
ভারতের বর্ণ-প্রথার ভুক্তভোগীরা জানেন নিম্নবর্ণে জন্ম নেয়া কি ভয়ংকর; আজকের যুগে, বিবাহ বাড়িতে চেয়ারে বসে খাওয়ার জন্য প্রাণ হারাতে হয়েছে নিম্নবর্ণের একজন মানুষকে; মানুষটির অপরাধ, তিনি নিম্নবর্নে জন্ম নিয়েছিলন, ভিকটিমের পরিবার তাঁর মৃত্যুর কারণ হলো। বাংলাদেশের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে নির্যাতিত হলে, কেহ মাথা ঘামায় না; বিচার না পাওয়ার পেছনে "পরিবার"।
নারী নির্যাতন নিয়ে লেখা অনেক পোষ্টে, নির্যাতনকারীর পরিবার ও মাতাপিতাকে দোষ দেয়া হয়েছে; বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সমাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা মানুষকে পরিবারমুখী করে তুলেছে, সবাই নিজ পরিবারের আখের গুছানোর চেষ্টা করছেন: আমার ছেলেমেয়ে দুধেভাতে থাকুক, আমার ছেলেমেয়ে সবার থেকে ভালো পড়ালেখা করুক; পরিবারের প্রতি এত টান থাকার পর, পরিবারকে টিকিয়ে রাখার এত চেষ্টা, এত প্রচেষ্টা কি বলে যে, পরিবার চায়, পরিবারে একজন নির্যাতনকারী থাকুক; নির্যাতনকারী হয়ে, একদিন পরিনারের মুখে কালিমা লেপন করুক, এটা কি পরিবারের কাম্য?
কোন মা কি কোনদিন চেয়েছেন, তাঁর ছেলে ফাঁসীতে ঝুলুক? কোন মাতাপিতা চেয়েছেন যে, তাঁদের ছেলে নির্যাতনকারী হয়ে তাঁদের মাথা হেঁট করুক? কোন মাতাপিতা সেটা চাওয়ার কথা নয়।
ব্লগে, পোষ্ট ও মন্তব্য নিয়েও পরিবার ও পিতামাতাকে নিয়ে টানাটানি হয়েছে অতীতে, এখনো হয়। পরিবার ও মাতাপিতা তাঁদের সামর্থ অনুসারে পরিবারের সদস্যদের গড়ে তোলেন। যেহেতু মানুষের প্রথম পরিচয় ঘটে মায়ের সাথে, পিতার সাথে, পরিবারের সাথে, পরিবারের প্রভাব অবশ্যই আছে; কিন্তু মানুষের অপকর্ম পরিবারের শিক্ষা নয়, মাতাপিতার প্রভাব নয়।
বাংগালীরা শ্রেণীতে বিশ্বাসী জাতি; শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে সুযোগের সঠিক, কিংবা বেঠিক ব্যবহারের ফলে; সবাই উঁচু শ্রেণীতে অবস্হান করতে চান, সবাই নীচু শ্রেনীর উপর দোষ চাপাতে চান। অর্থ, সম্পদ, প্রতপত্তি শ্রেণীর মুলধন; অপর দিকে, শিক্ষা হলো শ্রেণী বিলুপ্তির নিয়ামক।
ব্লগে, পোষ্ট ও কমেন্ট দেখা যায়, মানুষের কৃতকর্মের জন্য তাঁর পরিবার ও মাতাপিতাকে দায়ী করা হচ্ছে, এটা শ্রেণী মনোভাবের পরিচয় মাত্র, এবং ইহা পরিবার সম্পর্কে ভুল ধারণা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


