
আমাদের অন্চলের একটা পরিবারের একাংশ কলকাতায় বাস করতো; এক বর্ষায়, তাঁদের কিশোরী মেয়ে কলকাতা থেকে নিজ গ্রামে আসার সময়, মাঝরাতে আমার সাথে দেখা হয়, মেয়েটাকে আমার কাছে রূপকথার মেয়েদের মতো মনে হয়েছিলো; এটা সেই কাহিনী:
আমি পড়ালেখা করতাম কাছারী ঘরে, এবং সেখানেই থাকতাম। বেশীরভাগ সময়, সন্ধ্যার খাবারের পর, ২/৪ মিনিট গড়িয়ে নেয়ার জন্য শুইলে আমি পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়তাম, রাত ১২/১টার দিকে উঠে ঘন্টাখানেক পড়তাম, সামনের রাস্তায়, মাঠে হাঁটতাম; তারপর আবার ঘুম। ৭ম শ্রেণীতে পড়ার সময়ের কথা, সেই বছর আযাঢ় মাসে আমাদের এলাকায় ঢল নামলো; বর্ষণ থামার পরের রাতে ক্বষ্ণপক্ষের চাঁদ উঠেছে মেঘের ফাঁকে; রাত ১২টার দিকে টর্চ নিয়ে হাঁটতে বের হলাম। আমাদের বাড়ীর সামনের রাস্তাটি মাঠের মাঝ বরাবর উত্তর দিকে গিয়ে, পুর্ব-পশ্চিমে যাওয়া বড় একটি রাস্তার সাথে মিলেছে; বড় রাস্তাটি সাগরের তীর থেকে ট্রেন ষ্টােশন অবধি গিয়েছে; দুই রাস্তার সংযোগ স্হলে, আমাদের রাস্তায় একটি বড় কালভার্ট আছে, অন্য রাতের মতো আমি সেই রাতেও লাকভার্টের উপর বসলাম।
সারা গ্রাম ঘুমে; হঠাৎ চোখে পড়লো, বড় রাস্তা ধরে কিছু মানুষ পশ্চিম দিকে (আমার দিকে) আসছে, অনেকগুলো হারিকেন, কয়েকটা টর্চ, কমপক্ষে ১০/১২জন হবে। আমি কালভার্ট ছেড়ে আমাদের রাস্তার একটা গছে নীচে চলে এলাম; এত রাতে কি বরযাত্রী যাচ্ছে? লোকগুলো এসে কালভার্টে থামলো, ৩টি পালকি! বিশ্রামের জন্য থেমেছে, মনে হয়।
আমি দেখতে গেলাম ব্যাপার কি! কাছে যেতেই কয়েকজন টর্চ ফেললো আমার উপর; একজন বললো,
-থাম, এদিকে আসিও না। এতরাতে কোথায় যাচ্ছ?
হারিকেনের আলোয় আমি একটি অপুর্ব সুন্দরী কিরোশীকে দেখলাম, পরনে শাড়ী, তার হাতে একটি পাতিল; সে হতবাক হয়ে আমাকে দেখছিলো; সে হাত নেড়ে আমাকে কাছে ডাকলো,
-এদিকে আস!
আমি তার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালাম, সে খুবই স্নিগ্ধ সুন্দরী কিশোরী; সে পাতিল থেকে কয়েকটা সন্দেশ আমার হাতে দিয়ে প্রশ্ন করলো,
-তুমি এত রাতে কোথায় যাচ্ছ?
-আমি হাঁটতে বের হয়েছি!
-তুমি একা একা ভয় পাও না?
-না
-তুমি স্কুলে যাও?
-যাই!
কোন ক্লাশে পড়?
-ক্লাশ সেভেনে!
-এত বড় ছেলে সেভেনে? আমি নাইনে পড়ি কলকাতায়। দাস গ্রামের প্রিয়ব্রত রায়ের নাম শুনেছ? উনি আমার বাবা। আমি আমার দাদাকে দেখতে এসেছি।
প্রিয়ব্রত বাবুদের বাড়ী আমাদের বাড়ী থেকে ৭/৮ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে, চরের কাছে; উনি কলকাতায় ব্যবসা করেন, ধনী লোক, মাঝে মাঝে দেশে আসেন; উনার বাবা দেশ ছাড়েননি। মেয়েটি বললো,
-আমার নাম, যামিনী সুধা রায়, আমি ২ সপ্তাহ থাকবো; তুমি আমাদের বাড়ী আসিও।
মেয়েটি আমাকে আরো কিছু শুকনো সন্দেশ দিতে চেষ্টা করলো, আমর দুই হাত ভরে গেছে; এবার কয়েকটা আমার শার্টের বুক-পকেটে দিয়ে দিলো। পাশে ২ জন মহিলা দাঁড়ি্যে ছিলেন, একজন বললেন,
-যামিনী, তুমি একি করছ?
-আমি তাকে খুশী করতে চাচ্ছি!
আমার কাছে মেয়েটাকে অদ্ভুত লাগছিলো; সে সারাক্ষণ হাসছিলো, সবাইকে সন্দেশ খেতে দিচ্ছিলো। তারা পুনরায় রওয়ানা দিলো; যামিনী পালকিতে উঠে, আমাকে লক্ষ্য করে বললো,
-তুমি আমাদের বাড়ী আসিও, আমি ২ সপ্তাহ থাকবো, অবশ্যই আসিও, আমি খুশী হবো।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৮:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

