
২ মাস ১৮ দিন লকডাউনে (৩/২০/২০ -৬/০৮/২০) থাকার পর, আজকে নিউইয়র্ক শহরের লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে; আজকে আনুমানিক ৪ লাখ মানুষ কাজ করবেন; এরা সবাই ঠিক নিউইয়র্ক শহরের মানুষ নন, কিছু মানুষ শহরের বাহির থেকে, কানেকটিকাট ও নিউ জার্সী থেকে কাজে আসবেন। করোনার আগে শহরে গড়ে ৭০ লাখ মানুষ কাজ করতেন।
গতকাল নিউইয়র্ক রাজ্যে নতুন সংক্রমণ: ১০১৮ জন, মৃত্যু: ৪২ জন; এই ধরণের সংখ্যা কিন্তু লকডাউন তোলার পক্ষে নয়।
নিউইয়র্ক শহরে প্রায় ৫ লাখ বাংগালী বসবাস করেন; করোনায় বেশ পরিমাণ বাংগালী প্রাণ হারায়েছেন; শুরুতে বাংগালীরা করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর বিধ্বংসী ক্ষমতাকে অনুমান করতে ব্যর্থ হন। লকডাউনের ২ সপ্তাহ আগের থেকেই নিউইয়র্ক শহরে করোনার ভয়ংকর সংক্রমণ হয়েছিলো; এই সময়ে বাংগালীরা বাংগালী চা-দোকানগুলোতে, মসজিদে ও তথাকথিত মিটিং ও অনুষ্ঠানে আড্ডা দিয়েছেন; এতে বাংগালীদের মাঝে করোনা ছড়িয়ে পড়েছিলো। একই সাথে কম আয়ের কারণে বেশীরভাগ পরিবারগুলো সীমিত আয়তনের এপার্টমেন্ট ও ঘরে বেশী মানুষ বাস করেন, ইহাও সংক্রমণ বাড়িয়ে ষেয়। যাক, শেষের দেড়মাসে বাংগালীরা ভালো করেছেন, অনেক সতর্ক হয়েছেন।
বাংগালীরা অনেকই সিটিতে ও সিটির এসেনসিয়েল সার্ভিসে কাজ করছেন; আজকে তাদের সবাইকে কাজে যেতে হবে; এ ছাড়া বাংগালীদের একটা বড় অংশ ড্রাইভিংকে জীবিকা হিসেবে নিয়েছেন, এদের অনেকই হয়তো আজ থেকে কাজে যেতে পারেন। কিছু শিক্ষিত বাংগালী এই দেশের আসার পর, ট্রেনিং নিয়ে আইটি'তে চাকুরী পেয়েছেন, তাঁরা আরো বেশ কিছু সময় বাড়ী থেকে কাজ করতে পারবেন।
চলমান বিক্ষোভে আমেরিকার সবচেয়ে বড় মিছিলগুলো হয়েছে নিউইয়র্কে, এবং সেটা গতকালও ছিলো; এই বিক্ষোভে সংক্রমণ বেড়েছে। একটা শান্ত্বনার দিক হলো, এরা সবাই মোয়ামুটি কম বয়স্ক; শেষ ৩/৪ দিন অনেক বয়স্ক মানুষও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন; ফলে, হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক শহর ও রাজ্যের অর্থনীতি বেশ খারাপের দিকে চলে গেছে। নিউইয়র্ক শহরে করোনার ভয়ানক তান্ডবের জন্য নিউইয়র্কের গভর্ণরই দায়ী; মেয়র অবস্হা বুঝতে পেরে মার্চ মাসের ১ম দিন থেকেই লকডাউন করার পক্ষে ছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


