
আমেরিকার পুলিশ বৃটিশ বা কানাডার পুলিশের মতো ভালো রেকর্ডের অধিকারী নয়; পুলিশ বাহিনীতে বরাবরই সাদারা বেশী ছিলো, এখনো আছে; আফ্রিকান আমেরিকান, স্পেনিশদের সংখ্যা বাড়ছে, সামান্য পরিমাণ বাংগালীও পুলিশে চাকুরী করছেন। আমেরিকার পুলিশের একটা দিক হচ্ছে, বেশ কয়েক দশক ধরে, ইহা পারিবারিক পেশায় পরিণত হয়েছে: বাবা পুলিশে চাকুরী করলে, ছেলেমেয়েরা পুলিশ যাচ্ছে!
আগে নাকি ছোট বাচ্চারা বলতো, বড় হলে পুলিশ হবে, নভোচারী হবে, ফায়ার ফাইটার হবে; এখন নাকি বাচ্চারা কোন কারণে পুলিশ হওয়ার ইচ্ছা খুব একটা প্রকাশ করছে না।
আমেরিকার পুলিশ অপরাধ দমনে সাদা ও আফ্রিকান আমেরিকানদের বেলায় বেশ আলাদা নীতি অনুসরণ করে আসছে, এবং ইহা গ্রহযোগ্যতা পেয়ে এসেছে; অবশ্য ইহার পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণও আছে। কিন্তু বর্তমানে, পুলিশ বাহিনী একটা সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছে, তারা ঠিক যোগ্য লোকজন কম পচ্ছে; চাকুরীতে সুযোগ সুবিধা ও খুবই ভালো বেনেফিট থাকা স্বত্তেও মানুষ এই পেশায় কম যাচ্ছে; ফলে, তারা তাদের কোয়ালিটি বজায় রাখতে পারছে না; ইহার ফলাফল কিন্তু ভয়ংকর।
আফ্রিকান আমেরিকানরা বরাবরই সিষ্টেমিক রেসিজমের শিকার ছিলো; তবে, এটা সঠিক যে, পশ্চিমা বিশ্বে, আমেরিকান সাদারা বিশ্বে সবচেয়ে কম রেসিষ্ট; এমন কি আমেরিকায় বসবাসকারী বাংগালীদের চেয়েও তারা কম রেসিষ্ট।
আফ্রিকান আমেরিকানরা কয়েকটি বড় সমস্যার মাঝে আছে: তাদের পরিবার প্রথা ভেংগে পড়েছে, অনেক শিশু তাদের পিতার নাম জানে না, ডোমেষ্টিক ভায়োলেন্স তাদর জীবনের সাথী হয়ে গেছে; তারা মাদক ব্যবহারে ও ব্যবসায় মাথাপিছু হারে বেশ এগিয়ে আছে, জেলে ওদের পরিমাণ শতকরা হারে অনেক অনেক বেশী; পড়ালেখায় অনেক সুযোগ থাকায়ও সুযোগ নিতে পারছে না; প্রতি ৪ জন ১ জনের নাম পুলিশের খাতায় আছে; তাদের নেতা নেই, তারা প্রায়ই ভোট দেয় না।
জর্জ ফ্লয়েডের সাথে যা ঘটেছে, এই রকম ঘটনা (সব ক্ষেত্রে হয়তো মৃত্যু হয় না) ঘটেই চলেছে; এগুলো সাদা আমেরিকা জানে, দেখে আসছে; সাদা আমেরিকা এগুলোর পক্ষে নয়, তারা সীমিতভাবে নিয়মিতই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলো। এবার সাদা আমেরিকা তা প্রকাশ করেছে; চলমান প্রতিবাদে সাদা আমেরিকানরাই মুলশক্তি, তাদের কারণে প্রতিবাদ টিকে গেছে, আজো চলছে। এবারের এই প্রতিবাদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


