
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, দেশের সরকার, প্রশাসন (ব্যুরোক্রেটরা), গ্রামীন সরকার (চেয়ারম্যান, মেম্বার, সার্কেল অফিসার), ইউনিভার্সিটির শিক্ষকেরা সবাই একটা বিষয়ে একমত ছিলো যে, আমরা বিদেশী "রিলিফ" না পেলে, না খেয়ে মারা যাবো। মাত্র সাড়ে ৭ কোটি মানুষ, এত উর্বর জমি, পুর্বদিকে পাহাড়, দক্ষিণে সাগর, মাঠে মাছ, বৃষ্টির পানি, সস্তা জীবন, এতগুলো হাত, এতগুলো মাথা; তারপরও সবাই ধরে নিয়েছিলো যে, আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান যদি সাহায্য না করে, আমরা বাঁচবো না।
রিলিফ আসার শুরু করলো, কম্বল, বোম্বল, দুধ, মুত, চাল, ডাল, পুরাতন কাপড়, ডলার, গম, ঘি, কাপড়, টিন, সিমেন্ট, জুতা, সবই আসার শুরু করলো। রিলিফ আসছে, মানুষকে দিচ্ছে, চুরি হচ্ছে, ঢাকায় বাড়ী উঠছে, যারা রিকসায় চড়তো তারা পুরাণ গাড়ী কিনছে। গ্রামের মানুষ ১ সের চালের জন্য সারাদিন ইউনিয়ন কাউন্সিলের সামনে বসে আছে, কাজ কর্মের খবর নেই, নিজের গরু-ছাগল দেখারও সময় নেই, সারদিনের শেষে ২ সের গম।
১৯৭৩ সালে কানাডায় কমনওয়েলথ'এর বৈঠক হচ্ছে, রাণীর দেশের সরকারের লোকেরা অটোয়ায় এসেছে; সবার সুখ দু:খের কাহিনী শোনা হবে; আমাদের শেখ সাহেবও গেছেন; অটোয়া এয়ারপোর্টের সাথে লাগানো এক হোটেলে সন্মেলন। সেখানে সিংগাপুরের লি কুয়ানও এসেছেন; লি কুয়ানকে ইউরোপের সবাই খুবই বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে চিনতেন। সেই লি কুয়ান এই সন্মেলনের ১ম দিন শেখ সাহবেকে দেখে অভিভুত হয়ে গেলেন, এত বড় বাংগালী! এই লোকের দেশের মানুষেরা যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে, পাকিস্তানকে হারায়ে দিয়েছে, এরা নিশ্চয় খুবই শক্তিশালী জাতি।
সন্মেলনের ৩য় দিন, শেখ সাহেব নিজ বক্তৃতায় সারা বিশ্বের কাছে বাংগালী জাতির জন্য সাহায্য চাইলেন; লি কুয়ান হতবাক! এত বড় বাংগালী সাহায্য কেন চায়, ইহা কি কোন কাজ জানে না, মানুষকে কাজে লাগাতে পারে না, এই লোক কি ভিক্ষা করে জাতিকে পালন করতে চায়? লি কুয়ান খুবই হতাশ হয়ে গেলেন শেখ সাহেবের উপর।
জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ ও বেগম জিয়াকে তৈরি করার সময় আল্লাহ এদের হাতে ভিক্ষার থালি ধরায়ে দিয়েছিলেন; মায়ের পেট থেকে দুনিয়ায় আসার সময় থালি হাতে এসেছিলেন।
এখন আপনারা শেখ হাসিনাকে দেখছেন; এমন এক অর্থনীতি করেছেন, বাংগালীরা আমেরিকা, কানাডা, সৌদীতে বসে বাংগালী মেয়ে বিয়ে করছেন টেলিফোনে! ঘরে কাযী এসে বিয়ে পড়ায়ে যাচ্ছে, বিয়ের শেষে নববধু বাপের ঘরে, গতকালের বিছানায় একা ঘুমাতে যাচ্ছে; তারপর বছরের পর বছর টেলিফোনে স্বামীর সাথে কথা বলছে, টেলিফোন-স্বামী; এইজন্য অনেক হিন্দু মেয়ে গাছকে বিয়ে করে, মনে হয়।
আমাদের পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল বানাচ্ছে চীন, ইতালী, থাইল্যান্ড; বাংগালীরা বসে সামুতে ও ফেইসবুকে কবিতা লেখেন, হাদিস ব্যাখ্যা করেন, টিউশানী করেন।
এগুলোর অবসান না'হলে, বাংগালীরা আজীবন ৩য় বিশ্বে পড়ে থাকবে; দেশের পুরুষেরা থাকবে আরবের মরুভুতিতে, বউয়েরা জানালার পাশে শুয়ে চাঁদ দেখবেন ও তারা গুনবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



