
আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ, কোন জাতির একজন নাগরিকও 'বিনামুল্যে' টিকা পাচ্ছে না; কারণ, ফাইজার, মডের্না, এস্ট্রোজেনিকা বিনামুল্যে টিকা দিচ্ছে না; তবে, সব জাতিই তাদের সরকারী তহবিল থেকে টাকা ব্যয় করার কথা; এই মহামারীর মাঝে, কোন দেশের সরকারের উচিত নয়, নাগরিকদের থেকে এই টিকার মুল্য হিসেবে নতুন করে টাকা আদায় করা।
বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ, মানসিকভাবে সরকারী তহবিলের টাকাকে জাতির টাকা হিসেবে নেন না; তারা মনে করে যে, সরকার নিজ টাকায় পদ্মা বানাচ্ছে, খরচ যদি বেড়ে যায়, সরকারী টাকা যাচ্ছে, আমার তাতে কি, কম টাকায় হোক, কিংবা বেশী টাকায় হোক, আমি তো ব্রীজের উপর দিয়ে যাবার সুযোগ পাচ্ছি, সরকার না বানালে আমি কি করতে পারতাম!
ফাইজার প্রতি ডোজ ২০ ডলার করে নিতে পারে, মডের্না ২৭ ডলার থেকে ৩২ ডলার অবধি নিতে পারে, এস্ট্রোজেনিকা ৪ ডলার নেবে। বাংলাদেশ সরকার এখনো মানুষকে আসলে কিছুই জানায়নি: কার থেকে তারা টিকা কিনবে, মুল্য কি সরকারী ত হবিল থেকে পরিশোধ করা হবে, নাকি মানুষকে নিজের পকেটের পয়সা দিযে কিনতে হবে!
যেহেতু, ইহা মহামারী, টিকা যদি সবাই না পায়, মহামারী নির্মুল হবে না; টাকার অভাবে কেহ না নিলে, বা কেহ টিকার জন্য পকেটের টাকা খরচ না করলে, তখন সরকার কি করবে? যদি শতকরা ৩০ ভাগ মানুষ টিকা না নেয়, এবং মাস্ক না পরে, মহামারী নির্মুল করা সম্ভব হবে না! তখন কি সরকার অভাবী লোকজনের কারণে দেশে মহামারী পালন করতে থাকবে?
যেসব দেশে মানুষের হেলথ ইন্স্যুরেন্চ নেই, সেইসব দেশে টিকার বিল সরকারী তহবিল থেকেই দিতে হবে; যেসব দেশে মানুষের হেলথ ইন্স্যুরেন্স আছে, তারা স্বাস্হ্য সম্পর্কিত সবকিছুর জন্য প্রতিমাসেই টাকা দিয়ে যাচ্ছেন; কেহ ফ্রি'তে টিকা পাচ্ছে না; বাংগালীরাও টিকা ফ্রি পাবেন না, তাঁদের টাকাই সরকার ব্যয় করবে মাত্র; কিন্তু অশিক্ষার জন্য তাদের অনেকেরই ধারণা হতে পারে, সরকার টাকা দিচ্ছে, নাগরিকেরা ফ্রি পাচ্ছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


