somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কলকাতার মেয়ে, যামিনী সুধা রায়

১১ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৮:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের অন্চলের একটা পরিবারের একাংশ কলকাতায় বাস করতো; এক বর্ষায়, তাঁদের কিশোরী মেয়ে কলকাতা থেকে নিজ গ্রামে আসার সময়, মাঝরাতে আমার সাথে দেখা হয়, মেয়েটাকে আমার কাছে রূপকথার মেয়েদের মতো মনে হয়েছিলো; এটা সেই কাহিনী:

আমি পড়ালেখা করতাম কাছারী ঘরে, এবং সেখানেই থাকতাম। বেশীরভাগ সময়, সন্ধ্যার খাবারের পর, ২/৪ মিনিট গড়িয়ে নেয়ার জন্য শুইলে আমি পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়তাম, রাত ১২/১টার দিকে উঠে ঘন্টাখানেক পড়তাম, সামনের রাস্তায়, মাঠে হাঁটতাম; তারপর আবার ঘুম। ৭ম শ্রেণীতে পড়ার সময়ের কথা, সেই বছর আযাঢ় মাসে আমাদের এলাকায় ঢল নামলো; বর্ষণ থামার পরের রাতে ক্বষ্ণপক্ষের চাঁদ উঠেছে মেঘের ফাঁকে; রাত ১২টার দিকে টর্চ নিয়ে হাঁটতে বের হলাম। আমাদের বাড়ীর সামনের রাস্তাটি মাঠের মাঝ বরাবর উত্তর দিকে গিয়ে, পুর্ব-পশ্চিমে যাওয়া বড় একটি রাস্তার সাথে মিলেছে; বড় রাস্তাটি সাগরের তীর থেকে ট্রেন ষ্টােশন অবধি গিয়েছে; দুই রাস্তার সংযোগ স্হলে, আমাদের রাস্তায় একটি বড় কালভার্ট আছে, অন্য রাতের মতো আমি সেই রাতেও লাকভার্টের উপর বসলাম।

সারা গ্রাম ঘুমে; হঠাৎ চোখে পড়লো, বড় রাস্তা ধরে কিছু মানুষ পশ্চিম দিকে (আমার দিকে) আসছে, অনেকগুলো হারিকেন, কয়েকটা টর্চ, কমপক্ষে ১০/১২জন হবে। আমি কালভার্ট ছেড়ে আমাদের রাস্তার একটা গছে নীচে চলে এলাম; এত রাতে কি বরযাত্রী যাচ্ছে? লোকগুলো এসে কালভার্টে থামলো, ৩টি পালকি! বিশ্রামের জন্য থেমেছে, মনে হয়।

আমি দেখতে গেলাম ব্যাপার কি! কাছে যেতেই কয়েকজন টর্চ ফেললো আমার উপর; একজন বললো,
-থাম, এদিকে আসিও না। এতরাতে কোথায় যাচ্ছ?
হারিকেনের আলোয় আমি একটি অপুর্ব সুন্দরী কিরোশীকে দেখলাম, পরনে শাড়ী, তার হাতে একটি পাতিল; সে হতবাক হয়ে আমাকে দেখছিলো; সে হাত নেড়ে আমাকে কাছে ডাকলো,
-এদিকে আস!
আমি তার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালাম, সে খুবই স্নিগ্ধ সুন্দরী কিশোরী; সে পাতিল থেকে কয়েকটা সন্দেশ আমার হাতে দিয়ে প্রশ্ন করলো,
-তুমি এত রাতে কোথায় যাচ্ছ?
-আমি হাঁটতে বের হয়েছি!
-তুমি একা একা ভয় পাও না?
-না
-তুমি স্কুলে যাও?
-যাই!
কোন ক্লাশে পড়?
-ক্লাশ সেভেনে!
-এত বড় ছেলে সেভেনে? আমি নাইনে পড়ি কলকাতায়। দাস গ্রামের প্রিয়ব্রত রায়ের নাম শুনেছ? উনি আমার বাবা। আমি আমার দাদাকে দেখতে এসেছি।

প্রিয়ব্রত বাবুদের বাড়ী আমাদের বাড়ী থেকে ৭/৮ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে, চরের কাছে; উনি কলকাতায় ব্যবসা করেন, ধনী লোক, মাঝে মাঝে দেশে আসেন; উনার বাবা দেশ ছাড়েননি। মেয়েটি বললো,
-আমার নাম, যামিনী সুধা রায়, আমি ২ সপ্তাহ থাকবো; তুমি আমাদের বাড়ী আসিও।

মেয়েটি আমাকে আরো কিছু শুকনো সন্দেশ দিতে চেষ্টা করলো, আমর দুই হাত ভরে গেছে; এবার কয়েকটা আমার শার্টের বুক-পকেটে দিয়ে দিলো। পাশে ২ জন মহিলা দাঁড়ি্যে ছিলেন, একজন বললেন,
-যামিনী, তুমি একি করছ?
-আমি তাকে খুশী করতে চাচ্ছি!

আমার কাছে মেয়েটাকে অদ্ভুত লাগছিলো; সে সারাক্ষণ হাসছিলো, সবাইকে সন্দেশ খেতে দিচ্ছিলো। তারা পুনরায় রওয়ানা দিলো; যামিনী পালকিতে উঠে, আমাকে লক্ষ্য করে বললো,
-তুমি আমাদের বাড়ী আসিও, আমি ২ সপ্তাহ থাকবো, অবশ্যই আসিও, আমি খুশী হবো।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৮:১১
২৩টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×