড়ে তোরাহ পড়ছিলেন; মনে হয়, বাজার করে সোজাসুজি বেহেশতের দিকে চলে যাবেন; উনাকে কিছু বলা সম্ভব হলো না। দোকানের মেয়েটার পাশে গিয়ে দাড়ালাম, সে দরজার তালা খুলছে, আমাকে বললো,
-কফি নিয়ে লাইনে ফিরে যেয়ো।
আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। এমন সময়, দরজার নিকটবর্ত্তি, লাইনের প্রথম ব্যক্তি মেয়েকে বললো,
-এই লোক কি করোনা স্পেশাল, ওকে বিনা লাইনে যেতে দিচ্ছ কেন?
-সে লাইনে আছে, কফি নিয়ে ফিরে যাবে?
-হেঁ তোমাকে বলেছে, সে ফিরে যাবে! সে বাজার করে ফিরে যাবে।
লোকটার দিকে চেয়ে দেখলাম, ভারতীয়; আগেও এখানে সেখানে দেখেছি। মেয়ে কথা বাড়ালো না; আমি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-কফি?
-ধন্যবাদ, লাগবে না।
আমি দৌঁড়ে ডানকিনে গেলাম; অন্য কাষ্টমার নেই; যাতে সময় না লাগে সহজ অর্ডার দিলাম: ১টা ডোনাট, ২টি ছোট কালো কফি; আমি চাচ্ছিলাম ম্যাওঁপ্যাও ভারতীয় ওখানে থাকতেই যেন আমি বেরিয়ে যেতে পারি, সে দেখুক, সে যা ভাবছে উহা পিগমীদের ভাবনা। অর্ডারটা ৩/৪ মিনিটেই হয়ে গেলো, আমি বেরিয়ে এলাম, ভার্তীয় ওখানেই আছে, মেয়েটি নেই, সে আবার লাইনে গেছে। আমি কোন ভুমিকা না করে একটা কফি ভারতীয়ের দিকে এগিয়ে দিলাম; সে নিলো,
-তুমি মাইন্ড করনি তো? সে বললো।
-না, এখন কঠিন সময়, সবাই একটু মানসিক চাপে আছে।
আমি উত্তরের অপেক্ষা না করে, লাইনে আমার পজিশনের দিকে চলে গেলাম। লাইন নড়েনি, পেছনের ছেলেটাকে ধন্যবাদ দিয়ে লাইনে দাঁড়ালাম আবার; লাইন ততক্ষণে পেছনের দিকে বেশ লম্বা হয়ে গেছে, দোকানের মেয়ে লাইনের শেষভাগে, এক লোকের সাথে কথা বলছে, আমি হাত নেড়ে দিলাম, ফিরে এসেছি লাইনে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


