
বাংগালী শিক্ষিতদের গণতান্ত্রিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত: স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি জীবনে ১০/২০ নম্বরের প্রশ্নোত্তর লেখা অবধি হচ্ছে থিওরিটিক্যাল সঠিক জ্ঞান। অভিজ্ঞতা হিসেবে নিজ দেশের রাজনৈতিক দল, ভোট (জন প্রতিনিধি নির্বাচন), সরকার গঠন, সরকারের কার্যক্রম, পার্লামেন্টের আইন প্রনয়ন, নাগরিক অধিকার ও নাগরিক দায়িত্ব ইত্যদি কিন্তু ঠিক ও ভালো ডেমোক্রেটিক অভিজ্ঞতা নয়; বরং, এসব অনেক অভিজ্ঞতা অনেকটা গণতন্ত্র বিরোধী।
বাংগালীদেরকে ডেমোক্রেটিক প্রসেস বুঝার জন্য পশ্চিমের কোন একটা দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ডেমোক্রেটিক প্রসেস অনুসরণ করতে হবে, বুঝতে হবে। বাংলাদেশের ৩ কোটীরও বেশী মানুষ বিবিধ সময় আরব দেশ দেখেছেন, তাঁরা সেখানে দীর্ঘ সময় ছিলেন, দেখার সুযোগ পেয়েছেন; কিন্তু আরব দেশসমুহে সঠিক ডেমোক্রেটিক প্রসেস না থাকায়, তাঁরা সঠিক কোন প্রসেস দেখেননি; বরং, উল্টো অভিজ্ঞতা থাকতে পারে।
বাংগালীদের মাঝে যারা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও অষ্ট্রিলিয়ান ডেমোক্রেটিক প্রসেস দেখার সুযোগ পেয়েছেন, সেটা একটি ভালো অভিজ্ঞতা। জাপানও অনুসরণ করার মতো দেশ, কিন্তু তদের অনেক নিজস্ব ট্রেডিশন ইত্যাদি অন্যদের জন্য অনুধাবন করা কঠিন। দেশের শিক্ষিত বাংগালীদের উচিত বিদেশের কোন একটা ডেমোক্রেটিক দেশের পুরো প্রসেসটাকে অনুসরণ করা।
ভাষার দিক থেকে বাংগালীদের জন্য সহজ দেশ হলো ইংরেজী ভাষাভাষীর দেশগুলো: বৃটেন, কানাডা, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া। গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক সিষ্টেম ক্যাপিটেলিজম; কিন্তু ফ্রান্স, কানাডা, সুইডেন ইত্যাদির অর্থনৈতিক সিষ্টেমগুলো অপেক্ষাকৃতভাবে ভালো ক্যাপিটেলিজম; অর্থনীতি হচ্ছে রাজনীতির সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক।
বাংগালীদের জন্য আরেকটি ভালো উদাহরণ হচ্ছে ইসরায়েল; ইসরায়েল খুবই ডাইনামিক দেশ, ডেমোক্রেটিক প্রসেস ইউরোপ থেকেও প্রানবন্ত; আবার, ধর্মের দিক থেকে ইহুদীরা মুসলমানদের সবচেয়ে কাছাকাছি জাতি। আমাদের দেশের গণতন্ত্র বিকাশে ধর্মও বড় বাধা; কিন্তু ইসরায়েল খুবই ধর্মীয় দেশ হওয়ার পরও আধুনিক গণতন্ত্রের জন্য বেশ বিখ্যাত।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



